advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
advertisement

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় : আবাসিক হলে দুই নীতি কেন?

জাকির হোসেন তমাল
৩ এপ্রিল ২০১৯ ২১:৪০ | আপডেট: ৩ এপ্রিল ২০১৯ ২১:৪০

রাজশাহীকে অনেকেই বলেন ‘শান্তির শহর’। আবার অনেকের কাছে এটা ‘শিক্ষার নগরী’। ‘সবুজ নগরী’ হিসেবেও রাজশাহীর খ্যাতি আছে। এই শহরের সুনাম আছে দেশে ও দেশের বাইরে। শান্ত এই নগরীর মাত্র ৪-৫ কিলোমিটার দূরেই মতিহারের সবুজ ক্যাম্পাস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকেই পড়তে আসেন এই ক্যাম্পাসে। দেশের বাইরের অনেক শিক্ষার্থীও এখানে রয়েছেন। শহরের টানেই হোক কিংবা ক্যাম্পাসের মায়ায়, অনেকেই এখানে পড়তে আসেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের হলের সংখ্যা অনেক কম। মাত্র ছয়টি। সেখানে ছাত্রদের হলের সংখ্যা ছাত্রীদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ১১টি ছাত্র হল রয়েছে ক্যাম্পাসটিতে। ছাত্রীদের হলের গণরুমে অনেকের সঙ্গে তারা কষ্টে থাকেন। এই হল জীবনকে ‘মানবেতর’ বললেও ভুল হবে না। এক থেকে দুই বছর সেই গণরুমে থাকার পর ছাত্রীরা কক্ষ পান। এটা ছাত্রদের হলের ক্ষেত্রে হয় না। কেননা, জানামতে ছেলেদের হলে এখনও গণরুম তৈরি করা হয়নি।

ছাত্রীরা এত কষ্ট করে গণরুমে থাকেন, কিন্তু তারা নতুন হলের জন্য কখনো প্রশাসনের কাছে দাবি জানাননি। এমনকি ছাত্রী নেত্রীরাও এ বিষয়ে কখনো মুখ খোলেননি। তারা এ বিষয়ে কখনো আন্দোলনও করেননি যে, তাদের আরও হল লাগবে।

সম্প্রতি এক ছাত্রীর লেখা থেকে জানা গেল, ছাত্রীদের হলের আরেকটি সমস্যার কথা। যে সমস্যায় পড়ছেন হলের প্রায় সব ছাত্রী। সমস্যাটি হলো, ‘ছাত্রীদের কোনো বান্ধবী বা আত্মীয়কে হলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। তাদের হল গেটে আটকিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি অনেক সময় অপমানও করা হয়!’

সত্যি যদি এমন নিয়ম ছাত্রীদের হলগুলোতে চালু থাকে, তাহলে এখনই এর প্রতিবাদ হওয়ার প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতাদের এ বিষয়ে এখনই আওয়াজ তোলা প্রয়োজন। কেননা, একজন আবাসিক ছাত্রীর কাছে তার আত্মীয় বা বান্ধবী আসতেই পারেন। তাকে তিনি কক্ষে নিয়ে যেতেই পারেন, যেমনটা ছাত্র হলগুলোকে করা হয়। এটাতে তো দোষের কিছু নেই! তাহলে ছাত্ররা তাদের বন্ধু বা আত্মীয়কে হলে প্রবেশ করানো বা হলে রাতে রাখতে পারলে ছাত্রীরা কেন পারবেন না?

এমন সুন্দর একটি ক্যাম্পাসে শুধু ‘অদক্ষতার কারণে’ ছাত্র ও ছাত্রীদের আবাসিক হলে দুই নিয়ম চালু করা হয়েছে, যা অত্যন্ত ঘৃণিত ও লজ্জার। ছাত্রীদের হলে লিখিত বা অলিখিত এই বিধান এখনই তুলে দেওয়া প্রয়োজন। যে বিধানে হল গেটেই আটকে যেতে হয় আবাসিক ছাত্রীদের বান্ধবী বা আত্মীয়দের।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবশ্যই দৃষ্টি দিতে হবে। অতি দ্রুত ছাত্রীদের হলে তাদের বান্ধবী বা আত্মীয়দের প্রবেশ করার অধিকার দিতে হবে। নারীর ক্ষমতায়নের দেশে এটাই সবার চাওয়া। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাও নারী-পুরুষের সমতায় বিশ্বাসী। তাহলে কেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আবাসিক হলে দ্বি-মুখী আচরণ করছে?

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় রয়েছে, তাদের সময় যদি এই ক্যাম্পাসে ছাত্রীরা তাদের বান্ধবী বা অত্মীয়ের কাছে অপমানিত হন, তাহলে অন্য সময় কী হতে পারে-একবার ভাবুন তো!

জাকির হোসেন তমাল : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ও সাংবাদিক