advertisement
advertisement
advertisement

মেঘনাঘাটে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র বানাচ্ছে ভারতের রিলায়েন্স

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০১:৪১ এএম
advertisement

নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটে লিকুইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) ও প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করবে রিলায়েন্স বাংলাদেশ এলএনজি অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড। গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর আবদুল গনি রোডে অবস্থিত বিদ্যুৎ ভবনের মুক্তি হলে এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। আর চুক্তি স্বাক্ষরের ৩৬ মাসের মধ্যে ৭১৮ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শেষ হবে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বলছে, এ কেন্দ্র থেকে প্রতিইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়বে ৭ দশমিক ৩১২ ইউএস সেন্ট বা ৫ দশমিক ৮৫ টাকা (প্রতিডলার ৮০ টাকা হিসাবে)। ২২ বছর ধরে এখান থেকে বিদ্যুৎ কিনবে সরকার। তবে ডলারের রেট বাড়লে প্রতিইউনিট বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাবে। সম্প্রতি ইউনিক গ্রুপের সঙ্গে প্রথম এলএনজিচালিত

advertisement

advertisement 4

বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণচুক্তি করে পিডিবি।

পিডিবি সূত্রে জানা যায়, পেট্রোবাংলার কাছ থেকে গ্যাস নিয়ে এ কেন্দ্র চালানো হবে। তবে ৭ দশমিক ২৬২৫ ডলার (এমএমবিটিইউ) ধরে এলএনজির দর নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ এখনই অনেক বেশি দর পড়ছে। আবার ডলারের রেটও বর্তমানে ৮৫ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। সে কারণে চুক্তিতে নির্ধারিত রেটের চেয়ে অনেক বেশি পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, ‘সরকার এতদিন ছোট ছোট প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। মানুষের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে কাজ করেছে। কিন্তু এখন বড় বড় ও দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে।’ তিনি বলেন, ‘সব বড় ও জটিল প্রকল্প একটু বেশি সময় লেগে থাকে। এটি সব দেশের ক্ষেত্রেই। এখানেও একটু বেশি সময় লেগেছে। এক সময় সমালোচনা করা হতোÑ বড় প্রকল্প কেন নেওয়া হচ্ছে না। তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে ছোট ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে হয়েছে। এখন কিন্তু বড় বড় প্রকল্পের চুক্তি করা হচ্ছে।’

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত রিভা গাঙ্গুলি দাস বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। রামপাল মৈত্রী থার্মাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র একটি সফলতার প্রতীক। আমি মনে করি, নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সফলতার আরেকটি প্রতীক হবে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ খুবই আকর্ষণীয়। রিলায়েন্সকে দেখে অন্যরাও আগ্রহী হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আপনাদের সামনের দিনগুলো সুন্দর হোক। প্রজেক্ট সুন্দরভাবে বাস্তবায়ন হোক সেই আশাই করব। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রিলায়েন্স বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনে নিয়ে আসবেÑ এ প্রত্যাশা করছি।’ বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘বিদ্যুতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। মাথাপিছু বিদ্যুৎ ব্যবহার ৫০৯ কিলোওয়াট অর্জিত হয়েছে। এটি খুবই আনন্দের সংবাদ।’

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জ্বালানি বিভাগের সচিব আবু হেনা রহমাতুল মুনিম, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ, রিলায়েন্স গ্রুপের হেড অব বিজনেস সমীর কুমার গুপ্তা প্রমুখ। বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন যুগ্মসচিব ফয়জুল আমিন, পিডিবির সচিব সাইফুল ইসলাম আজাদ, পিজিসিবির পক্ষে কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আজাদ, তিতাসের পক্ষে কোম্পানি সচিব মাহমুদুর রব।

advertisement