advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

এমপি লিটন হত্যা মামলা
যুক্তিতর্ক শুরু রায় হতে পারে এ মাসেই

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
১৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:৪৯
advertisement

বহুল আলোচিত গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলার রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ দিলীপ কুমার ভৌমিকের আদালতে সাক্ষী ও আসামিদের উপস্থিতিতে যুক্তিতর্ক শুরু হয়ে চলে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। প্রথম দিনে তা শেষ না হওয়ায় আদালত মুলতবি ঘোষণা করে আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে আবারও শুনানির দিন ধার্য করেন বিচারক। শুরুতেই আদালতে

আসামিদের মৃত্যুদ-সহ সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা কাদের খানকে নির্দোষ দাবি করে যুক্তি খ-ান। এ সময় কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তায় হত্যার ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ সাবেক এমপি কর্নেল (অব) আবদুল কাদের খানসহ অভিযুক্ত আট আসামির মধ্যে ছয় জনকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। আসামি কসাই সুবল সম্প্রতি কারাগারে অসুস্থ অবস্থায় মারা যায়। এ ছাড়া ভারতে পলাতক রয়েছে অপর আসামি চন্দন কুমার। অবশ্য তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

যুক্তিতর্ক শেষে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, ‘মামলার এজাহার, আসামিদের স্বীকারোক্তি জবানবন্দি, সাক্ষীদের সাক্ষ্য, অস্ত্র উদ্ধারসহ নানা দিক তুলে ধরে আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে সব শেষ না হওয়ায় মঙ্গলবার শুনানির জন্য দ্বিতীয় দিন ধার্য করেছেন বিচারক। যুক্তিতর্ক শেষ হলে এ মাসেই মামলার রায় ঘোষণার দিন-তারিখ নির্ধারণ করতে পারেন আদালত।’

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হামিদুল হক বলেন, ‘এমপি লিটনকে যেভাবে ষড়যন্ত্র করে হত্যা করা হয়েছে, ঠিক তেমনি আসামি কাদের খানকে এ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। অথচ ঘটনার সময় তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। মামলার সঠিক তদন্ত ও আদালত সঠিক বিচার করলে এ আসামি নির্দোষ বলে প্রমাণিত হবে।’

২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গার মাস্টারপাড়ার নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। এ ঘটনায় অজ্ঞাত পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন লিটনের বড় বোন ফাহমিদা কাকুলী বুলবুল। তদন্ত শেষে কাদের খাঁনসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০১৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করলে বিচার শুরু হয়। পরে পর্যায়ক্রমে কারাগারে থাকা আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনে শুনানি হয়। ওই বছরের ৮ এপ্রিল প্রথম দফায় শুরু হয় সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ। বাদী, নিহতের স্ত্রী ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৫৯ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত। এ কার্যক্রম শেষ হয় গত ৩১ অক্টোবর।

এ ছাড়া লিটন হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া অস্ত্র আইন মামলায় গত ১১ এপ্রিল আবদুল কাদের খানকে যাবজ্জীবন কারাদ-ের আদেশ দেন আদালত। হত্যাকা-ে ব্যবহৃত তিনটি অস্ত্রের মধ্যে একটি কাদের খান নিজে থানায় জমা দেন। একটি অস্ত্র ৬ রাউন্ড গুলিসহ তার নিজ বাড়ির উঠান থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। তবে অপর অস্ত্রটির সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।

advertisement