ওয়েলিংটনে দুঃস্বপ্নের দুই ম্যাচ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

১২ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:৩৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিংটন। ছবির মতো সুন্দর শহর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এ শহরেই ভোর থেকে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্ট।

ওয়েলিংটনে এর আগে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে টাইগাররা। তবে ওই দুই ম্যাচের স্মৃতি নিশ্চয় ভুলে যেতে চাইবে লাল-সবুজরা। কেননা, দুঃস্বপ্নের ওই দুই ম্যাচেই ইনিংস ও রান ব্যবধানে স্বাগতিকদের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছিল বাংলাদেশ।

২০০১ সালে প্রথমবার এই ভেন্যুতে মুখোমুখি হয়েছিল দু’দল। তখন বাংলাদেশের নেতৃত্বে ছিলেন খালেদ মাসুদ। নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়ক ছিলেন স্টিফেন ফেমিং। টেস্ট ক্রিকেটে পা রাখার পর সেটি ছিল টাইগারদের নবম ম্যাচ।

ক্রিকেটের ‘ব্রাহ্মণ সমাজ’-খ্যাত লংগার ভার্সনের ক্রিকেটে তখন হাঁটি-হাঁটি করে পথচলা শুরু বাংলাদেশের। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের ভেন্যু ওয়েলিংটন। এর আগে, প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যামিল্টনে টেস্ট ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। তবে হ্যামিল্টনের পর ওয়েলিংটনেও শোচনীয়ভাবে স্বাগতিকদের কাছে পরাজিত হয় সফরকারীরা। ইনিংস ও রান ব্যবধানে হারা বাংলাদেশ সিরিজ হেরেছিল ২-০ ব্যবধানেই।

ওয়েলিংটন টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪২ রান করেছিলেন চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা আমিনুল ইসলাম। ওপেনার আল শাহরিয়ারের ব্যাট থেকে এসেছিল ১৮ রান। এ ছাড়া জাভেদ ওমর, হাবিবুল বাশার, মোহাম্মদ আশরাফুল, সানোয়ার হোসেন, খালেদ মাহমুদ, খালেদ মাসুদরা ব্যর্থতার মিছিলে শামিল হয়েছিলেন।

জবাবে, প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ড ৬ উইকেটে ৩৪১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছিল। মার্ক রিচার্ডসন সর্বোচ্চ ৮৩ রান করেছিলেন। এ ছাড়া স্টিফেন ফেমিং ৬১ ও ক্রেগ ম্যাকমিলানের ব্যাট থেকে এসেছিল ৭০ রান। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে আবারও ব্যর্থতার খাতায় নাম লিখিয়েছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। তাই তো ১৩৫ রানেই অলআউট বাংলাদেশ। একদিন হাতে রেখেই ওয়েলিংটন টেস্ট জয়ের মধ্য দিয়ে ২-০তে সিরিজ জিতে নিয়েছিল ব্ল্যাক ক্যাপরা।

সাত বছর পর ওয়েলিংটনে দ্বিতীয়বারের মতো স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। তখন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। নিউজিল্যান্ডের ড্যানিয়েল ভেট্টরি। ওই টেস্টে টাইগারদের পারফরম্যান্স ছিল আরও নাজুক। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ১৪৩ রান করে। সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেন মোহাম্মদ আশরাফুল। তবে ওই টেস্টে খেলা তামিম, জুনায়েদ, বাশার, নাফীস, মুশফিক, সাকিবদের মতো ব্যাটসম্যানরা চরম ব্যাটিং ব্যর্থতা দেখান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫ রানে অপরাজিত ছিলেন আফতাব আহমেদ।

নিজেদের প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ড তুলেছিল ৩৯৩ রান। ওপেনার ক্রেগ ক্রুমিং ৪২, স্টিফেন ফেমিং ৮৭, ম্যাথু সিনকেয়ার ৪৭, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ৪০ ও ড্যানিয়েল ভেট্টরি ৯৪ রান করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে আবারও ব্যর্থতা দেখালেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। সর্বোচ্চ ৪১ রানে অপরাজিত ছিলেন সাকিব। বাংলাদেশ ১১৩ রানে অলআউট হলে ম্যাচটি তিন দিনেই ইনিংস ও ১৩৭ রানের বড় ব্যবধানে জিতে নেয় স্বাগতিকরা।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আজ দ্বাদশতম টেস্ট ম্যাচ খেলছে বাংলাদেশ। সাদা জার্সিতে ওয়েলিংটনে এ নিয়ে তৃতীয়বার মুখোমুখি হলো দুদল। এর আগে ব্ল্যাক ক্যাপদের বিপক্ষে কখনই টেস্টে জয় পায়নি টাইগাররা। তবে মুশফিক, সাকিবদের নিয়ে গড়া বাংলাদেশ দল এখন যথেষ্ট পরিণত দল। ঘরের মাটিতে গত বছর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সাদা জার্সিতে ইতিহাস গড়েছে টাইগাররা। নিউজিল্যান্ড সফরের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হলেও টেস্টে ভালো কিছু করার লক্ষ্যই থাকবে টাইগারদের। হয়তো অতীতের ওয়েলিংটনে খেলা ওই দুই দুঃস্বপ্নের ম্যাচের স্মৃতিকে এবার সুখস্মৃতিতেই রূপ দেবেন মুশফিক বাহিনী!

 

"

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে