১০ মাসে বাস্তবায়ন ৫২ ভাগ

  আবু আলী

০৫ জুন ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বাজেট বাস্তবায়িত হয়েছে মাত্র ৫২ শতাংশ। আর বাকি ২ মাসে ৪৮ শতাংশ বাজেট বাস্তবায়ন করবে। চলতি অর্থবছরে বাজেট বাস্তবায়নের ধীর গতির কারণে ইতোমধ্যে বাজেট সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছেন মুহিত। এভাবে কোনো বছরই বাজেট বাস্তবায়ন হচ্ছে না। গত কয়েক বছর ধরে বাজেট বাস্তবায়নের হার কমছে।

জানা গেছে, চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মূল বাজেটের আকার ছিল ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। সেখান থেকে সংশোধিত বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাক। অর্থাৎ বাজেটের আকার কমানো হয়েছে ২৩ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা, যা শতাংশের হিসাবে ৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ। শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত হিসাবে সংশোধিত বাজেটও বাস্তবায়ন হয় না। এদিকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আয় বা ব্যয়ের নজিরও রয়েছে। যেমন সঞ্চয়পত্রে এই অবস্থা হয়েছে। চলতি বাজেটে ১৯ হাজার কোটি টাকা সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে গত এপ্রিল পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে ৪২ হাজার কোটি টাকা।

অন্যদিকে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে ২৪ হাজার ২৫২ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এ লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ২ লাখ ১৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা শতাংশের হিসেবে কমানো হয়েছে ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ১ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে ১৮ হাজার ১৫২ কোটি টাকা, যা শতাংশের হিসেবে ৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ। অনুন্নয়ন ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে ২২ হাজার ৮২২ কোটি টাকা। জিডিপির আকার কমানো হয়েছে ৪ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে জিডিপির আকার ধরা হয়েছিল ১৯ লাখ ৬১ হাজার ১৭ কোটি টাকা, সংশোধিত বাজেটে তা ১৯ লাখ ৫৬ হাজার ৫৫ কোটি টাকা করা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রশাসনিক অদক্ষতা ও দুর্নীতির কারণে একদিকে যেমন রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয় না। এ ছাড়া প্রশাসনের সামর্থ্য ও দক্ষতার অভাবে অপূর্ণাঙ্গ থেকে যায় সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা। আবার উন্নয়ন ব্যয় কমলেও অনেক ক্ষেত্রেই বেড়ে যায় অনুন্নয়ন ব্যয়।

তবে বাজেট নিয়ে খুশি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, বাজেট ৯১ হাজার কোটি টাকা থেকে ৩ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এ ছাড়া বাজেটের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন অবান্তর। আমরা চাই পারফরম্যান্স ভালো হোক। তাহলে কীভাবে বলব অদক্ষতা। এটি প্রশংসার বাজেট। সংবাদমাধ্যমেরও প্রশংসা করা উচিত।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামালউদ্দিন আহমেদ আমাদের সময়কে বলেন, বছরের শুরু থেকেই বাস্তবায়নে নজর দেওয়া উচিত। কিন্তু দেখা যায় ৯ মাস পর থেকে বাজেট বাস্তবায়নে নজর বেশি দেয় সরকার। এ জন্য বছরের শুরু থেকে মনিটরিং করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মাদ আবদুল মজিদ বলেন, আমাদের বাজেটের আকার বাড়ছে কিন্তু বাস্তবায়নের কোনো পরিকল্পনা নেই। এ জন্য বছর শেষে তা বাস্তবায়ন হয় না। এ জন্য দক্ষতা বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বিশাল বাজেট দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা। আর এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে মূসক খাত থেকে আসবে ৯১ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা, আয়কর থেকে ৮৫ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা আর শুল্ক খাত থেকে আসবে ৭১ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা। আর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ শতাংশ। আর জিডিপির আকার ধরা হয়েছে ২২ লাখ ২৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে