সেমিনারে বক্তারা

রাজনৈতিক চমকনির্ভর বাজেট বাস্তবায়ন হবে না

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ জুন ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপির প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ, যা কোনোভাবেই অর্জন করা সম্ভব নয়। বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়েই এ প্রাক্কলন করা হয়েছে। বাজেটে রাজনৈতিক চমক আছে, কিন্তু বাস্তবতা নেই। ফলে রাজনৈতিক চমকনির্ভর বাজেট কখনই বাস্তবায়ন হবে না। সবচেয়ে বড় কথা বাজেটের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে। যার মাধ্যমে প্রকৃত অর্থনীতির অবস্থা আড়াল করা হচ্ছে।

গত রোববার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বিজনেস স্কুল এ সেমিনারের আয়োজন করে।

ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের ডিন অধ্যাপক ইফতেখার গনি চৌধুরীর সঞ্চালনায় সেমিনারে বক্তব্য রাখেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক ড. আকবর আলি খান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম।

মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ জিডিপির প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। বর্তমানে দেশের বিনিয়োগ ও জিডিপির অনুপাত ৩০ দশমিক ২৭ শতাংশ। প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে এ অনুপাত প্রায় ৩ শতাংশ বাড়িয়ে আগামী এক বছরে ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। গত ১০ বছরে এ বৃদ্ধির হার গড়ে ১ শতাংশেরও কম হারে বেড়েছে। ফলে ৩ শতাংশের ওপরে এ বৃদ্ধির বিষয়টি একটি বিভ্রম ছাড়া আর কিছুই নয়। বর্তমান অবস্থায় জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ হবে বলে তিনি মনে করেন। এর বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করা কোনোভাবে সম্ভব নয়।

ড. আকবর আলি খান বলেন, অর্থমন্ত্রী প্রবৃদ্ধি নির্ধারণে হাওরাঞ্চলের বন্যাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এটিকে বিবেচনায় নিলে এ প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করতে পারতেন না। ঘাটতি বাজেটের দায় বহন করতে হয় মূলত পরবর্তী প্রজন্মকেই। তবে ঘাটতি অর্থায়নে প্রাপ্ত অর্থ বিনিয়োগ না করে ভোগে ব্যয় করলে প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, বাজেটের আকার যেভাবে বাড়ানো হয়েছে, তা একটি রাজনৈতিক চমক ছাড়া অন্য কিছু নয়। চমকনির্ভর বাজেট বাস্তবায়ন হবে না। ফলে এ বাজেটের গতিও তাই হবে। বাজেটের হিসাব-নিকাশ অবাস্তব।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট রূপকল্প হিসেবেই থেকে যাবে। এটি আর বাস্তবায়ন হবে না। এ বাজেটে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য নেই। রাজস্ব আহরণের খুব সহজ পদ্ধতি বেছে নিয়েছে এনবিআর। যে কারণে ব্যাংকনির্ভর করে জোর দেওয়া হচ্ছে বেশি।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংক হিসাবের ওপর আবগারি শুল্ক বাড়ানোকে কম্বলে ছুরি মারার মতো। আবগারি শুল্কারোপ করা হয় মদ, গাঁজার মতো নেশাজাতীয় বিভিন্ন পণ্যের ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করতে। এ ছাড়া দেশীয় শিল্পের সুরাতেও এ শুল্কারোপ করা হতে পারে। তবে ব্যাংকে জমা অর্থের ওপর আবগারি শুল্কারোপ ও বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষ ব্যাংক ছাড়া অন্যান্য মাধ্যমে অর্থ লেনদেনে উৎসাহিত হবে।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে