কেপ পয়েন্টে একদিন

  এম. এম মাসুক, ইস্ট লন্ডন থেকে

২১ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কেট টাউনের অন্যতম দর্শনীয় স্থান কেপ পয়েন্ট। শহর থেকে প্রায় একশ কিলোমিটার দূরে এই কেপ পয়েন্টের অবস্থান। অনেকে কেপ পয়েন্টকে পৃথিবীর সর্বশেষ দক্ষিণ প্রান্ত বলে থাকেন। তবে সব ছাপিয়ে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো ভারত ও আটলান্টিক এ দুই মহাসাগরের মোহনা এখানে। দুই সাগরের পানি একসঙ্গে মিশলেও দুরকম পানির রং। আটলান্টিকের পানি স্বচ্ছ নীল রঙের। ভারত মহাসাগরের পানি কিছুটা কালো ও ঘোলাটে দেখালেও আয়নার মতো স্বচ্ছ। এ কেপ পয়েন্ট পরিদর্শন করতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে দলবদ্ধ হয়ে আসেন পর্যটকরা। এর মধ্যে ইংল্যান্ড, জার্মানি, আমেরিকার পর্যটকের সংখ্যাই বেশি। আমরাও কয়েকজন গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রওনা হলাম কেপ পয়েন্টের উদ্দেশে।

পার্ল থেকে কেপ পয়েন্টের দূরত্ব প্রায় দেড়শ কিলোমিটার। ভারত সাগরের পাড় দিয়ে আঁকাবাঁকা রাস্তা। রাস্তার পাশে পাথুরে পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে উঠেছে নয়নাভিরাম শহর। মোয়েজেনবার্গ প্রবেশের পরই সাগরে উত্তাল ঢেউয়ের গর্জন শোনা যায়। দূর থেকে আসা ঢেউ আছড়ে পড়ছে। গাড়ির ভেতর থেকে সাগরের এ গর্জন শুনতে শুনতে ফিশহুক পেরিয়ে অবশেষে দেখা মিলল কেপ পয়েন্টের। দূর থেকে দেখা যাচ্ছে দ্বীপের মতো পাহাড়ের চূড়া। এটা হলো কেপ পয়েন্ট। কিন্তু মূল গেট থেকে আরও ভেতরে এর অবস্থান। মূল গেট পার হয়ে দুই পাশে সাগরের ঢেউয়ের মতো পাহাড়ের মধ্য দিয়ে শেষে দেখা মিলল মূল কেপ পয়েন্টের। সেখানেও আরেকটি গেট। এ গেটের ওপরে সারিবদ্ধভাবে দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের পতাকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেপ পয়েন্টের চূড়ায় উঠতে হলে ব্যবহার করতে হয় ছোট মেট্রো রেলগাড়ি। ৫ মিনিটের পথ। এ পথ পাড়ি দিতে দিতে দেখা যায় অসম্ভব সুন্দর সব দৃশ্য। পাহাড়ঘেঁষা দূর সাগরের ঢেউয়ের গর্জন মুহুর্মুহু শোনা যায়। মূল কেপ পয়েন্ট থেকেই দুই মহাসাগরের মিলনস্থলের দৃশ্য অসাধারণ। কেউ যেন ছবি তোলার সুযোগ হারাতে চায় না! এ পয়েন্ট থেকে রিও ডি জেনেরিও ৬ হাজার ৫৫ কিলোমিটার দূরে। ৯ হাজার ৬২৩ কিলোমিটার দূরে লন্ডনের অবস্থান। নিউইয়র্কের অবস্থান ১২ হাজার ৫৪১ কিলোমিটার দূরে। ১১ হাজার ৬৪২ কিলোমিটার দূরে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি। কেপ পয়েন্টের মধ্যেই রয়েছে পর্যটকদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা। রেস্টুরেন্ট, বার ও সুপার শপ। এ ছাড়া এখানে রয়েছে লাইটহাউস। সেখানে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে সাগরের দুর্লভ ঝিনুক, শামুক ইত্যাদি। সেখানে রয়েছে কেপ পয়েন্টের পুরনো ইতিহাসের সংগ্রহশালা। টেবিল মাউন্ট পার্কের বিশেষ অংশ হিসেবে কেপ পয়েন্ট পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে