ইইউর সতর্ক বার্তা

গৃহযুদ্ধের পথে কাতালোনিয়া

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৭ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) বাজেট কমিশনার সতর্ক করে বলেছেন, স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে কাতালোনিয়া গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। শুক্রবার দ্য টেলিগ্রাফ এ খবর দেয়।

ব্যাপক পুলিশি সহিংসতায় গত রবিবার গণভোট আয়োজনের পর স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে কাতালোনিয়া ও স্পেন সরকারের মধ্যে চলছে উত্তেজনা। এ সংকটের মুখে অনেক বড় বড় ব্যাংক কাতালোনিয়া থেকে তাদের সদর দপ্তর সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

আগামী সোমবার কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন অঞ্চলটির নেতারা। আঞ্চলিক পার্লামেন্টে এ ঘোষণা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন কাতালানের সংসদ সদস্যরা। তবে গত বৃহস্পতিবার স্পেনের সাংবিধানিক আদালত কাতালোনিয়া পার্লামেন্টের অধিবেশন স্থগিত করলে পরিস্থিতি নতুন দিকে মোড় নেয়। গতকাল কাতালোনিয়ার কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে সোমবার পার্লামেন্টের অধিবেশন বসবে এবং স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হবে।

এ পরিস্থিতিতে ইইউ বাজেট কমিশনার গানথার অতিঙ্গা স্পেনের বিবদমান দুই পক্ষকে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এ পরিস্থিত খুবই কঠিন। ইউরোপই একটি গৃহযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি মনে করেন, একমাত্র ইউরোপিয়ান ইউনিয়নই এ সংকটে মধ্যস্ততা করতে পারে।

স্পেনের অন্যতম বৃহত্তম ব্যাংকিং গ্রুপ বাংকো সাবাদেল ঘোষণা দিয়েছে, তারা আলিকান্তেতে সদর দপ্তরে চলে যাচ্ছে। কাইজাব্যাংকেরও একই পরিকল্পনা। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এল মুন্দোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতালোনিয়াকে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করা হলে ব্যালেরিক দ্বীপে চলে যেতে পারে ব্যাংকটি।

বীমা কোম্পানি কাতালান অক্সিডেন্টও বলেছে, যে কোনো কিছুর জন্য প্রস্তুত তারা। স্পেন সরকারও চাইছে কাতালোনিয়া থেকে বেরিয়ে আসুক প্রতিষ্ঠানগুলো। তাই তাদের প্রক্রিয়াও সহজ করার চেষ্টা করছে তারা।

বুধবার স্প্যানিশ শেয়ারবাজারেও ধস নামে। ব্রেক্সিটের পর সেটিই ছিল সর্বোচ্চ দরপতন। মাদ্রিদ সম্মেলনে যোগ দিতে আসা সংগঠনগুলো শোনাচ্ছে অশনি সংকেত। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থাগুলো কাতালোনিয়ায় ভোটারদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছে। কাতালোনিয়া বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ব্যবসায়ী জ্যাভিয়ের অ্যাডাম দ্য টেলিগ্রাফকে বলেছেন, তিনি এ পরিস্থিতিতে স্পেনে সব রকম বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন।

লন্ডনে স্প্যানিশ দূতাবাসে পাঠানো এক চিঠিতে অ্যাডাম বলেন, তার এএমসি নেটওয়ার্ক কোম্পানি ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। নেতিবাচক প্রচার, শুধু ভোট দিতে চাওয়া নিরপরাধ মানুষের ওপর চড়াও হওয়ায় তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

স্পেনর অর্থমন্ত্রী লুইস দে গুইন্দোও কাতালোনিয়ায় আলাদা হওয়ায় ব্যাংকগুলো চলে যাবে ও অস্থিতিশীল অবস্থার তৈরি হবে বলে ইঙ্গিত দেন। ব্লুমবার্গ নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এ থেকেই বোঝা যায় কাতালোনিয়ার সরকার কতটা পাগল।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে