advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
advertisement

ঈদের আগেই গাড়ি উঠছে পিসি ও পটিয়া বাইপাস সড়কে

হামিদ উল্লাহ,চট্টগ্রাম
১৬ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৬ মে ২০১৯ ০৯:২০

ঈদের আগেই চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম ব্যস্ত দুটি সড়কের কাজ শেষ করে যানবাহন চলাচল শুরু করতে চায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এর মধ্যে ছয় লেনের পোর্ট কানেকটিং সড়কের একপাশ গাড়ি চলাচলের জন্য পুরোপুুরি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র। এ সড়ক দিয়েই চট্টগ্রাম বন্দরের সিংহভাগ আমদানি-রপ্তানি পণ্য বহন করা হয়।

সড়কটিতে সংস্কার কাজ শুরুর পর থেকে চট্টগ্রাম শহরে পণ্যবাহী গাড়ির আনাগোনা চলছে দিনে-রাতে। এ ছাড়া দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে গতি আনতে ঈদের আগেই নবনির্মিত পটিয়ার পাঁচ কিলোমিটার বাইপাস সড়কও খুলে দেওয়া হবে। বর্তমানে সড়কের পিচ ঢালাসহ শতভাগ কাজ শেষ হয়েছে। ট্রাফিক সিগন্যালসহ শেষ মুহূর্তে কিছু রঙের কাজ চলছে। জাইকার অর্থায়নে এ বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হয়।

১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নগরীর বন্দর এলাকার নিমতলী থেকে হালিশহরের ওয়াপদা পর্যন্ত ছয় লেনের পোর্ট কানেকটিং সড়ক এবং আগ্রাবাদ থেকে বড়পোল পর্যন্ত চার লেনের আগ্রাবাদ অ্যাকসেস সড়ক সংস্কার করছে। সড়কের দুপাশে প্রশস্ত নালা নির্মাণ এবং স্বাভাবিক উচ্চতার চেয় প্রায় তিন ফুট উঁচু করে সড়ক দুটির কাজ শুরু হয় প্রায় দেড় বছর আগে। ব্যস্ত এ সড়কের সংস্কারের কারণে গত দেড় বছরে এখানকার বেশিরভাগ ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়। বন্দরে পণ্যবাহী ট্যাংকলরি ও কনটেইনার বহনের ক্ষেত্রেও দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। বর্ষার পানিতে আগ্রাবাদ ও হালিশহরের নিচু এলাকা ডুবে থাকায় সড়কটির সংস্কার অনিবার্য হয়ে ওঠে।

চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, আগ্রাবাদ অ্যাকসেস রোড ও পোর্ট কানেকটিং রোড জাইকার অর্থায়ন ও তত্ত্বাবধানে সংস্কার করা হচ্ছে। কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কাজ করা হচ্ছে সড়ক দুটির। ফলে কাজের গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে পড়ে। তবে এ ঈদের আগেই আমরা সড়ক দুটির একপাশের পিচ ঢালার কাজ শেষ করে জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেব। অন্য পাশের কাজও বর্ষার আগে শেষ হবে। চলতি মে মাসের মধ্যেই সড়ক দুটির নির্মাণ ও সংস্কার কাজ শতভাগ শেষ হওয়ার কথা।

অভিযোগ ওঠে, ঠিকাদারের কাজের গতি ও দক্ষতা কম। ফলে সিটি করপোরেশন যে গতিতে কাজ করতে চায়, তা করা সম্ভব হয়নি। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রকল্পের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারাই ঠিক করে দেন। তারাই প্রকল্পের কার্যাদেশ দেন। সিটি করপোরেশন কেবল তদারকি করে। তবে সিটি করপোরেশনের অভ্যন্তরে হওয়ায় এ কাজের ভালো-মন্দের দায় করপোরেশনের ওপরই বর্তায়। অন্যদিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে আসন্ন ঈদে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পটিয়ার ইন্দরপুল থেকে চন্দনাইশ সীতান্ত পর্যন্ত নির্মিত প্রায় সাড়ে পঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ বাইপাস সড়ক দিয়ে যান চলাচলের অনুমতি সেড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ।

গত এপ্রিলেই সড়কটির মূল নির্মাণকাজ শেষ হয়। এর র ওই সড়ক দিয়ে মাইক্রোবাস, সিএনজি অটোরিকশসহ অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র যানবাহন চলাচল করতে থাকে। সড়কটিতে কোনো ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করা হয়নি।

এ অবস্থায় দুটি সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হলে সড়কটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এই বাইপাস সড়ক উদ্বোধন করার কথা। কিন্তু তিনি হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় সেটি আর উদ্বোধন করা হয়নি। সওজের কর্মকর্তারা এখনো আশা করছেন, মন্ত্রী সুস্থ হয়ে এসে নতুন নির্মিত সড়কটি উদ্বোধন করবেন। তবে ঈদের আগে সেটা সম্ভব না হলে পটিয়া অঞ্চলের যানজট ঠেকাতে সড়কটি খুলে দেওয়া হবে।

দোহাজারী অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদ হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, পটিয়া এলাকায় যদি যানজট বেড়ে যায়, তা হলে বাইপাস দিয়ে গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। বর্তমানে এটি যান চলাচলের জন্য পুরোপুরি তৈরি। সিগন্যাল সংকেত, স্পিড ব্রেকার নির্মাণসহ শেষ মুহূর্তের কিছু টুকটাক কাজ বাকি আছে।