মুগাবে হিরো নাকি ভিলেন

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৩ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ০০:৩৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

জিম্বাবুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে দীর্ঘ ৩৭ বছর দায়িত্ব পালনের পর অবশেষে চাপের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। তার এ সিদ্ধান্তে দেশবাসী খুশিÑ তা তাদের আনন্দ র্যালি দেখলেই বোঝা যায়। কিন্তু তার পদত্যাগে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে আসছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ তার প্রশংসা করছেন আবার কেউবা নিন্দায় মেতেছেন। কেউ তাকে হিরো হিসেবে দেখছেন, কেউ ভিলেন। এ নিয়ে বিবিসি এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

বলাবাহুল্য, জিম্বাবুয়ের ইতিহাসে রবার্ট মুগাবে এক বড় অধ্যায়। ১৯৮০ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতার পর থেকেই তিনি দেশটির শাসনকাজ পরিচালনা করে আসছেন। সঙ্গত কারণেই এই দীর্ঘ সময়ে যা অর্জিত হয়েছে, সেগুলো স্বীকার করতেই হবে। অন্যদিকে দীর্ঘ সময় শাসনের জন্য তাকে স্বৈরশাসকের তকমাও সইতে হবে।

স্বাধীনতার যুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া মুগাবে আফ্রিকার জাতির পিতাদের একজন। স্বাধীনতার জন্য একজন যোদ্ধা হিসেবে ক্ষমতায় এসে জিম্বাবুয়ের ‘নেলসন ম্যান্ডেলা’ হিসেবে খ্যাতি পেয়েছিলেন তিনি। ১৯৮১ সালে মুগাবে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্যও মনোনীত হয়েছিলেন। প্রতিবেশী দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৯৯৪ সালে তিনি জাতিগত বিদ্বেষ অবসানে দৃঢ় সমর্থক ছিলেন। জিম্বাবুয়ে-ব্রিটেন সম্পর্কোন্নয়নের জন্য তিনি নাইট উপাধিতে ভূষিত হন। কিন্তু আফ্রিকার অনেকে মনে করেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে তিনি জিম্বাবুয়ের অর্থনীতি, গণতন্ত্র ও বিচারব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। বিরোধীদের দমনে তিনি নৃশংসতার আশ্রয়ও নিয়েছেন।

গত সপ্তাহে সেনাবাহিনী দেশের ক্ষমতাগ্রহণ করলে মুগাবে চাপের মুখে পড়েন। অবশেষে গত মঙ্গলবার অভিশংসনের মুখে তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন। এ নিয়ে গিনির প্রেসিডেন্ট ও আফ্রিকান ইউনিয়নের (এইউ) প্রধান আলফা কোন্ডে বলেছেন, ‘এটি খুবই লজ্জার যে মুগাবেকে পেছনের দরজা দিয়ে বিদায় নিতে হলো।’ মুগাবের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তিনি ‘খুবই আনন্দিত’। তবে তিনি এও বলেছেনÑ জিম্বাবুয়েতে সেনা অভ্যুত্থানের বিষয়ে মুগাবেকে সতর্ক করেছিল এইউ। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স জানিয়েছে, মুগাবের আমলের শেষ কয়েক বছরে যারা দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন, সেসব মানুষের জন্য তার পদত্যাগ এক ধরনের বিজয়। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনের কোনো দুঃখ নেই। বরং তিনি বলেছেন, এটি জিম্বাবুয়ের জনগণের জন্য এক আশার মুহূর্ত।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে