এক শিশুর মৃত্যুকে পুঁজি করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা

  ফরিদপুর প্রতিনিধি

০৭ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের ধর্মদী গ্রামে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গ্রামের প্রভাবশালী একটি মহল অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মহলটি পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনাকে পুঁজি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ধর্মদী গ্রামের মানিক চন্দ্র শীলের ৮ বছর বয়সী শিশুপুত্র বাপ্পী তার বন্ধুদের সঙ্গে গত ২৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয় কুমার নদে গোসল করতে যায়। সাঁতার না জানায় গোসলের একপর্যায়ে সে পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয় এলাকাবাসী নদের কিছুটা দূরে বাপ্পীর লাশটি খুঁজে পায়। লাশটি তার পরিবারের সদস্যরা মাটিচাপা দিতে গেলে বাধা দেয় স্থানীয় প্রভাবশালী একটি পরিবার। তারা শিশুর দরিদ্র পিতাকে জানায়, বাপ্পীকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের কথায় বিশ্বাস না করায় বাপ্পীর লাশ মাটিচাপা দিতে দেওয়া হয়নি। তারা পুলিশকে খবর দিয়ে বাপ্পীর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপু মেডিক্যালের মর্গে পাঠায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী পরিবারটি শিশুর মৃত্যুকে পুঁজি করে তাদের প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নানা অপতৎপরতা চালাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রভাবশালী পরিবারটির সঙ্গে গ্রামের একটি পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। প্রতিপক্ষেকে ফাঁসাতেই মৃত শিশুটিকে পুঁজি করে অপতৎপরতা চলছে।

শিশু বাপ্পীর স্বজনরা জানান, বাপ্পী তার বন্ধুদের সঙ্গে নদে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যায়। এ নিয়ে পরিবারের স্বজনদের কোনো অভিযোগ না থাকলেও লাশটি মাটিচাপা দিতে বাধা প্রদান করা হয়। বাপ্পীর বাবা মানিক চন্দ্র শীল জানান, তিনি বাজারের সেলুনে কাজ করছিলেন। সেখান থেকেই জানতে পারেন বাপ্পী গোসল করতে গিয়ে কুমার নদে ডুবে গেছে। তিনি আরও জানান, তার ছেলে পানিতে ডুবে মারা গেছে। এ নিয়ে তিনি কাউকে সন্দেহ করেন না। চরযশোরদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যার আরিফুজ্জামান পথিক বলেন, ঘটনার পর তিনি কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জেনেছেন, শিশুটি পানিতে ডুবে মারা গেছে। পরে লাশ মাটিচাপা দিতে বলেছিলেন তিনি। কিন্তু এলাকার কারা যেন পুলিশকে খবর দিয়ে লাশটি নিয়ে যায়। এখন শুনছি, এলাকার একটি পক্ষ শিশুটির মৃত্যুকে পুঁজি করে গ্রামের কয়েকজনকে ফাঁসাতে চেষ্টা করছে। এটা কোনোমতেই মেনে নেওয়া যায় না।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম নাসিম বলেন, শিশুটির মৃত্যু কীভাবে হয়েছে তা পোস্টমর্টেমের রিপোর্ট পাওয়ার পরই জানা যাবে। এ নিয়ে এলাকায় নানামুখী অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে শুনেছি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে