advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

গ্যাস বিস্ফোরণ ও প্রাণহানি
বিপজ্জনক অবৈধ কাজ বন্ধে কঠোর হতে হবে

১৯ নভেম্বর ২০১৯ ১২:০০ এএম
আপডেট: ১৯ নভেম্বর ২০১৯ ১২:৫৭ এএম
advertisement

চট্টগ্রামের পাথরঘাটায় একটি পাকা ভবনের নিচতলায় গ্যাস বিস্ফোরণে সাতজন পথচারী নিহত এবং দশজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ধরনের দুর্ঘটনা এর আগে দেশে আরও কয়েকটি হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, বেশ কয়েক বছর ধরে এমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করে যাচ্ছিলেন গ্যাস সঞ্চালন ও বিপণনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ব্যক্তিরা। কিন্তু এ দেশে কেবল দুর্ঘটনা হলেই তদন্ত হয়, কিন্তু প্রতিকারের উদ্যোগ দেখা যায় না।

শহরগুলোয়, বিশেষত রাজধানী ঢাকায় গ্যাসের বৈধ লাইনের বাইরে অবৈধ লাইনের ছড়াছড়ি। গ্যাস সংকটের কারণে দীর্ঘদিন বাসাবাড়িতে নতুন গ্যাসলাইন দেওয়া বন্ধ রয়েছে। এ সময় স্থানীয় ক্ষমতাসীনদের মাধ্যমে গ্যাসের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মূল লাইন থেকে অবৈধ লাইনের সংযোগ দেওয়ার কর্মকা- চলছে। ২০১৭ সালে এক দফা যখন অবৈধ সংযোগগুলো বৈধ করার সিদ্ধান্ত হয় তখন তাড়াহুড়োর মাধ্যমে অবৈধ সংযোগ নেওয়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। গ্যাস সঞ্চালনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এ ব্যাপারে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে মাটির নিচে অবৈধ লাইনের জাল বিস্তারিত হয়েছে। অধিকাংশ অবৈধ লাইন হালকা কোনো পাইপের মাধ্যমে মূল উচ্চ ক্ষমতার লাইনের সঙ্গে যুক্ত। ফলে মূল লাইনে গ্যাসের চাপ বাড়লে যে কোনো অবৈধ লাইনে বিস্ফোরণের আশঙ্কা থেকে যায়। এমন দুর্ঘটনার কথা আমরা বারবার পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারছি।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছিল দীর্ঘদিন হয়। বিষয়টির গুরুত্ব সংশ্লিষ্ট সবাই অনুধাবন করেন। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী মন্ত্রী, সাংসদ, জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক ক্যাডারদের কারণে এ অবৈধ বিপজ্জনক ব্যবসা টিকে রয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বস্তিতে এভাবেই বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির ব্যবস্থা চলছে। অন্যগুলোর ক্ষেত্রে বিষয়টি কেবল আর্থিক দুর্নীতিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও গ্যাসের অবৈধ সংযোগ মারাত্মক মানবিক সংকট তৈরি করছে। চট্টগ্রামে অন্যদের গাফিলতি ও দুর্নীতির কারণে প্রাণ দিলেন নিরীহ সাতজন পথচারী। আহতদের পরিণতি কী হবে সেটা ভবিষ্যতেই বোঝা যাবে।

আমরা মনে করি আধুনিক নাগরিক জীবনে গ্যাস সংযোগ স্বাভাবিক ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী এবার ক্ষমতায় এসে গ্রামাঞ্চলেও নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলছেন। তাতে লাইনের গ্যাস এবং এলএনজি গ্যাস ও সিএনজি গ্যাসের সিলিন্ডার সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে। অসতর্কতা ও নিয়মিত চেকআপের অভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণেও অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে দেশে। তাই বলব, এখন সময় এসেছে এ রকম উচ্চশক্তির জ্বালানি ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারি দক্ষতা বজায় রাখার। এগুলোও নাগরিকের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

advertisement