মিয়ানমারে সামরিক সহযোগিতা বন্ধের প্রস্তাব

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১০:৫০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহযোগিতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন সে দেশের কয়েক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা। রাখাইন রাজ্যে চলমান পরিস্থিতিতে তাদের এই পদক্ষেপ মিয়ানমারকে অনেক শক্তিশালী বার্তা দেবে বলে মনে করছেন তারা। গতকাল বুধবার এমন খবর দিয়েছে ভয়েস অব আমেরিকা।

খবরে বলা হয়, প্রভাবশালী মার্কিন সিনেটর জন ম্যাককেইন, হাউস ডেমোক্রেটিক ককাস চেয়ারম্যান জো ক্রাউলি এবং কংগ্রেসম্যান স্টিভ চ্যাবট মিয়ানমারে মার্কিন অস্ত্র-সহায়তা বন্ধের পক্ষে নিজেদের এই অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।

সিনেটর জন ম্যাককেইন ২০১৮ অর্থবছরের জাতীয় প্রতিরক্ষা কর্মসূচিতে মিয়ানমারের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে চেয়েছিলেন। অথচ এর আগে মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক সরকার আসায় ম্যাককেইনই তাদের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী ছিলেন।

সিনেটের আর্মড সার্ভিস কমিটির প্রধান ম্যাককেইন বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম মিয়ানমারে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসবে এনএলডি; কিন্তু এমন মানবিক সংকট ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের পর এখন আর আমি তাদের মঙ্গে সামরিক সম্পর্কে যাওয়া সমর্থন করতে পারি না।’ তিনি বলেন, ২০১৫ নির্বাচনের পর খুবই উৎসাহী ছিলেন তিনি। তারা বিশ্বাস করতেন বেসামরিক সরকার দেশকে অন্যভাবে পরিচালিত করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের পাশে থাকবে। এজন্যই সিনেটের আর্মড সার্ভিস কমিটির এক প্রস্তাকে দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক জোরদারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। তবে পরিস্থিতি এখন পাল্টে গেছে, তাই এনডিএএকে এখন আলোচনা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গত এক মাসেই মিয়ানমার থেকে জাতিগত নিধনযজ্ঞ থেকে বাঁচতে ৩ লাখ ৭০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। জাতিসংঘ একে জাতিগত নিধনের বাস্তব উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ম্যাককেইন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই সংকট সমাধানে অং সান সু চিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অনেকদিন ধরেই গণতন্ত্রের জন্য অনুপ্রেরণীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন।’

হাউস ডেমোক্রেটিক ককাস চেয়ারম্যান জো ক্রাউলি ও কংগ্রেসম্যান স্টিভ চ্যাবট জানান, তারা রাখাইন রাজ্যে চলমান পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত। তারা বলেন, ‘মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে কোনো সম্মান দেখাচ্ছে না। অত্যাচারের শিকার হয়ে পালাচ্ছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। এই ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে