শ্যালিকা-দুলাভাইকে মারধরের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল

  লক্ষ্মীপুর ও কমলনগর প্রতিনিধি

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০০:৪৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর মার্টিন ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত এক সালিশ বৈঠকে ওই ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ইউছুফ আলী ওরফে মিয়া ভাই কর্তৃক লাঠি দিয়ে মো. আবদুল আলী ওরফে কালু নামে এক যুবক ও তার শ্যালিকাকে বেদম মারধরের একটি ভিডিওচিত্র দুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। শ্যালিকাকে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে ওই সালিশ ডাকা হয়েছিল। চেয়ারম্যান ও তার এক সহযোগীর মারধরের সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি তার মোবাইল ফোনে প্রায় দুই মিনিটের এ ভিডিওচিত্র ধারণ করেন। নির্যাতনের প্রায় দেড় মাস পর ভিডিওটি প্রকাশ হলে ২ দিন আগে ফেসবুকে স্থানীয়ভাবে ভাইরাল হয়। এখন এটি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।

মারধরের ঘটনাটি ঘটেছে গত ৩১ ডিসেম্বর। ভিডিওতে দেখা যায়, মারধর থেকে রক্ষা পেতে কালু ও তার শ্যালিকা আকুতি জানাচ্ছেন; কিন্তু চেয়ারম্যান ও তার সহযোগী তাতে কর্ণপাত করছেন না। এক পর্যায়ে শ্যালিকাকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগে কালুকে (৩২) পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বাড়ির উঠানে সালিশ-বৈঠক চলছে। সেখানে কয়েকটি কাঠের চেয়ারে ইউপি চেয়ারম্যানসহ কয়েক ব্যক্তি বসে আছেন। এক পর্যায়ে উঠে গিয়ে চেয়ারম্যান লাঠি দিয়ে কালুকে বেদম পেটাচ্ছেন। কালু মাটিতে পড়ে গেলে তাকে এলোপাতাড়ি লাথি মারছেন চেয়ারম্যান। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ১৩-১৪ বছরের কিশোরীকেও একইভাবে লাঠি দিয়ে মারধর ও লাথি মারছেন চেয়ারম্যান। চেয়ারম্যান মারধর করার আগেও বৈঠকে উপস্থিত আরও এক ব্যক্তি কালুকে লাঠি দিয়ে পেটানোর দৃশ্যও দেখা যায় ভিডিওতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘরজামাই কালু তার স্ত্রীর ছোট বোনকে (শ্যালিকা) নিয়ে চট্টগ্রাম পালিয়ে যান। পরে পরিবারের লোকজন তাদের সেখান থেকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। এ নিয়ে ৩১ ডিসেম্বর সালিশ-বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে চেয়ারম্যান ও তার এক অনুসারী শ্যালিকা ও দুলাভাইকে পিটিয়ে আহত করে। পরে কালুকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

চরমার্টিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইউছুফ আলী বলেন, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে ফেলে মাদকসেবী ঘরজামাই শ্যালিকাকে নিয়ে পালিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সে আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। এ কারণে তাকে এক-দুটি চড়থাপ্পড় দিয়েছি। হাজিরহাট তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হুমায়ুন ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (এসআই) মো. রেজাউল জানান, ভগ্নিপতি কৌশলে শ্যালিকাকে অপহরণ করে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় কমলনগর থানায় মামলা করেছেন কিশোরীর বাবা। পরে ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। চেয়ারম্যান তাদের নির্যাতন করেছে বলে কেউ অভিযোগ করেনি।

কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রাজু বলেন, ঘটনাটি কয়েকজন আমাকে জানিয়েছে। সালিশ-বৈঠকে কারো গায়ে হাত তোলার নিয়ম নেই।

কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকুল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি তার নজরে আসেনি। এ বিষয়ে অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে