advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
advertisement

সরকার ও সমাজের যৌথ ভূমিকা প্রয়োজন

১৭ মে ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ১৬ মে ২০১৯ ২৩:৩৯
বাংলাদেশে দিন দিন ধর্ষণের ঘটনা মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৃদ্ধা এবং শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না। চলন্ত বাস কিংবা আপন নিবাসও নারীর জন্য আর নিরাপদ নয়। আবার ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনাও বেড়ে চলেছে। বালকরা শিকার হচ্ছে বলাৎকারের। তুলনায় বিচার ও অপরাধীদের শাস্তির হার অত্যন্ত কম। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, চলতি মাসের প্রথম আট দিনে ৪১ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এটা একটি সমাজের চরম অবক্ষয়ের মারাত্মক নজির। সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে আইন ও সালিশ কেন্দ্র প্রণীত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ২০১৮ সালে দেশে ধর্ষণের ঘটনা ছিল ৭৩২টি। চলতি বছর প্রথম চার মাসেই এ সংখ্যা ৩৫৪-তে পৌঁছেছে। আসকের পরিসংখ্যানে আরও জানা যাচ্ছে, সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের শিকার হয় ১৩ থেকে ১৮ বছরের মেয়েরা। গত বছর ১১৬ কিশোরী ধর্ষিতা হয়েছিল। ৭ থেকে ১২ বছরের শিশু ধর্ষিত হওয়ার ঘটনা ছিল ১০৪টি। গত পাঁচ বছরের ধর্ষণের একটি ভয়ঙ্কর সামাজিক চিত্রও পাওয়া যাচ্ছে। ২০১৪ সালে মোট ধর্ষণ ৭০৭টি। এর মধ্যে একক ধর্ষণের সংখ্যা ৩৮৭টি, গণধর্ষণ ২০৮টি, ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যা ৬৮, ধর্ষণের পর আত্মহত্যা ১৩ আর ধর্ষণচেষ্টা ৮১। ২০১৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত পাঁচ বছরে মোট ধর্ষণের সংখ্যা ৩৮২৭। ধর্ষণের পর হত্যার সংখ্যা ২৭৫, আত্মহত্যা ৩১। তিন শতাধিক হত্যার কী বিচার হয়েছে? আর ধর্ষণের জন্য যে কঠোর শাস্তির বিধান হয়েছে তারই বা কী হলো? আমাদের মনে হয়, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন আইনের যথার্থ প্রয়োগ ও সুবিচার নিশ্চিত করতে হলে প্রথম দরকার সংশ্লিষ্ট পুলিশ, উকিল ও বিচারকদের মানসিকতা পরিবর্তনের লক্ষ্যে উদ্বুদ্ধকরণ। পুরুষশাসিত এ সমাজ বরাবরই নারী নির্যাতন, নারীর প্রতি উপেক্ষা, বঞ্চনা ও লাঞ্ছনায় অভ্যস্ত। নারীকে পদে পদে অপদস্থ ও অধীনস্থ রাখতে এবং দেখতে অভ্যস্ত। এই মানসিকতা নারীর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন বন্ধের পথে প্রধান অন্তরায়। তা ছাড়া ভোগবাদী সমাজে নারীকে পণ্যের মতো উপস্থাপন, যৌন উত্তেজক উপাদানের ছড়াছড়িও তরুণদের ভুল পথে ধাবিত করছে। আবার শৈশব থেকে ছেলেশিশুরা খেলাধুলা, প্রাণবন্ত সংস্কৃতিচর্চাসহ সুস্থ বিনোদন থেকে বঞ্চিত থাকছে। বরং তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য মাধ্যমে তারা হিংসা, যৌন উত্তেজনা ও স্থূল শরীরী বিনোদনের পথে প্রলুব্ধ হচ্ছে। পরিবারে, পাড়ায়, সমাজে যথার্থ অভিভাবকত্বের ঘাটতি রয়েছে। শিশু-কিশোর বয়সে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্য আদর্শ পরিবেশ ও সঠিক শিক্ষা সম্পর্কেও আমাদের দেশে চরম বিভ্রান্তি দেখা যায়। সব মিলিয়ে দিন দিন সমাজে অসহিষ্ণুতা, শক্তি প্রদর্শন, যৌন সম্ভোগ ইত্যাদি প্রবণতা বাড়ছে। এর শিকার হচ্ছে সব বয়সের কন্যা ও নারীরা। এ চরম অবক্ষয় থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সরকারের পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। ফলে সরকার এবং সমাজের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাব আমরা। প্রত্যেককে পরিবার ও সমাজে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।