বিভিন্ন সংগঠনের বাজেট প্রতিক্রিয়া

প্রস্তাবিত করকাঠামো সমন্বয় করতে হবে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ জুন ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ০৭ জুন ২০১৭, ০০:৩০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে বিভিন্ন সংগঠন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে তাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরে এগুলো বাজেট পাসের আগে এগুলো সমন্বয় করার দাবি করেছেন। তা না হলে দেশীয় শিল্প বিপাকে পড়বে। পণ্যের দাম বাড়বে। এর চাপ পড়বে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ওপর।

বাজেট পুঁজিবাজারবান্ধব নয় : সিএসই

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম সাইফুল ইসলাম বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সিইসির পক্ষ থেকে যেসব প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তার কোনোটিই রাখা হয়নি। বিনিয়োগকারীদের বা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য কিছু করা হয়নি। বন্ড মার্কেটে যে ট্রিপল টেক্সট রয়েছে সেগুলো তুল নেওয়া হয়নি। সব মিলে এই বাজেট পুঁজিবাজারবান্ধব নয়।

গত সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত সিএসইর কার্যালয়ে বাজেট-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সিএসইর পরিচালক মেজর (অব.) ইমদাদুল ইসলাম, ঢাকা অফিসের ইনচার্জ গোলাম ফারুকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে দেশের পুঁজিবাজারে সংকট ও আস্থাহীনতা বিরাজ করছে। এই সংকট দূর করে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত শেয়ারবাজারে গতি আসবে না। বিভিন্ন প্রণোদনা ও নীতি সহায়তার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বাজারমুখী করা গেলে অর্থনৈতিক উন্নয়নে পুঁজিবাজারের ভূমিকা বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব। এখনো সময় আছে বাজেট পাস হওয়ার আগে এগুলো সংশোধন করার সুযোগ রযেছে।

সিএসইর এমডি বলেন, আমরা কোনো বাজেটেই পুঁজিবাজারের জন্য কৌশলগত কাঠামো দেখি না। তবে বাজেট কাঠামোয় পুঁজিবাজার সম্প্রসারণ এবং পুঁজিবাজারের মাধ্যমে ক্যাপিটাল মোবিলাইজেশনের লক্ষ্যে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি সুস্পষ্ট ঘোষণা ও লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত। সেগুলা এই বাজেটে নেই। এগুলো থাকলে পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়বে এবং টেকসই হবে। তিনি বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজার নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা কিংবা কোনো সমন্বিত উদ্যোগ নেই। পুঁজিবাজারে বিদেশি কোম্পানি আনার বিষয়ে বাজেটে কোনো নির্দেশনা নেই।

ব্যাংক হিসাবে আবগারি শুল্ক নিয়ে তিনি বলেন, বাজেটে আবগারি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। অনেকে মনে করছেন এখন ব্যাংক এই অলস অর্থ পুঁজিবাজারে আসবে। তবে আমি মনে করি এর সঙ্গে পুঁজিবাজারের কোনো সম্পর্ক নেই। পুঁজিবাজার স্থিতিশীল হলে, বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা বাড়লে এমনিতেই নতুন ফান্ড বাজারে আসবে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজ ব্যাহত হবে : অ্যামটব

মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) মহাসচিব টিআইএম নুরুল কবীর বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল হ্যান্ডসেট সহজলভ্য করার দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু হ্যান্ডসেট আমদানির ওপর শুল্ক বাড়িয়ে গ্রাহকদের জন্য তা আরও দুর্লভ করার চেষ্টা হয়েছে। আমরা দেশের টেলিফোন খাত বিশেষ করে মোবাইল ফোন শিল্পের উন্নয়নের জন্য যেসব প্রস্তাব রেখে আসছি, তার কোনো প্রতিফলন এই বাজেটে নেই। তাই প্রস্তাবিত বাজেট আমাদের হতাশ করেছে।

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। এতে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে মোবাইল ফোন এখন বহুবিধ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে ব্যাংকিং, যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান, গুরুত্বপূর্ণ ফাইল স্থানান্তর, ইন্টারনেট ব্যবহার তথা জিডিটাল বাংলাদেশ গড়তে অন্যতম ভূমিকা রাখছে। বাজেটে মোবাইল ফোন সেট আমদানিতে শুল্ক আরোপ ও এর সরবরাহ পর্যায়ে ভ্যাট আরওপ করায় এই কাজ বাধাগ্রস্ত হবে।

মোবাইল ফোন সেট আমদানিতে কর কমান : বিএমপিআইএ

বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিআইএ) বলেছে, আমদানি করা মোবাইল হ্যান্ডসেটের ওপর কর বাড়ানোর ফলে এগুলোর দাম বাড়বে। ফলে সরকারের মূল লক্ষ্য ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া এবং তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ বাধাগ্রস্ত’ হবে। গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেরনে তারা এসব কথা বলেন। তারা আরও বলেন, মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট আমদানিতে কর বৃদ্ধির ফলে চোরাচালানিদের রাজত্ব কায়েম হবে। নবম বৃহৎ মুঠোফোন ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ স্থানীয়ভাবে মুঠোফোন উৎপাদন সহায়ক নীতিমালা প্রণয়নের যে উদ্যোগ নিয়েছে তা ইতিবাচক। কিন্তু এখন পর্যন্ত শতভাগ আমদানিনির্ভর হওয়ায় মুঠোফোনে শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব আমদানিকারকদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। এর ফলে মুঠোফোন বাজারে চোরাচালান উৎসাহিত হবে, সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে এবং অসম প্রতিযোগিতার ফলে বৈধ আমদানিকারকরা ব্যবসায় টিকে থাকতে পারবে না।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএমপিআই সভাপতি রুহুল আলম আল মাহবুব। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি আমিনুর রশীদ, রাকিব উল কবীর, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া শহীদ, যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন, নির্বাহী কমিটির সদস্য রেজওয়ানুল হক এবং এটিএম মাহবুবুল আলম।

সংবাদ সম্মেলনে বিএমপিআই নেতারা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের কোনো উৎপাদন বা সংযোজন শিল্প নেই। বিএমপিআইর অনেক সদস্য প্রতিষ্ঠান স্থানীয় মুঠোফোন শিল্প স্থাপনে আগ্রহী। আমদানিকারকদের অনেক দিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার মুঠোফোনের খুচরা যন্ত্রাংশের এইচএস কোড প্রণয়ন করেছে। যেহেতু মুঠোফোন উৎপাদন একটি প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্প এবং বাংলাদেশে এর দক্ষ শ্রমিকের অভাব আছে, তাই দেশে সংযোজনকারী শিল্প ও দক্ষ শ্রমিক গড়ে তোলার জন্য নূন্যতম ১ বছর সময় প্রয়োজন।

নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাই : উইমেন চেম্বার

বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিডবিউসিসিআই) বলেছে, প্রস্তাবিত বাজেটে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নের জন্য বিগত বছরগুলোর মতো কোনো অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়নি। ফলে এই খাতের উদ্যোক্তারা বঞ্চিত হবেন। নারী উদ্যোক্তারা দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখছেন। দেশীয় উপকরণ ব্যবহার করে তারা পণ্য উৎপাদন ও বিপণন করছেন। এই খাতের বিকাশ মানে দেশীয় পণ্যের বিকাশ। এসব বিবেচনায় রেখে বাজেটে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ১০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের দাবি করেছে সংগঠনটি।

সংগঠনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাজেটে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নের জন্য চলমান কার্যক্রম অব্যাহত থাকার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি, যা তাদের অবহেলার শামিল।

প্রস্তাবিত বাজেট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় আরও বলা হয়, নারীদের জন্য ব্যক্তিগত আয়করমুক্ত সীমা বাড়ানো হয়নি। বর্তমানে তাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ টাকা। এই সীমা আরও ১ লাখ টাকা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করার দাবি জানানো হয়। তা ছাড়া বাজেট পাস হওয়ার আগে ট্রেড লাইসেন্সধারী নারী উদ্যোক্তা যারা নিয়মিত কর পরিশোধ করেন তাদেরকে স্বাস্থ্য ও দুর্ঘটনা বীমার আওতায় আনা, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে পৃথক ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকঋণের ক্ষেত্রে ৭ থেকে ৮ শতাংশ সুদের হার নির্ধারণ করার কথা বলা হয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে।

সংগঠনটি থেকে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, মেলা, সেমিনার, ওয়ার্কশপ সম্পর্কিত খরচের ওপর ভ্যাট এবং ট্যাক্স থেকে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানকে রেয়াত দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পর্যটন শিল্পে অবকাঠামোগত উন্নয়নে বরাদ্দসহ নতুন নতুন পর্যটন এলাকা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নারী উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কোটা রাখা ও বাস্তবায়ন করারও দাবি জানান হয়েছে।

সোলার প্যানেল আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করুন : সোলার অ্যাসোসিয়েশন

বাংলাদেশ সোলার অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন প্রস্তাবিত বাজেটে সৌর প্যানেল আমদানির ওপর আরপিত শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। গত সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি করেন।

এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি দিপাল চন্দ্র বডুয়া, বাংলাদেশ সোলার এনার্জি সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর সাইফুল হক, ইডকলপিও ফোরামের সহ-সভাপতি নেসার এম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০০৯ সালে সৌর প্যানেল আমদানিতে শুল্কসহ ভ্যাট ট্যাক্সের আওতামুক্ত রাখায় দেশের তিন কোটি গ্রামীণ জনগণ কম মূল্যে বিদ্যুৎ পেয়েছে। দেশে ৪৫ লাখের বেশি সোলার হোমসিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে সৌর প্যানেলের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা না হলে এ অগ্রগতি থেমে যাবে।

তারা আরও বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে সৌর প্যানেল আমদানির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই শুল্ক বহাল রাখা হলে ভোক্তাপর্যায়ে সৌর প্যানেলের দাম ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ বাড়বে। এতে সরকারের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেওয়ার পরিকল্পনা ব্যাহত হবে।

বিড়িশিল্পের ওপর কর প্রত্যাহার করুন : বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন

বাংলাদেশ বিড়ি শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন এই শিল্পের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছেন। এটি না করলে তারা আমরণ অনশনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গত সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশন নেতারা এ ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিন উদ্দিন বক্তব্য রাখেন। উপস্থিতি ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক আবদুর রহমান, সহ-সম্পাদক হারিপ হোসেন, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক প্রণব দেবনাথ। সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বিড়ি শিল্পের সঙ্গে অসংখ্য শ্রমিক জড়িত। হঠাৎ করে এই শিল্প বন্ধ করে দিলে তারা কোথায় যাবেন। আগে তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। তা করে এই শিল্পকে বন্ধের দিকে নিয়ে গেলে অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বেন। কেননা অতিরিক্ত করারোপের ফলে এ শিল্পটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছবে।

বক্তারা আরও বলেন, অর্থমন্ত্রী সিগারেট কোম্পানিগুলোর ব্যবসা বাড়িয়ে বিড়ি শিল্পকে ধ্বংসের নীল নকশা প্রণয়ন করছেন। সভায় বক্তারা এই দ্বিমুখী করনীতির তীব্র সমালোচনা করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান এবং এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এনবিআর ও অর্থমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ মদদে দেশের বিড়ি শিল্প ধ্বংস হচ্ছে। বিড়ি তুলে দিয়ে অর্থমন্ত্রী পুরো বাজারটা সস্তা সিগারেটের হাতে তুলে দিতে চাচ্ছেন। অথচ হতদরিদ্র গ্রামের শ্রমিকদের কথা না ভেবে তিনি বহুজাতিক কোম্পানির স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছেন। সস্তা সিগারেটের চেয়ে স্থানীয়ভাবে তৈরি বিড়ি অনেক ভালো বলে তারা মন্তব্য করেছেন।

শিল্প খাতে মিশ্র প্রভাব পড়বে : প্রাইস ওয়াটার

আন্তর্জাতিক আর্থিক নিরীক্ষা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপারস বলেছে, প্রস্তাবিত বাজেটের প্রভাবে স্থানীয় শিল্পে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই ধরনের প্রভাবই পড়বে। এর মধ্যে ভ্যাটের প্রভাবটা পড়বে বেশি। জনজীবনে এর প্রভাবে নানা অসঙ্গতি দেখা দেবে। বাজেটের আওতা যেভাবে বাড়ানো হয়েছে সেভাবে রাজস্ব আহরণ করা সরকারের জন্য সম্ভব হবে না।

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণ করে তারা এই মতামত ব্যক্ত করেছে। সম্প্রতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা আরও বলেছে, স্থানীয় শিল্পের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এমন খাতের অন্যতম হলো সিরামিকস, ব্যাটারি, তথ্যপ্রযুক্তি, এলপিজি সিলিন্ডার, দেশি রেফ্রিজারেটর, এসি। এসব খাতে কর ভার কমানো হয়েছে।

তারা বলেছে, ফ্ল্যাট কেনাবেচায় ১৫ শতাংশ ভ্যাট বসানো হলে আবাসন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে ভূমি নিবন্ধনে ভ্যাটের হার সামান্য কমানো হয়েছে। এর একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এই খাতে। এ ছাড়া আমদানি পর্যায়ে আমদানি শুল্ক বা সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধির কারণে বিদেশি সৌর প্যানেল, মোবাইল ফোনসেট, টেলিভিশন, পাদুকা, গাড়ির টায়ার, গুঁড়া সাবান, রং এসবের আমদানি খরচ বাড়বে। রডের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের ফলে এর দাম বেড়ে যাবে। ফলে নির্মাণ খরচ বাড়বে। এর প্রভাবে এই খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে