advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
advertisement

গরুকে মুগডাল খাওয়াতে বাধা, পিটিয়ে নারীকে যখম

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
১৬ মে ২০১৯ ২১:৩৮ | আপডেট: ১৭ মে ২০১৯ ০০:৪২
হামলায় আহত মাহিনুর বেগম

গরুকে মুগডাল খাওয়াতে বাধা দেওয়ায় প্রতিবেশী সুলতান মৃধা ও পরিবারের সদস্যরা ‍মিলে মাহিনুর বেগম নামের এক নারীকে পিটিয়ে মাথা ও হাতে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় আমতলী উপজেলার পূর্ব কুকুয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় পুলিশ গতকাল বুধবার রাতে সুলতান মৃধা ও তার ছেলে মানসুর মৃধাকে গ্রেপ্তার করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পূর্ব কুকুয়া গ্রামের আবদুর রশিদ মাতুব্বর ৭০ শতাংশ জমিতে মুগডাল চাষ করে। ওই জমি প্রতিবেশী সুলতান মৃধার বাড়ির কাছে। আবদুর রশিদ মাতুব্বরের অভিযোগ, সুলতান মৃধা ও তার ছেলেরা জোড় করে ওই ডাল ক্ষেতে গরু বেঁধে ডাল নষ্ট করছে। নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা তা শুনছে না। বুধবার সন্ধ্যায় আবদুর রশিদ মাতুব্বরের স্ত্রী মাহিনুর বেগম ডাল ক্ষেতে গরু বাঁধা দেখে প্রতিবাদ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয় সুলতান মৃধা, তার দুই ছেলে মানসুর মৃধা, সাইফুল মৃধা ও স্ত্রী নিলুফা বেগম। এক পর্যায় তারা মাহিনুরকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মাথা, হাত ও হাটু গুরুতর জখম করে। স্বজনরা উদ্ধার করে তাকে ওইদিন রাতে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।

এ ঘটনায় মাহিনুর বেগম বাদী হয়ে বুধবার রাতেই সুলতান মৃধা, তার ছেলে মানসুর মৃধা, সাইফুল মৃধা, তার স্ত্রী নিলুফা বেগম ও মেয়ে জান্নাতিকে আসামি করে আমতলী থানায় মামলা দায়ের করেছে। ওই রাতেই পুলিশ সুলতান মৃধা ও মানসুর মৃধাকে গ্রেপ্তার করে।

আজ বৃহস্পতিবার পুলিশ গ্রেপ্তারকৃতদের আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করেছে। আদালতের বিচারক মো. সাকিব হোসেন তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নিখিল চন্দ্র বলেন, ‘মাহিনুর বেগমের মাথায় ছয় সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্য ও এক সেন্টিমিটার প্রস্থ কাটার আঘাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা জখমের চিহৃ রয়েছে। তার মাথায় সেলাই শেষে ব্যন্ডেজ করা হয়েছে।’

আহত মাহিনুর বেগম বলেন, ‘মোরা গরিব মানু। মানের জমি চইয়্যা খাই। সুলতান মৃধার বাড়ির পাশে মুই ডাইল দিছি। ওই ডাইল প্রত্যেক দিন হ্যার পোলাপান গরু বাইন্দা খাওয়াই হ্যালায়। মুই এইয়্যা বাঁধা দিছি হেইতে মোরে মারছে। মুই এইয়্যার বিচার চাই।’

এ বিষয়ে জানতে সুলতার মৃধার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও কেউ ফোন ধরেনি।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল বাশার। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।’