advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

রাউজান থানায় থাকা সেই শিশুটি ফিরল মায়ের কাছে
সুজনকে বিক্রির মতলব ছিল সৎবাবার

হাবিবু রহমান রাউজান
১৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:৫৪
advertisement

চট্টগ্রামের রাউজান থানা হেফাজতে থাকা সুজন নামে সেই শিশুটি চার দিন পর অবশেষে ফিরে পেয়েছে তার মায়ের কোল। দৈনিক আমাদের সময়ের ৫ পৃষ্ঠায় গতকাল সোমবার ‘কার বুকের ধন রাউজান থানায়’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। গতকালই বিকাল সাড়ে ৪টায় রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেপায়েত উল্লাহ সুজনকে তার মা চম্পা খাতুনের কাছে হস্তান্তর করেন। জানা গেছে, গেঞ্জি কিনে দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার মতলবে রাউজান নিয়ে ছিলেন তার সৎবাবা।

সুজন হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের কেরামত আলীর মেয়ে চম্পা খাতুন ও একই এলাকার সিদ্দিক আলীর তৃতীয় সন্তান। সাড়ে ৫ বছর আগে সুজনের জন্মের পর সিদ্দিক আলী মারা যান। দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে চম্পা খাতুন দুঃখ-কষ্টে জীবনযাপন করছিলেন। গত ৭ মাস আগে সিলেট জেলার জজ মিয়ার সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে হয় তার। বিয়ের পর থেকে চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন চররাঙ্গামাটিয়া এলাকায় একটি ভাড়াবাসায় বসবাস করে আসছিলেন। বিয়ের কয়েক মাস পর থেকে তাদের দাম্পত্য জীবনে পারিবারিক কলহ শুরু হয়।

চম্পা খাতুন আমাদের সময়কে জানান, তিনি স্বামীকে তালাক দেবেন। ছেলেকে নিয়ে তার বাপের বাড়িতে চলে যাবেন। তিনি আরও বলেন, ‘নিখোঁজের ৩-৪ দিন আগে ছেলেকে বিক্রি করে দেবে বলে হুমকি দিয়েছিল জজ মিয়া।’

গত শুক্রবার বিকাল ৩টায় চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানার বরিশাল বাজার এলাকা থেকে শিশুটি নিখোঁজ হয়। তার সৎবাবার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। ছেলের সন্ধানে এলাকায় মাইকিং করা হয়। পরবর্তী সময় ছেলের সন্ধানে চম্পা খাতুন জজ মিয়ার বাড়ি সিলেটে চলে যান। গতকাল প্রকাশিত সংবাদ দেখে আমাদের সময়ের রাউজান প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তিনি রাউজান থানায় এসে শিশুটিকে নিয়ে যান। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে অশ্রুসিক্ত হন চম্পা খাতুন। এদিকে চার দিন শিশুটিকে রাউজান থানার নারী পুলিশ সদস্যরা তাদের সঙ্গে রেখেছিলেন। কিনে দিয়েছিলেন নতুন জামাও। যাওয়ার সময় ওসি কেফায়েত উল্লাহ দিয়েছেন যাতায়াত ভাড়াও। আমাদের সময়ে সংবাদটি গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করায় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান ওসি কেফায়েত উল্লাহ।

advertisement