আমন ক্ষেতে পোকা দমনে পাচিং

  হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী

০৭ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বরগুনার আমতলীতে কৃষকের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আমন ক্ষেতের পোকা দমনের পাচিং পদ্ধতির ব্যবহার। জমিতে সার দেওয়ার পর থেকেই আমন ক্ষেতে ক্ষতিকর ঘাসফড়িং, পাতা মোড়ানো পোকা, চুঙ্গি ও মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। এসব পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকরা প্রাকৃতিক, সহজ, কৃষি ও পরিবেশবান্ধব ডেড এবং জীবন্ত পাচিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে কমেছে কীটনাশকের ব্যবহার।

আমতলী কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সাত ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় এ বছর আমনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩ হাজার ৫০০ হেক্টর। ধান উৎপাদনের প্রধান অন্তরায় ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ। ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ থেকে রোপা আমনের ক্ষেত রক্ষায় পাচিং পদ্ধতি একটি কৃষিবান্ধব প্রযুক্তি। এসব প্রযুক্তি প্রয়োগে ধানক্ষেতে বালাইনাশক দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। একরপ্রতি ৮-১০টি বাঁশের কঞ্চি ও বিভিন্ন গাছের ডাল পুঁতে দিতে হয়। এ পাচিংয়ের (খুঁটি) ওপর বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বসে ক্ষতিকারক পোকা খেয়ে ফেলে। এতে জমিতে কীটনাশক খরচ কম ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাচ্ছে। ফলে কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হন।

গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ক্ষেতের মধ্যে বাঁশের কঞ্চি ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছের ডাল পোঁতা রয়েছে। ওই পাচিং (খুঁটিতে) ফিঙ্গে, শালিক, দোয়েলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বসে আছে। সুযোগ বুঝে ধানক্ষেতে থাকা ক্ষতিকর পোকা খেয়ে ফেলছে পাখিরা।

আমতলী উপজেলার ঘটখালী গ্রামের সোবাহান মোল্লা বলেন, দুই একর আমনের ক্ষেতে পাচিং পদ্ধতির প্রযুক্তি ব্যবহার করেছি। এতে আমার কোনো খরচ নেই। বাড়ির গাছ থেকে ২০টি ডাল কেটে ক্ষেতে পুঁতে দিয়েছি। ওই ডালে বসা পাখিরাই ক্ষেতের ক্ষতিকারক পোকা খেয়ে ফেলছে। তিনি আরও বলেন, এতে যেমন আর্থিক উপকার হচ্ছে, তেমনি পরিবেশের সুরক্ষা পাচ্ছে।

আমতলীর উপসহকারী কৃষি অফিসার মো. ইমরান হোসেন বলেন, পাচিং পদ্ধতি কৃষকের কৃষি ও পরিবেশবান্ধব একটি পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে আমনের ক্ষেতে কোনো কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। উপজেলার সব কৃষকের মাঝে এ পদ্ধতি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আমতলী কৃষি অফিসার এসএম বদরুল আলম বলেন, উপজেলার সব কৃষককে পাচিং পদ্ধতির আওতায় আনার জন্য কাজ করছি। এ পদ্ধতিটি কৃষি ও পরিবেশবান্ধব। কৃষকরা কোনো খরচ ছাড়াই এ পদ্ধতিতে পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা করতে পারেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আমতলী উপজেলায় ৬০ ভাগ কৃষক এ পদ্ধতি ব্যবহার করে সুফল পাচ্ছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে