নাগেশ্বরীর স্বাস্থ্যসেবা বেহাল

দেড় যুগ ধরে চিকিৎসক নেই রায়গঞ্জ পল্লী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে

  মোল্লা হারুন উর রশীদ, কুড়িগ্রাম

০৭ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চিকিৎসক নেই দেড় যুগ। অন্তর্বিভাগ বন্ধ। বহির্বিভাগে কাজ করেন মাত্র দুজন। একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার, অপরজন ফার্মাসিস্ট। সে কারণে বন্ধ রয়েছে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ১০ শয্যার রায়গঞ্জ পল্লী স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এলাকাজুড়েই রয়েছে মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের আড্ডা। ফলে এ উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা এখন বেহাল।

১৯৬২ সালে সরকারি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপিত হয়। ৯ দশমিক ৪৮ একর জমিতে স্থাপিত এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের রয়েছে দুইতলা মূল ভবন ও তিনটি ডক্টরস কোয়ার্টার। এ ছাড়া রয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মচারীর দুটি, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের তিনটি ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের কোয়ার্টার। আশির দশক পর্যন্ত জেলার ধরলা উত্তরের নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী ও ফুলবাড়ী তিন উপজেলাবাসীর চিকিৎসার একমাত্র ভরসা ছিল এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। পরবর্তীতে সরকার প্রতি উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গড়ে তোলে। ফলে এই কেন্দ্রে রোগীর ভিড় কমে গেলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলার ১৫ ইউনিয়নবাসীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত হয়নি। তাই ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত রায়গঞ্জ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অন্তর্বিভাগ ও বহির্বিভাগ চালু রাখা হয়। তখন কর্মরত ছিলেন দুইজন মেডিক্যাল অফিসার, চারজন সিনিয়র স্টাফ নার্স, চারজন সহাকারী নার্স, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন প্যাথলজিস্ট, দুইজন ওয়ার্ডবয়, চারজন এমএলএসএস, একজন কুক, একজন মশালচি ও দুইজন সুইপার কর্মরত ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে ১৯৯৮ সালে অন্তর্বিভাগ বন্ধ করে দিলেও মঞ্জুরিকৃত পদ বিলুপ্ত হয়নি আজও। আর পদ থাকলেও দেড়যুগ ধরে এখানে চিকিৎসক নেই। সিনিয়র নার্স দুইজনের একজন কুড়িগ্রামে ও অন্যজন ভুরুঙ্গামারীতে, ওয়ার্ডবয় দুইজনের একজন কুড়িগ্রামে ও অন্যজন নাগেশ্বরীতে, এমএলএসএস চারজনের দুইজন নাগেশ্বরীতে, একজন ফুলবাড়ীতে এবং একজন মশালচি কুড়িগ্রামে ও সুইপার দুইজনের একজন কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ও একজন ফার্মাসিস্ট দিয়ে চলছে বহির্বিভাগ।

এই পল্লী স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিশাল এলাকা এক সময় প্রাচীরে সুরক্ষিত থাকলেও বর্তমানে অরিক্ষত। নিরাপত্তা প্রহরী নেই। চুরি হচ্ছে মূল্যবান সরঞ্জাম। স্থানীয় মফিজুল ইসলাম বলেন, এখানে আসাটাই দায়। সব সময় জুয়া খেলা চলছে। আর মাদকসেবীদের আড্ডাতো আছেই। জিনিসপাতি চুরি হচ্ছে। দেখার কেউ নেই। উমাচরণ বলেন, সরকার স্বাস্থ্যখাতকে গুরুত্ব দিচ্ছে। অথচ এখানে কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। এর জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা আছে। ভবনগুলো সংস্কার হয় না দীর্ঘদিন। পলেস্তরা খুলে পড়ছে মূল ভবনের। ঝড় বৃষ্টির সময় আগত রোগীরা দৌড়ে পালায়। কর্মরতরাও ভয়ে ভয়ে কাজ করেন। ডক্টরস ও কর্মচারীদের কোয়ার্টার তালাবদ্ধ দীর্ঘদিন। ভিতরের কী অবস্থা তা কেউ বলতে পারেন না। উপ-সহকারী মেডিক্যাল কমিউনিটি অফিসার গৌতম চন্দ্র গোস্বামী বলেন, এখানে জরুরি বিভাগ চালু করা দরকার। বহির্বিভাগে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী আসে। ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য ঝড় এলে সবাই দৌড়ে পালায়। ভয়ে আমরাও পালাই অনেক সময়। নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জিআরএম মোকছেদুর রহমান বলেন, এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির এখনো প্রয়োজন। বৃহৎ উপজেলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশাপাশি ওই কমপ্লেক্সটি থাকলে জনগণ উপকৃত হবে। তবে ওই স্থানে সরকার উন্নত কোনো প্রতিষ্ঠান করার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে