শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

সাইক্লোন শেল্টারের ২ কক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

  কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি

১৯ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার আল মোবারক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য নিজস্ব কোনো ভবন না থাকায় পার্শ^বর্তী সাইক্লোন শেল্টারের ২টি কক্ষে চলছে আড়াইশ শিক্ষার্থীর পাঠদান। পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাব ও শ্রেণিকক্ষবিহীন এ বিদ্যালয়ের বেহাল অবস্থা দেখে স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন। ভবন না থাকায় চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। পড়ালেখার উপযুক্ত পরিবেশ না পেয়ে দিন দিন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। অপরদিকে আশপাশে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার আলো থেকে।

সরেজমিন উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে আল মোবারক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা গেছে, ১৯৭২ সালে মনোরম ও কোলাহলমুক্ত পরিবেশে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এরশাদ সরকারের আমলে একটি টিনশেড ভবন তৈরি করা হয়। শিক্ষা কার্যক্রমও চলছিল বেশ ভালোভাবে। সে সময় এ বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ছিল সাড়ে ৩শ। ২০০৯ সালে রাজনৈতিক একটি পক্ষ তদবির করে টিনশেড ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ দেখিয়ে নিলামে তুলে ভেঙে ফেলে। কিন্তু ভবনটি ভেঙে ফেললেও নতুন করে কোনো ভবন তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করা হয়নি এবং অদ্যাবধি কোনো ভবন নির্মাণ হয়নি।

এদিকে ভবন না থাকায় বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছে ১৯৯৫ সালে নির্মিত পার্শ^বর্তী একটি সাইক্লোন শেল্টারে। এ সাইক্লোন শেল্টারেও আছে মাত্র ৩টি কক্ষ। এর মধ্য থেকে একটি কক্ষ ব্যবহৃত হচ্ছে অফিসের জন্য। অবশিষ্ট ২টি কক্ষে চলছে ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান। ছাত্রছাত্রীদের বসার স্থান সংকুলান না হওয়ায় উপায়ান্তর না দেখে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি মোয়াররেফ হোসেন নিজ খরচে সাইক্লোন শেল্টারের নিচ তলায় একটি কক্ষ তৈরি করে সেখানে পাঠদানের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু সেটিও প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত ছিল না। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যদের কাছ থেকে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রায় ৮০ শতক সম্পত্তি উন্মুক্ত পড়ে থাকলেও সেখানে কোনো ভবন নেই। ভবন নির্মাণে কর্তৃপক্ষও নীরব ভূমিকা পালন করছে। অন্যদিকে ছাত্রছাত্রীদের খেলাধুলার মাঠটিও পানির নিচে তলিয়ে থাকে সারা বছর। ভবন নির্মাণ দূরের কথা মাঠ সংস্কারেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজিজুল হক জানান, একটি বিদ্যালয়ের জন্য ন্যূনতম ৫টি শ্রেণিকক্ষ প্রয়োজন। কিন্তু এখানে তা নেই। ছাত্রছাত্রীর জায়গা হয় না। যে কারণে ভালোভাবে পাঠদান দেওয়া যাচ্ছে না।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আরিফুল হক জানান, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আমরা উপজেলা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে অনেক চেষ্টা তদবির করেছি। কিন্তু সফল হইনি। জরুরি ভিত্তিতে এখানে একটি ভবন নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইলিয়াছ জানান, সরকারিভাবে সব বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণ হবে। তবে সেটি পর্যায়ক্রমে। এ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জামিরুল ইসলাম জানান, সরেজমিন পরিদর্শন করে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে