advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
advertisement

পাচারচক্রের হোতা ৩ ভাইসহ ৫ জন

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
১৬ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৬ মে ২০১৯ ০৯:২৮

লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে ইতালিতে অনুপ্রবেশের উদ্দেশে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির শিকার বাংলাদেশিরা যে মানব পাচারচক্রের খপ্পরে পড়েছিলেন, নোয়াখালীর তিন ভাই সেই চক্রের হোতা। এ চক্রে মাদারীপুরের দুই লোকও রয়েছে।

গতকাল বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী একেএ মোমেন তার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানান, নৌডুবির পর জীবিত উদ্ধার করা বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পেয়েছেন তিউনিসিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মকর্তারা। অভিযুক্তদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বললেও তাদের পরিচয় প্রকাশ করেননি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি আরও জানান, এখনো খোঁজ মেলেনি এমন ৩৯ বাংলাদেশির একটি তালিকাও তৈরি করা হয়েছে উদ্ধারকৃতদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে। নিখোঁজদের মধ্যে ২২ জনই সিলেট বিভাগের।

তারা হলেন-নাজির আহমেদ ও মৌলানা মাহবুবুর রহমান-সুনামগঞ্জ; আবদুল আজিজ, আহমদ, আয়াজ আহমেদ ও লিটন আহমেদ-ফেঞ্চুগঞ্জ, সিলেট; রুকন আহমেদ, মমিন আহমেদ, দিলাল আহমেদ ও খোক-বিশ্বনাথ, সিলেট; আফজাল হোসেন ও কাশেম-গোলাপগঞ্জ, সিলেট; জিল্লুর রহমান-বাংলাবাজার, সিলেট; শোয়েব ও সুজন আহমেদ-বিয়ানীবাজার, সিলেট; সাজু, ইন্দ্রজিত ও কামরান আহমেদ মারুফ-সিলেট; জুয়েল ও ফাহাদ আহমেদ-বড়লেখা, মৌলভীবাজার; হাফিজ শামিম আহমেদ-মৌলভীবাজার; মুক্তাদির-হবিগঞ্জ; অন্যরা হলেন-সজল ও সাব্বির-ভৈরব, কিশোরগঞ্জ; আলি আকবর ও জাকির হাওলাদার-শিবচর, মাদারীপুর; মনির-শরীয়তপুর; শাহেদ ও নাঈম-রাজৈর, মাদারীপুর; পারভেজ ও রাজিব-শরীয়তপুর; জালালউদ্দিন-কিশোরগঞ্জ; স্বপন-মাদারীপুর; জাহিদ-নরসিংদী; আবদুর রহিম-নোয়াখালী; নাদিম ও নাসির আহমেদ-চাটখিল, নোয়াখালী এবং সজিব-মাদারীপুর।

জানা গেছে, সংঘাতময় লিবিয়ার জুয়ারা থেকে অবৈধভাবে ইতালিতে যাওয়ার জন্য গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুটি নৌকায় রওনা হন দেড় শতাধিক যাত্রী।

এ দলে বাংলাদেশি ছাড়াও মিসরের বেশকিছু নাগরিক ছিলেন। এর মধ্যে ৫০ আরোহী নিয়ে একটি নৌকা তীরে ভিড়তে সক্ষম হয়। কিন্তু শুক্রবার ভোররাতে তিউনিসিয়া উপকূলে একটি নৌকার যাত্রীদের অন্য নৌকায় তোলার পর যাত্রীর ভারে ডুবে যায় সেটি। তিউনিসিয়ায় বাংলাদেশের দূতাবাস না থাকায় এ ঘটনার পর এর পার্শ্ববর্তী লিবিয়া থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা তিউনিসিয়ায় যান।

তিউনিসিয়া থেকে সেই কর্মকর্তার পাঠানো বার্তার তথ্য উদ্ধৃত করে গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, উদ্ধার ১৪ জনের মধ্যে ৪ জন তিউনিসিয়ার একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে দুজনের শরীরের বেশিরভাগই পুড়ে গেছে। কারণ তারা তেলের ড্রাম ধরে ভূমধ্যসাগরে সাত থেকে আট ঘণ্টা ভেসে ছিলেন। অন্য দুজন আঘাতের কারণে আহত হয়েছেন। অবশিষ্ট ১০ জন তিউনিসিয়ায় রেড ক্রিসেন্টের আশ্রয় শিবিরে অবস্থান করছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের এসব নাগরিক দুবাই, শারজা, আলেকজান্দ্রিয়া হয়ে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে পৌঁছান। সেখানে তাদের বন্দি করে রাখে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা। এ সময় তাদের মারধর করে বাংলাদেশে থাকা তাদের স্বজনদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ আদায় করা হয়েছে।