advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

চট্টগ্রামের পাথরঘাটায় বড়–য়া বিল্ডিং ও পাশের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা
বিস্ফোরণের দায় কার

চট্টগ্রাম ব্যুরো
১৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:৩০
advertisement

চট্টগ্রামের পাথরঘাটায় কেন ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছিল? প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছিল, গ্যাসের পাইপলাইন ছিদ্র হয়ে জমে থাকা গ্যাসে আগুন লেগে যাওয়ায় এ বিস্ফোরণ। দুর্ঘটনার পর কারণ অনুসন্ধানে যে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, এগুলোর মধ্যে কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) কমিটি মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছেÑ গ্যাসের লাইন নয়, সেপটিক ট্যাংকে জমা মিথেন গ্যাসে লাগা আগুন থেকে এ বিস্ফোরণ। অন্যদিকে বিস্ফোরক অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ এটি মানতে নারাজ। তাদের শক্ত ধারণা, গ্যাস সরবরাহ লাইন দুর্বল ছিল। এ কারণেই বিস্ফোরণ। ফলে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে সৃষ্টি হয়েছে এক ধরনের ধোঁয়াশা। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন জেগেছে, পাথরঘাটার এ বিস্ফোরণকা- এবং ৭ জনের প্রাণহানির দায় কে নেবে?

এদিকে নিহত সাতজনের মধ্যে ইতিপূর্বে ছয়জনের পরিচয় জানা গিয়েছিল।

গতকাল সপ্তম ব্যক্তির পরিচয়ও পাওয়া গেছে। তার নাম মাহমুদুল হাসান (২৮), বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায়। নিহত মাহমুদুল হাসানের স্ত্রী শাহীন আক্তার বাদী হয়ে গতকাল সোমবার কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন বড়–য়া বিল্ডিংয়ের মালিক অমল বড়–য়া ও টিটু বড়ুয়াকে আসামি করে। গত রবিবার সকালে বিস্ফোরণকা-ের পর থেকেই দুই ভাই গা ঢাকা দিয়েছেন।

অন্যদিকে বিস্ফোরণের পর বড়–য়া বিল্ডিং ও এর পাশের ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এ দুই ভবনের ভাড়াটিয়াদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিস্ফোরণে শুধু বড়–য়া বিল্ডিংই নয়, পাশের ভবনটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুটি ভবনেরই সব জানালার কাচ ভেঙে গেছে; ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অবকাঠামোর।

ব্রিকফিল্ড রোডের বড়–য়া বিল্ডিংয়ের নিচতলায় রবিবারের এ বিস্ফোরণে শিশুসহ সাতজনের মৃত্যু ছাড়াও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১০ জন। তাদের মধ্যে দগ্ধ স্কুলছাত্রী অর্পিতা নাথের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

দুর্ঘটনার পর গঠিত পৃথক তিনটি কমিটি তাদের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে কেজিডিসিএল গঠিত তদন্ত কমিটি গতকাল তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কেজিডিসিএল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, তাদের গ্যাসলাইনে এ বিস্ফোরণ হয়নি। ভবনটির সেপটিক ট্যাংকে জমা মিথেন গ্যাসের করণে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে বিস্ফোরক অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ কেজিডিসিএলের বক্তব্য মানতে নারাজ।

বিস্ফোরক অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সকালে অর্পিতা নাথ পূজা দেওয়ার জন্য আগুন ধরানোর সময় গ্যাসের আগুনে তার মুখম-ল পুড়ে যায়। তখনই বিস্ফোরণ ঘটে। এ থেকে স্পষ্ট যে, এ আগুন গ্যাসের কারণে সৃষ্ট। তিনি বলেন, বড়–য়া বিল্ডিংয়ের গ্যাসলাইন অনেক পুরনো। এটি রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি; ক্ষয়ে ক্ষয়ে সরু হয়ে গেছে। গ্যাসপাইপে টেপ মোড়ানো থাকার কথা। সেটিও নেই। ফলে যে কোনোভাবে পাইপ থেকে গ্যাস বের হয়ে বদ্ধ কক্ষটিতে আটকে ছিল। এ কারণেই পূজার জন্য আগুন ধরানোর সঙ্গে সঙ্গে সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. জসিমউদ্দিন বলেন, কয়েক বছর আগে নগরীর দেওয়ান বাজারেও একই রকম দুর্ঘটনা ঘটেছিল। সকালে বদ্ধ ঘরে গ্যাস জমা হয়েই ছিল। চুলায় আগুন ধরানোর সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণে ওই কক্ষসহ আশপাশের কয়েকটি কক্ষ বিধ্বস্ত হয়। বড়–য়া বিল্ডিংয়েও একই ঘটনা ঘটেছে বলে আমাদের মনে হচ্ছে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহীনুল ইসলাম খান বলেন, ভবনটি নির্মাণের সময় ভবন কোড মানা হয়নি। বর্তমানে বড়–য়া ভবন ও পাশের ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এ দুই ভবন থেকে সবাইকে বের করা হয়েছে। তিনি বলেন, ব্রিকফিল্ড সড়কটি ৪০ ফুট চওড়া হওয়ার কথা থাকলেও এখন সেটি ২০ ফুটও নেই।

কেজিডিসিএলের প্রতিবেদন জমা : দুর্ঘটনার একদিনের মাথায় কেজিডিসিএল গঠিত কমিটি তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছেÑ গ্যাস নয়, সেপটিক ট্যাংকে অতিরিক্ত মিথেন গ্যাস জমে যাওয়ায় এ বিস্ফোরণ সংঘটিত হয়েছে। গতকাল চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয়েছে। কমিটির প্রধান কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং ও সার্ভিসেস) প্রকৌশলী সারোয়ার হোসেন বলেন, বিস্ফোরণের পর বাসার কোনো আসবাবপত্র পুড়েনি। গ্যাসলাইনের সঙ্গে যুক্ত রান্নার চুলাও একই অবস্থায় ছিল। গ্যাসলাইনে ত্রুটির কারণে বিস্ফোরণ হলে অবশ্যই আগুন ধরত। কাজেই সেপটিক ট্যাংকে জমা মিথেন গ্যাস থেকে এ বিস্ফোরণ হতে পারে।

তবে কেজিডিসিএলের তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিলেও জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস গঠিত তদন্ত কমিটি এবং পুলিশের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী দুদিনের মধ্যেই এ দুটি কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

নগর পুলিশ গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য কোতোয়ালি অঞ্চলের সহকারী কমিশনার নোবেল চাকমা আমাদের সময়কে বলেন, আমরা ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলছি। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও কথা বলছি। তাদের বক্তব্য ও পারিপার্শ্বিক বিষয়াদি পর্যালোচনার পরই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

advertisement