advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

আইন শিথিলের খবরের পরদিনই সড়কে দানবের তাণ্ডব
শুধু গাড়িই নয় নিমিষে চুরমার স্বপ্নগুলোও

বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাস-বাস সংঘর্ষে মুন্সীগঞ্জে নিহত ১০

নাদিম হোসাইন,মুন্সীগঞ্জ
২৩ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০১৯ ০৫:১৭
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের স্বজনদের আহাজারি। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক হয়ে ছুটে চলেছে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাস। গায়ে কেবল আনন্দের হাওয়া। হাসি-ঠাট্টায় মশগুল সবাই। তারা যে বরযাত্রী। কনের বাড়িতে গিয়ে কে কী করবে- তা নিয়েও চলছিল খোশগল্প। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছার আগেই বিয়ের সে আনন্দ পরিণত হয় বিষাদে। মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে গতকাল শুক্রবার দুপুরে বরযাত্রীবাহী ওই মাইক্রো ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন। আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন।

নিহতরা হলেন- বরের বাবা আবদুর রশিদ বেপারি (৬০), চাচা আবদুল মফিজ (৫৮), বোন লিজা (১৫), ভাবি রুনা (২৫), ভাতিজা তাহসান (৩), ভাগ্নি তাবাসুস অবনি (৫), মামাতো বোন রেনু (১০), ফুফাতো ভাই জাহাঙ্গীর (৪৫), প্রতিবেশী কেরামত বেপারি (৬০)ও মাইক্রোচালক বিল্লাল (৪০)।

এদের বাড়ি লৌহজং উপজেলার কনকসার বটতলা গ্রামে। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে শ্রমিক-মালিকদের প্রতিরোধের মধ্যে এ সড়ক দুর্ঘটনা আরও একবার সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে।

বরের বন্ধু রনি, রাকিব ও আমিনুর জানান, মুদি দোকানদার রুবেল ইসলাম বেপারির (২৮) সঙ্গে ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের মিশা আক্তারের বিয়ের কথা হয়েছিল দুই মাস আগে। গতকাল শুক্রবার কাবিন হওয়ার কথা ছিল। বর রুবেলকে নিয়ে বন্ধুরা চড়েন একটি মাইক্রোতে। অপর মাইক্রোতে ছিলেন বরের বাবাসহ আত্মীয়স্বজন। শুরু থেকেই বরের মাইক্রোটি সামনে ছিল। কিন্তু ষোলঘর বাসস্ট্যান্ডের অদূরে আসতেই পেছনে থাকা মাইক্রোটি ওভারটেক করে এগিয়ে যায়। মাত্র ৫০ থেকে ৬০ ফুট সামনের দিকে এগিয়ে যেতেই বিপরীত দিক থেকে ছুটে আসা যাত্রীবোঝাই বাসের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।

চোখের সামনেই মহাসড়কে তারা পড়ে থাকতে দেখলেন লাশ আর লাশ। বরের চাচাতো ভাই আবু সাঈদ জানান, দুই ভাই এক বোনের মধ্যে রুবেল মেজ। আর সবার ছোট ছিল বোন লিজা। মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বরের বাবা ও বোন রয়েছে। এ ছাড়াও মাইক্রোচালক বাদে নিহতরা সবাই বরের আত্মীয়স্বজন।

হাষাড়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বাসেদ জানান, দুপুর ২টার দিকে ষোলঘর বাসস্ট্যান্ডে ঢাকামুখী বরযাত্রীবাহী মাইক্রো ও মাওয়াগামী স্বাধীন পরিবহনের যাত্রীবোঝাই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোটি পুরোপুরি ও বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। তাৎক্ষণিক হাইওয়ে পুলিশ ও শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালায়। ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আরও দুজন মারা যান।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নিহতদের স্বজনরা শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান। এ সময় প্রিয়জন হারানো স্বজনদের আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

বরের বাড়িতে শোকের মাতম : বর রুবেলের বাড়িতে বিয়ের সানাই বাজার পরিবর্তে এখন চলছে কান্নার রোল। শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো কনকসার বটতলা গ্রাম। নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। রাত পৌনে ৭টার দিকে নিহতদের মরদেহ আনা হয় গ্রামের বাড়িতে। এ সময় বরের মা আয়েশা বেগম (৫০) বিলাপ করে বলছিলেন, ‘রুবেলের বিয়ের পর লিজাকে বিদায় দিতাম। কী অইলো রে... আমারে না কইয়্যা চইল্যা গেল লিজারে...। লিজার বিয়েতে নতুন বাড়িঘর তুলে দিতাম...। তাও অইল নারে...। এ কেমন নিয়তি খোদার।’

এদিকে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা ও আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

advertisement