বাঘার ভাঙা রাস্তায় চলাচলে দুর্ভোগ

  আমানুল হক আমান, বাঘা

০৭ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর বাঘায় ভাঙা রাস্তায় চলাচলকারী মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সেই গর্তে জমে আছে ময়লাপানি। কোথাও কাদা। ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আবর্জনা। ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। এই ভোগান্তির মধ্যে চলাচল করছেন পথচারীরা।

বাঘা-আড়ানী সড়কের নতুনপাড়া, তেঁথুলিয়ার মাউদপাড়া, আড়ানী সিএনজি মোড় নামকস্থানে সড়কের বেহালদশা। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এই সড়ক দিয়ে বাঘা, চারঘাট, পুঠিয়া, বাগাতিপাড়ার মানুষ চলাচল করে। ফলে গর্তের কারণে মাঝেমধ্যে যানজটের সৃষ্টি হয়। চার উপজেলার মানুষ ও সব ধরনের যানবাহন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। ফলে চলাচলে অনুপযোগী রাস্তা খানাখন্দে ভরা থাকায় দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। সড়ক সঠিকভাবে সংস্কার না করায় ও অতিবৃষ্টির কারণে প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র বাঘা ও আড়ানী বাজারের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কেনাবেচায় প্রভাব পড়ছে।

এ ছাড়া বাঘা রহমতুল্লাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে কাদাপানিতে মাখামাখি। রাস্তায় ইট-পাথর নেই বললেই চলে। আর কিছু অংশে বড় গর্তে পানি জমে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এর মধ্য ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যাত্রীবাহী বাস, লেগুনা, মালবাহী ট্রাক।

পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার চৌরাস্তার মোড় থেকে সড়কঘাট মোড় পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কের অবস্থা ভালো নয়। এই সড়ক মাস কয়েক আগে ড্রেন নির্মাণসহ সংস্কার করা হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই জলমগ্ন হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়।

উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে বাঘা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের সড়কটির একই অবস্থা। ফলে দুর্ভোগে পড়েন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও চলাচলকারী মানুষ। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এই রাস্তার কাদাপানি মাড়িয়ে পার হতে গিয়ে বেশিরভাগ সময় শিশু শিক্ষার্থীরা পড়ে গিয়ে জামাকাপড় ও বইপত্র ভিজে যায়। এমনকি কাদাপানির মধ্যে পড়ে অনেকে ক্লাসে উপস্থিত না হয়ে বাড়িতে ফিরে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঘা প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও বেশিরভাগ রাস্তা খানাখন্দ ও কাদাপানিতে ভরা। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় অধিকাংশ জায়গায় পানি জমে রাস্তাঘাট নষ্ট হচ্ছে।

শীত মৌসুমে এসব সড়ক পরিণত হয় ধুলোর রাজ্যে। আর বর্ষাকালে থাকে কাদাপানিতে একাকার। গর্তে আটকে অনেক সময় রিকশাও উল্টে যায়। রিকশা থেকে পড়ে অনেক যাত্রীর হাত-পা ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পৌরসভার দায়িত্বহীনতা ও সঠিক তদারকির অভাবে নকশাবহির্ভূতভাবে কাজ করার কারণে রাস্তার বেহালদশা।

বাঘা উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মহিদুল ইসলাম বলেন, অঘোষিত পর্যটনকেন্দ্র প্রকৃতিকন্যা বাঘা। প্রায় দিনই দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখর থাকে বাঘা শাহী মসজিদ, দিঘি ও মাজার এলাকা।

হালকা বৃষ্টিতে পানি জমে পুরো রাস্তায় কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়। এ ছাড়া বাঘার বাজার থেকে শাহী মসজিদ, মাজারে বর্তমানে যেতে হচ্ছে কাদাপানি মাড়িয়ে। এই সড়ক দিয়ে যানবাহন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ চলাফেরা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ফলে ক্রমেই পর্যটকরা বিমুখ হয়ে পড়ছেন। বাঘা মসজিদ দর্শনে আসা লালপুর বিএম কলেজের অধ্যক্ষ ইমাম হাসান মুক্তি বলেন, এত সুন্দর একটা পর্যটন স্পটের রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা দেখে ভ্রমণের আনন্দই মাটি হয়ে গেল।

বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমান মেয়র পৌরসভার উন্নয়নে অনেক কাজ করছেন। ইতোমধ্যে অনেক রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে। এখানো অনেক রাস্তার কাজ চলছে। সড়কের দুপাশের সরু নালা দিয়ে পানি সরতে দেরি হওয়ার কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে সড়কঘাট পর্যন্ত নতুন ড্রেনও নির্মাণ করা হয়েছে।

বাঘা পৌর মেয়র আক্কাছ আলী বলেন, আগামী বর্ষায় এলাকায় আর জলাবদ্ধতা থাকবে না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে