advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
advertisement

অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে ১৭ নেতার বিরুদ্ধে

বিশ^বিদ্যালয় প্রতিবেদক
১৬ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৬ মে ২০১৯ ০৯:১৩

ছাত্রলীগের নতুন গঠিত ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে যারা বিতর্কিত, তাদের মধ্যে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ জনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী, বিবাহিত, অছাত্র, মামলার আসামিসহ নানা অভিযোগে তারা অভিযুক্ত। এসব অভিযোগ তথ্যপ্রমাণ সাপেক্ষে প্রমাণিত হলে তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বহিষ্কার করে সে সব পদ শূন্য ঘোষণা করা হবে এবং পদবঞ্চিতদের এসব শূন্য পদে স্থান দেওয়া হবে।

গতকাল বুধবার মধ্যরাতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। পাশাপাশি বিশৃঙ্খলাকারীদের প্রতিও কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, প্রতিবাদের ভাষা হতে হবে গণতান্ত্রিক। যারা সংগঠনে বিশৃঙ্খলা করেছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।

অভিযুক্ত ১৭ জন হচ্ছেন-সহ-সভাপতি তানজিল ভূঁইয়া তানভীর, সুরঞ্জন ঘোষ, আরেফিন সিদ্দিক সুজন, আতিকুর রহমান খান, বরকত হাওলাদার, শাহরিয়ার বিদ্যুৎ, মাহমুদুল হাসান তুষার, আমিনুল ইসলাম বুলবুল, তৌফিকুল হাসান সাগর, সাদিক খান, সোহানী হাসান তিথি, মুনমুন নাহার বৈশাখী, দপ্তর সম্পাদক আহসান হাবীব, উপ সম্পাদক রুশি চৌধুরী, আফরিন লাবনী।
ইতিপূর্বের খবরে বলা হয়, ছাত্রলীগের কমিটিতে যারা বিতর্কিত, তাদের তালিকা প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছেন পদবঞ্চিতরা।

তারা বলছেন, নতুন কমিটিতে যেসব অপরাধী, বিতর্কিত ও বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে অভিযুক্ত স্থান পেয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। দ্রুতই তাদের তালিকা প্রকাশ করা হবে।

এ বিষয়ে পদবঞ্চিতদের অন্যতম ও সোহাগ-জাকির কমিটির প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু বলেন, আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছি। যারা বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে অভিযুক্ত এবং বিতর্কিত আমরা তাদের তালিকা তৈরি করছি। দ্রুত তা সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দেওয়া হবে। এদের সংখ্যা শতাধিক বলে জানান তিনি।

এদিকে সদ্য ঘোষিত ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে ‘বিতর্কিত’ আখ্যা দিয়ে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করার সময় হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন সংগঠনটির পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। গতকাল বুধবার দুপুরে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এ মানববন্ধন করেন তারা। এ সময় পদবঞ্চিত ও পদোন্নতি না পাওয়া নেতাকর্মীরা অবিলম্বে নতুন কমিটি বিলুপ্ত করে ‘যোগ্যদের’ স্থান দিয়ে পুনরায় কমিটি দেওয়ার দাবি জানান।

পদবঞ্চিতদের ওপর ওই হামলার ঘটনাকে ছোট ও সাধারণ আখ্যা দেওয়ায় মানববন্ধনে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের কড়া সমালোচনা করা হয়। শামসুন নাহার হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নিপু ইসলাম তন্বী বলেন, দুঃখ লাগছে ছাত্রলীগের নিবেদিত প্রাণ হিসেবে মধুর ক্যান্টিনের মতো জায়গায় কিছু ছোট ও বড় ভাই দ্বারা আমরা নির্যাতিত হয়েছি। এর পর কোনো মা-বাবা ছাত্রলীগ করার জন্য তাদের সন্তানকে পাঠাবে না। আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয়দের কাছ থেকে আমরা কবে বিবৃতি পাব, ছাত্রলীগের নারী নেত্রীদের ওপর সত্যিকার অর্থে বিশাল রকমের হামলা হয়েছে।

রোকেয়া হলের সভাপতি বিএম লিপি আক্তার বলেন, যাদের কমিটিতে রাখা হয়েছে, তাদের ২২ জন আগে কোনো পদে ছিল না। অথচ তাদের পদ দেওয়া হয়েছে। আমাদের ছোট পদ দেওয়া হয়েছে বা আমরা পদ না পাওয়ায় আন্দোলন করছি এমন না। বরং কমিটিতে মাদক মামলার আসামি, বিবাহিত, অছাত্র, ছাত্রদল, রাজাকারের সন্তানদের পদ দেওয়ায় আমরা আন্দোলন করছি।

গত সোমবার পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশের পর ওই হামলার ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে সময় বেঁধে দেওয়া হয় ৪৮ ঘণ্টার। তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে কমিটির প্রধান ও নতুন ঘোষিত কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, আমরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্তের ফল প্রকাশের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমরা কাজ শুরু করেছি। যাদের সঙ্গে কথা বলার তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। গুরুত্বসহকারে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।