advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
advertisement

দুদকের পরামর্শ আমলে নিন

১৬ মে ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ১৬ মে ২০১৯ ০৯:২১

সেবা খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম স্বাস্থ্যসেবা। দেশের বেশিরভাগ মানুষ এখনো সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। অথচ অতিজরুরি এ খাতে অনিয়মের যেন অন্ত নেই। দুর্নীতি এটিকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ২০১৮ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির ১১টি উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে।

এসব বন্ধে করা হয়েছে ২৭ দফা সুপারিশ। প্রতিবেদনটি ইতোমধ্যেই রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে হস্তান্তর করেছেন দুদক চেয়ারম্যান। প্রতিবেদনে উল্লিখিত দুর্নীতির উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি সংক্রান্ত; প্রত্যন্ত এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনে চিকিৎসকদের অনাগ্রহ, প্রশিক্ষণার্থী বাছাইয়ে নীতিমালা অগ্রাহ্য; একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন থাকায় স্থানীয় দালালদের সমন্বয়ে সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তোলা; উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে যন্ত্রপাতিচালনায় দক্ষ জনবল নিয়োগ না হলেও যন্ত্রপাতি সরবরাহ; যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও মেরামত ব্যয়ের নামে অর্থ আত্মসাৎ; প্রাইভেট হাসপাতালে রোগীদের নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য; সরকারি ওষুধ রোগীদের না দিয়ে বিক্রি করে দেওয়া; অপ্রয়োজনীয় ও নিম্নমানের যন্ত্রপাতি ক্রয় ইত্যাদি।

অস্বীকার করার উপায় নেই, দুর্নীতি হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অগ্রগতি ও দারিদ্র্য বিমোচনের প্রধান অন্তরায়। স্বাস্থ্য খাতসহ দেশে বিরাজমান দুর্নীতির বিস্তৃতি রোধ করতে হলে এমন আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা উচিত, যাতে দুর্নীতিবাজরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে। দেশের গরিব জনগণ টাকার অভাবে উন্নত চিকিৎসা নিতে ব্যর্থ হবে।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য খাতের কতিপয় ব্যক্তি দুর্নীতির মাধ্যমে ফুলে-ফেঁপে উঠবে, এটি হতে পারে না। আমরা মনে করি এ খাতকে অবিলম্বে দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে দুদকের পরামর্শগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন ও মন্ত্রণালয়ের অব্যাহত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।