advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
advertisement

গরু-ছাগল ঢুকে পড়ছে কারখানায়, সেখানেই তৈরি হচ্ছে সেমাই

এম এ লতিফ চাঁদপুর
১৬ মে ২০১৯ ২১:২৪ | আপডেট: ১৭ মে ২০১৯ ০০:৪০

আর কয়েকদিন পরেই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ঈদকে সামনে রেখে চাঁদপুরের বিভিন্ন কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে সেমাই। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নোংরা পরিবেশে কাজ করছেন কারিগররা। অস্বাস্থ্যকর ও মানহীণ এসব সেমাই ছড়িয়ে পড়ছে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ছাড়াও পাশের বিভিন্ন জেলায়।

চাঁদপুর শহরের পুরানবাজার এলাকায় অবস্থিত কারখানাগুলো ঘুরে দেখা যায়, ঘর্মাক্ত শরীর ও কোনো প্রকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ছাড়াই কারিগররা সেমাই তৈরির কাজ করে যাচ্ছেন। ময়দার খামির তৈরির পাশাপাশি ফুকছেন বিড়ি, সিগারেট। স্যাতস্যাতে পরিবেশে কাজ করছেন কারিগররা। গরম বেশি থাকায় শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে ঘাম বের হয়। যার অনেকটাই মিশছে সেমাই তৈরির ময়দার খামিরে।

এ ছাড়া গোয়াল ঘরের পাশেই তৈরি করা হয়েছে অনেক কারখানা। গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন প্রাণী যেকোনো সময় ঢুকে পড়ছে কারখানায়। নিম্নমানের ময়দা দিয়ে তৈরি করা এসব সেমাই ভাজা হচ্ছে দীর্ঘদিন ব্যবহৃত পাম ওয়েল দিয়ে। কোনো প্রকার ঢাকনা ছাড়াই রেখে দেওয়া হচ্ছে খোলা স্থানে। তৈরিকৃত এসব সেমাই খেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, প্রতিদিন চাঁদপুরের বিভিন্ন কারখানায় তৈরি হচ্ছে প্রায় ৫০ মণ সেমাই। এসব সেমাই চরাঞ্চলসহ চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এবং পাশের কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, শরীয়তপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। ঈদের সময় ঘনিয়ে আসায় চাহিদাও বাড়ছে এসব সেমাইয়ের। ঈদের আগে সেমাই তৈরি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে জানান কারখানা মালিকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই জন সেমাই তৈরির কারিগর জানান, সাধারণ সময়ের চেয়ে ঈদকে ঘিরে সেমাইয়ের চাহিদা বৃদ্ধি পায় কয়েকগুণ বেশি। বাড়তি চাহিদা পূরণে দিনরাত কাজ করতে হচ্ছে তাদের। সেমাই তৈরির পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হলেও তারা চেষ্টা করেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে কাজ করতে।

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কথা স্বীকার করে নিয়ে পুরানবাজারের পাঁচ তারা সেমাই কারখানার মালিক মনসুর মিজি বলেন, ‘আমারা চেষ্টা করি মানসম্মতভাবে সেমাই তৈরি করতে। কিন্তু বর্তমানে গরম বেশি পড়ায় কারিগররা হাত গ্লাভস, মুখের মাক্স ব্যবহার করছে না। একটি ছোট জায়গায় ১৫ থেকে ২০ জন শ্রমিক কাজ করলে কিছুটা ময়লা হবেই।’

চাঁদপুর জেলা কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক মোশারেফ হোসেন বলেন, ‘অসাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই তৈরা করা কোনো ভাবেই উচিত নয়। ঈদকে সামনে রেখে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি মুনাফার লোভে নোংরা পরিবেশে মানহীন সেমাই তৈরি করে। এসব সেমাই খেয়ে মানুষ উদরাময়সহ বিভিন্ন পেটের পীড়ায় ভুগছে। কঠোর হস্তে এই সব কারখান বন্ধ করতে আমি প্রশাসনের নিকট দাবি জানাই।’

চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্টেট (এডিএম) আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, ‘রমজানের শুরু থেকেই সারা দেশের ন্যয় চাঁদপুরেও ভেজাল বিরোধী অভিযান চলছে। আমরা সম্প্রতি অভিযোগ পেয়েছি চাঁদপুরের কিছু সেমাই কারখান নিম্নমানের উপাদান দিয়ে নোংরা পরিবেশে সেমাই তৈরি করছে। আমরা শিগগিরই এসব কারখানায় অভিযান চালাব এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’