ট্রাম্পের এশিয়া সফর

মানবাধিকার প্রশ্নটি উপেক্ষিত

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৫ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০১৭, ০০:১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম এশিয়া সফর গত সোমবার সমাপ্ত করেছেন। ১১ দিনের এ সফরে তিনি এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অবস্থান করেছেন। বিভিন্ন স্থানে তিনি নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন; কিন্তু এ অঞ্চলের কয়েকটি দেশে যে মোটা দাগে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি একেবারে নিশ্চুপ ছিলেন। মানবাধিকার বিষয়টি মোটা দাগে উপেক্ষিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম স্টারস অ্যান্ড স্ট্রিপসের এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এ বিষয়টিই উঠে এসেছে।

মিয়ানমারের রাখাইনে সংখ্যালঘু মুসলমান রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনী সরাসরি নির্যাতনে নেমেছে, যা খোদ যুক্তরাষ্ট্রেরই মানবাধিকার সংস্থা বর্ণনা করেছে ‘পাঠ্যবইয়ে’ বর্ণিত গণহত্যা হিসেবে। কিন্তু এ ব্যপারে টুঁ শব্দটি করেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও সফরের তালিকায় মিয়ানমার ছিল না, তারপরও আসিয়ান সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি, যেখানে যোগ দিয়েছিলেন ট্রাম্পও। এ ছাড়া সম্প্রতি রোহিঙ্গা নির্যাতন এ অঞ্চলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিকৃষ্টতম ঘটনা, যা ট্রাম্প একেবারে এড়িয়ে গেছেন। এশিয়ার অপর দেশ ফিলিপাইন। এ দেশটি ট্রাম্পের সফর সূচিতে ছিল এবং সেখানে এবারের আসিয়ান সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের সঙ্গে ট্রাম্প পৃথক বৈঠক করেন। কিন্তু ফিলিপাইনে ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের’ অংশ হিসেবে যে চার হাজার জনকে হত্যা করা হয়েছে, সে ব্যাপারে ট্রাম্প চুপ ছিলেন। এখানে উল্লেখ করা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কিন্তু দুতের্তের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক বাতিল করেছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প হাসিমুখেই দুতের্তের সঙ্গে বৈঠক করেন। শুধু তা-ই নয়, ট্রাম্পের অনুরোধে নৈশভোজে দুতের্তে গানও পরিবেশন করেন। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প সফর করেন কমিউনিস্ট নেতৃবৃন্দ শাসিত দেশ ভিয়েতনাম, যেখানে রাজনৈতিক বক্তৃতা প্রদান ও স্বাধীন সাংবাদিকতা করা যায় না। এ দেশেও তিনি সাধারণ নাগরিকদের এ অধিকার নিয়ে কোনো কথা বলেননি। চীনে সংবাদমাধ্যমকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হয়। সংবাদপত্রের কোনো স্বাধীনতা নেই। অথচ দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ট্রাম্প ‘খুবই অসাধারণ মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ট্রাম্প এশিয়া সফরের ১২ দিনে ৫ দেশে গেছেন। এ সফরে যে বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, তা হলো বাণিজ্য, সন্ত্রাস দমন এবং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু মানবাধিকার বিষয়টি ছিল পুরোপুরি উপেক্ষিত।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে