advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
advertisement

বনলতার ‘দুঃখ’ বাধ্যতামূলক নাস্তা  

জাকির হোসেন তমাল
১ মে ২০১৯ ২০:২২ | আপডেট: ২ মে ২০১৯ ১৪:০০

রাজশাহী টু ঢাকা বিরতিহীন ট্রেন চালুর ঘোষণার পর আনন্দে ভাসছেন ‘সবুজনগরীর’ বাসিন্দারা। ছয় ঘণ্টার রেলপথ চার ঘণ্টায় নামিয়ে আনার ঘোষণায় বেশ উদ্বেলিত পদ্মাপাড়ের মানুষ। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এটা রাজশাহীবাসীর জন্য তার উপহার।

সরকার প্রধান বলেন, ‘অল্প খরচে আরামদায়কভাবে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য রেলের নেটওয়ার্ক উন্নত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। সামনে ঈদ ও আমের কথা মাথায় রেখে এই ট্রেন উদ্বোধন করছি।’    

এই ট্রেনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। সেই ট্রেনে উঠে যাত্রীরা শান্তির শহরে আসা-যাওয়া করবেন, এটাই তাদের ইচ্ছা। কিন্তু সম্প্রতি ট্রেনের খাবার নিয়ে অনেকেই নানা ধরনের কথা বলছেন।

৯৪৮ আসনের ইন্দোনেশিয়া থেকে নিয়ে আসা ট্রেনটিতে রয়েছে মোট ১২টি নতুন বগি। এর মধ্যে শোভন চেয়ারের সাতটি বগিতে আসন রয়েছে ৬৬৪টি। এ ছাড়া দুটি এসি বগিতে আসন রয়েছে ১৬০টি। বনলতা ট্রেনটির ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকার খাবারসহ এসি শ্রেণির ৮৭৫ টাকা এবং শোভন শ্রেণির জন্য ৫২৫ টাকা। 

কেন বাধ্যতামূলক নাস্তা?

ট্রেনে বিভিন্ন শ্রেণির যাত্রী চলাচল করেন। ট্রেনে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা যাত্রী হলেও ভাড়া নির্ধারণের সময় সেটা কম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেটি করলে ভাড়ার সঙ্গে নাস্তাবাবদ ঢালাওভাবে সবার জন্য ১৫০ টাকা বাধ্যতামূলক করা হতো না। নাস্তা খাওয়া বাধ্যতামূলক কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। হ্যাঁ, অনেকেই এক্ষেত্রে বিমান যাত্রা বা বিদেশের ট্রেন যাত্রার তুলনা করতে পারেন। সেখানে নাস্তা বাধ্যতামূলক হলে কেন ট্রেনে করা যাবে না?

বনলতা এক্সপ্রেস রাজশাহীবাসীর দীর্ঘ প্রতিক্ষার ফসল। তাই এই ট্রেনে যেন সব ধরনের মানুষ যাতায়াত করতে পারেন, সেটা অনেকের দাবি। কিন্তু সেই দাবি অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্ব পাচ্ছে না। কেননা, নন-এসি বাসে রাজশাহী থেকে ঢাকায় আসতে ৫০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। সেখানে ৫২৫ টাকা ব্যয় করে অনেকেই বনলতার শোভনে আসতে চাইবেন না। বিশেষ করে যারা খেটে খাওয়া মানুষ, কিংবা নিম্ন আয়ের মানুষ।

বনলতা এক্সপ্রেস চালু হওয়ায় বাস মালিকরা স্বভাবতই নারাজ। তারা কোনোভাবেই ট্রেনের লাভ সহ্য করতে চান না। তারা সবসময় ট্রেনের লোকসান হোক, এটাই চান। যাত্রীরা বাসে চলাচল করবে এটাই চাওয়া তাদের। সে ক্ষেত্রে বনলতার মতো দ্রুতগামী ট্রেন চালু হওয়ায় মানুষের বাসের প্রতি চাহিদা অনেকটাই কমবে। এটা যেমন সত্যি, তেমনি নাস্তা বাধ্যতামূলক করে ১৫০ টাকা নেওয়ায় কম আয়ের যাত্রীরা পারতপক্ষে ওই ট্রেন এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন। এতে করে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো ক্ষতির মুখে পড়তে পারে এই ট্রেন। কিন্তু শুধু নাস্তাটা বাধ্যতামূলক না করলে যাত্রীদের জন্য যে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে সেটা ঠিক ছিল।      

ঢাকা টু রাজশাহী অন্য ট্রেনে যাতাযাত করতে শোভন আসনে যেখানে লাগে ৩৪০ টাকা, সেখানে ৫২৫ টাকা একটু বেশি বৈকি। সেই টাকা চাইলেই কমানো যেত, অন্তত শোভন যাত্রীদের ক্ষেত্রে।

কেমন চলছে বনলতা...?

গত কয়েক দিন ধরে বেশ কয়েকজন বনলতা এক্সপ্রেসের যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানলাম, সেবার মান অনেক ভালো। তুলনামূলক ফাঁকা ট্রেন। কোনো ঝামেলা নেই। সেই সঙ্গে যাত্রী তুলনামূলক কম। অনেক সিট ফাঁকা থাকছে। এর কারণ প্রধানত বিরতিহীন হওয়া এবং ভাড়ার সঙ্গে নাস্তার টাকা। অথচ, যে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে তা মোটেও বেশি নয়, বিশেষ করে সময়ের দিক বিবেচনা করলে। কিন্তু ভাড়ার সঙ্গে বাধ্যতামূল নাস্তার জন্য বাড়তি ১৫০ টাকা অনেকের জন্য বেশি হয়ে গেছে। সেই টাকা কারা পাবেন, সেটা পরিষ্কার করা দরকার। সেই টাকা কি আদৌ সরকারি কোষাগারে যাবে, নাকি সুবিধাভোগীদের থলিতে? সেটা জনগণকে জানানো দরকার।

রাজশাহী থেকে ঢাকা যাত্রায় অন্য ট্রেনগুলোতে যেখানে যাত্রীরা টিকেট পান না, অনেক যাত্রী দাঁড়িয়ে যাতায়াত করেন। সেখানে বনলতার মতো সুবিধাজনক ট্রেনে কেন যাত্রীরা যাবেন না, তা এখনই বের করা দরকার। দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

যদি সত্যিই শুধু বাধ্যতামূলক নাস্তার টাকার কারণে যাত্রীদের অনীহার কারণ হয়ে দাঁড়ায় বনলতা, তাহলে এখনই ভাবা দরকার। যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন এর সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে। বাধ্যতামূলক নাস্তাটা বনলতার জন্য আগামীতে ‘দুঃখ’ হিসেকে ধরা দেয় কি না, সেটা ভেবে দেখা দরকার।

জাকির হোসেন তমাল : সাংবাদিক