রাজধানীর ১৫ আসনে আ.লীগের অর্ধশত প্রার্থী

  অনলাইন ডেস্ক

১৩ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৭, ১৩:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীর ২০ আসনের মধ্যে ঢাকা-১, ২, ৩, ১৯ ও ২০ পাঁচটি সংসদীয় আসন বাদে বাকি ১৫টি দুই সিটি করপোরেশনের আওতাধীন। সারা দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার মতো ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এ আসনগুলোর প্রার্থিতা নিয়ে জোর তৎপরতা চলছে। আলোচনা চলছে কে হবেন নৌকার মাঝি।

বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যাও বেশি। প্রতিটি সংসদীয় আসনে গড়ে পাঁচজনের বেশি, মোটাদাগে ১৫টি আসনে প্রায় একশ মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রকাশ্যে অথবা গোপনে নির্বাচনী জনসংযোগ করছেন। এ নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন

আলী আসিফ শাওন

ঢাকা-৪ (শ্যামপুর-কদমতলী) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সানজিদা খানম, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক ব্যক্তিগত সমন্বয়কারী ড. আওলাদ হোসেন ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কৃষক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুস সালাম।

ঢাকা-৫ (ডেমরা-যাত্রাবাড়ী) বর্তমান এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লার আসনে আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ মুন্না এবং হাবিবুর রহমান মোল্লার ছেলে ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান সজল।

ঢাকা-৬ (সূত্রাপুর-কোতোয়ালি) আসনে জাতীয় পার্টির বর্তমান এমপির স্থলে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী অনেক। সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফি, সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন, ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী আশিকুর রহমান লাভলু এবং সূত্রাপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মো. শাহিদ।

ঢাকা-৭ (লালবাগ-চকবাজার) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ আকতার হোসেন, লালবাগের কমিশনার হাসিবুর রহমান মানিকের নাম আলোচনায় রয়েছে।

ঢাকা-৮ (মতিঝিল) আসনে দলটির প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাঈল চৌধুরী সম্রাট, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বাহাদুর বেপারি এই আসনে দলীয় মনোনয়ন চান। রমনা-মতিঝিল এলাকার প্রায় সব কয়টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের অনুসারী বলে পরিচিত। সেক্ষেত্রে ভোটের হিসেবে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন সম্রাট।

ঢাকা-৯ (মুগদা-সবুজবাগ) আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীকেই এবারও দেখা যেতে পারে নৌকা মার্কার প্রার্থী হিসেবে। তবে মুগদা-সবুজবাগ এলাকায় নির্বাচনী জনসংযোগে পিছিয়ে নেই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গিয়াসউদ্দিন পলাশ এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনিসুর রহমান আনিস।

ঢাকা-১০ (ধানম-ি) আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি। প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের আত্মীয় ব্যারিস্টার তাপসের একচ্ছত্র প্রভাবের কারণে এই আসনে দলীয় কোন্দল নেই বললেই চলে।

ঢাকা-১১ (রামপুরা-বাড্ডা-ভাটারা) আসনের বর্তমান এমপি ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম রহমতউল্লাহ। এখনো পর্যন্ত এই আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী তিনি। একাদশ সংসদ নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রহমতউল্লাহ।

ঢাকা-১২ (তেজগাঁও-ফার্মগেট) আসনে প্রার্থী বদলের সম্ভাবনা নেই আওয়ামী লীগের। বর্তমান এমপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের দল থেকে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর-আদাবর) আসনের বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি বরিশাল সদর থেকে মনোনয়ন পেতে পারেন। সেক্ষেত্রে এ আসনে প্রার্থী হতে পারেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান। মোহাম্মদপুর এলাকায় সাদের খানের পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থান বেশ শক্ত।

ঢাকা-১৪ (মিরপুর-শাহআলী) বর্তমান এমপি আসলামুল হক আসলাম মনোনয়ন না পেলে সংরক্ষিত আসনের এমপি ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের সভাপতি সাবিনা আক্তার তুহিন দলীয় মনোনয়ন পেতে পারেন। এ ছাড়া দারুসসালাম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মাজহার আনাম, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আজিজুর রহমান বাচ্চুও রয়েছেন আলোচনায়।

ঢাকা-১৫ (কাফরুল) আসনে আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব প্রকট। বর্তমান এমপি কামাল আহমেদ মজুমদারের সঙ্গে এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইতে পারেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মেসবাউল হক সাচ্চু, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম জাহিদ, যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাঈনুল হোসেন খান নিখিল, এখলাস মোল্লা এবং ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সাইফুল্লাহ।

ঢাকা-১৬ (পল্লবী-রূপনগর) আসনে একাদশ নির্বাচনে বর্তমান এমপি ইলিয়াসউদ্দিন মোল্লার সঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থী মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এসএ মান্নান কচি এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন। কচি এবং ইসমাইল দুজনই দীর্ঘদিন থেকে এই এলাকায় নির্বাচনী জনসংযোগ করছেন।

ঢাকা-১৭ (গুলশান-ক্যান্টনমেন্ট) আসনে বর্তমান এমপি বিএনএফের চেয়ারম্যান এসএম আবুল কালাম আজাদ। এবার এখানে প্রার্থী দেবে আওয়ামী লীগ। সে ক্ষেত্রে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও দলটির সভাপতিম-লীর সদস্য লে. কর্নেল (অব) ফারুক খান এমপির নাম শোনা যাচ্ছে। ফারুক খান গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর) থেকে নির্বাচন করে এমপি হয়েছেন কয়েকবার। এবার সেখানে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানার নির্বাচন করার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ঢাকার এ আসনে ফারুক খান প্রার্থী হতে পারেন। এ ছাড়া এ আসনে অনেক দিন থেকেই নির্বাচনী জনসংযোগ করছেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মো. ওয়াকিল উদ্দিন। দীর্ঘদিন গুলশান থানা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে থাকায় দলের নেতাকর্মীদের মাঝে জনপ্রিয়তা রয়েছে ওয়াকিল উদ্দিনের। এ ছাড়া গুলশান এলাকায় সামাজিকভাবেও প্রতিষ্ঠিত। আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী তিনি।

ঢাকা-১৮ (উত্তরা) আসনে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন এমপি পুনরায় মনোনয়ন পেতে পারেন। তবে বয়সের কারণে সাহারা খাতুন মনোনয়নবঞ্চিত হলে এই আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে পারেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নাজিমউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাবিব হাসান, দক্ষিণখান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন এবং নগর আওয়ামী লীগের সদস্য আফসারউদ্দিন খান। অন্যদের চেয়ে মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে হাবিব হাসান।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে