ব্যাংক জমায় আবগারি শুল্ক বাড়ানোর নেপথ্যে!

  আবু আলী

০৭ জুন ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হচ্ছে ব্যাংক গ্রাহকদের জমার ওপর আবগারি শুল্ক দ্বিগুণ বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে। সুশীল সমাজ, অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ তথা সব খাতেই এটি নিয়ে এখন তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও এই বিষয়টি এখন প্রচারের তুঙ্গে রয়েছে। এসব বিবেচনায় সরকারও এই বিষয়টি বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছিল। তবে গতকাল অর্থমন্ত্রী এই বাড়তি হার না কমানোর কথা বলেছেন।

এ ছাড়া নতুন ভ্যাট আইনে অভিন্ন ভ্যাট আইন, শূকরের মাংস আমদানি ও সরবরাহ পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি নিয়েও সামাজিক মাধ্যম এবং গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ইতোমধ্যে এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হযেছে। এর মধ্যে ব্যাংক গ্রাহকদের ওপর আবগারি শুল্ক বাড়ানোর বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হযেছে। ভ্যাটমুক্ত তালিকায় কেন অপ্রয়োজনীয় পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হলো সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, বাজেট তৈরির সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে এনবিআরের পক্ষ থেকে বলা হয়, ব্যাংকিং খাতের লেনদেন বাড়ছে। এ বিবেচনায় রাজস্ব আয় বাড়াতে আবগারি শুল্ক বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রীকে বলা হয়, ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আবগারি শুল্ক মুক্ত রয়েছে। তা ১ লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো যায়। ১ লাখ টাকার বেশি লেনদেনের ওপর এ হার বাড়ানো যেতে পারে। কিন্তু প্রস্তাব অনুযায়ী অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় সেভাবে উপস্থাপন হয়নি বলে মনে করছে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়। সেখানে বলা হয়েছে, বিষয়টি বজেটীয় কায়দায় লেখা হয়নি। এ ছাড়া আবগারি শুল্কমুক্ত লেনদেন ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে বলা হলেও বাজেট বক্তৃতায় সেভাবে উঠে আসেনি। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সমাধান না হলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি করপোরেট ট্যাক্স কমানোর। প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী বলেছিলেনও করপোরেট কর হারে কিছু একটা করা হবে। কিন্তু বাজেটে তার প্রতিফলন নেই।

এসব বিষয়ে জবাব তৈরি করছে এনবিআর। এনবিআর সদস্য মো. লুৎফর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, এ বিষয়ে কাজ চলছে। কেন্দ্রীয়ভাবে জবাব দেওয়া হবে।

বাজেট তৈরির সঙ্গে যুক্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, বিতর্কিত বিষয় সমাধানের পথ এখনো শেষ হয়ে যায়নি। সংসদ সদস্যদের আলোচনা-সমালোচনা শেষে আগামী ২২ জুন জাতীয় সংসদে এ বাজেট পাস হবে। সেখানে সংশোধনী আনা হবে। এ ছাড়া বাজেট পাস হওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দেবেন। এর পরই বাজেট পাস হবে। সেখানে এসব বিষয় স্পষ্ট হবে বলেও জানান তিনি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে