advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ইডেন গার্ডেনসে ‘চাঁদের হাট’

সাইফুল ইসলাম রিয়াদ,কলকাতা থেকে
২৩ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০১৯ ১৩:৪৮
কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে ভারত-বাংলাদেশ দিবারাত্রির টেস্ট ম্যাচ উদ্বোধন উপলক্ষে মাঠে উপস্থিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিসহ তারকারা। ছবি : বিসিসিআই
advertisement

কী ছিল না! কে ছিল না! সবই ছিল, সবাই ছিল। বাংলাদেশ- ভারত প্রথম দিবা-রাত্রির টেস্ট উপলক্ষে কলকাতার বিখ্যাত ইডেন গার্ডেনসে যেন রূপ নিয়েছিল চাঁদের হাটে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে এই চাঁদের হাটে ছিলেন শচীন টেন্ডুলকার, রাহুল দ্রাবিড় থেকে শুরু করে ভারত-বাংলাদেশের সাবেক কিংবদন্তি ক্রিকেটাররা।

তবে শুধু ক্রিকেটাররা নয়, ইডেনের সবুজ গলিচায় ভারতের অন্য ক্রীড়ার সাবেক তারকারাও ছিলেন, যাদের মধ্যে অন্যতম সাবেক ব্যাডমিন্টন তারকা পাল্লে গোপিচান্দ, সাবেক শুটার অভিনভ বিন্দ্রা, টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা প্রমুখ।

এই মহা-আয়োজনে চাঁদের হাট বসানোর মূল কারিগর ছিলেন সাবেক অধিনায়ক ও বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি মাঠে প্রবেশ করার পর থেকে শুরু হয় মূলত সব কার্যক্রম। কী হয়েছিল গতকাল সারাদিন? আমাদের সময়ের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

অর্কেস্ট্রা দলের সুরের মূর্ছনার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি দুই দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেন। টস ও দুই দলের জাতীয় সংগীতের পর শেখ হাসিনা-মমতা ব্যানার্জি সৌরভদের নিয়ে ঘণ্টা বাজিয়ে খেলা উদ্বোধন করেন। দুপুর দেড়টায় খেলা শুরু হওয়ার পর থেকে নানা আয়োজনে মুখর ছিল পুরো মাঠ। খেলা চলার দুই ঘণ্টা পর লাঞ্চ-বিরতিতে মাঠের মধ্যেই আয়োজন করা হয় লাইভ টকশো। ৬৭ হাজার দর্শকঘেরা ইডেন গার্ডেনসে এই অভিনব টকশোতে ছিলেন শচীন টেন্ডুলকার, অনীল কুম্বলে, হারভজন সিং ও ভিভিএস লক্ষ্মণ। সৌরভ গাঙ্গুলীর থাকার কথা ছিল এই আয়োজনে। কিন্তু প্রশাসনিক কাজে আটকে গিয়ে তিন অংশগ্রহণ করতে পারেননি।

লাঞ্চ-বিরতিতে যখন এই টকশো চলছিল গ্যালারি থেকে শচীন-শচীন ডাকে মুখর ছিল পুরো ইডেন গার্ডেনস। এই সময় তারা মাঠে বিভিন্ন খেলার স্মৃতিচারণ করেন। অনিল কুম্বলে বলেন, ‘খেলা ছাড়ার পর থেকে মাঠের মধ্যে এভাবে বসার কোনো সুযোগ হয়নি। এটা আমাদের জন্য নিঃসন্দেহে একটা বিশেষ দিন, আর এই ঐতিহাসিক ম্যাচের জন্য ইডেন গার্ডেনস ছাড়া আর কোনো মাঠ হতেই পারে না।’

অনিল কুম্বলে বলেন, ‘অবিশ্বাস্য মাঠ। অনেক দিন এখানে আসা হয়নি। এখানে আসতে পেরে এবং এ রকম দর্শক দেখতে পেরে আমি আমার পুরনো দিনে ফিরে গিয়েছি। এখানে আসতে পেরে আমার অনেক ভালো লেগেছে। কলকাতা বিখ্যাত শহর, ইডেন বিখ্যাত মাঠ, এর বিকল্প হতেই পারে না।’

সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য ছিল গ্যালারির মধ্যে শচীন-শচীন ডাক। শচীন এই মাঠে ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিখ্যাত জয়ের স্মৃতিচারণ করেন। এই ম্যাচে হরভজন হ্যাটট্রিকসহ ১৩ উইকেট নিয়েছিলেন। শচীন বলেন, হরভজনের হ্যাটট্রিকের কারণে খেলার মোড় ঘুরে গিয়েছিল। এই জয় ছিল ভারতীয় দলের নতুন অধ্যায়ের শুরু। ভাজ্জি ছিল সেনসেশনাল, দ্রাবিড়-লক্ষ্মণের জুটি ছিল অনবদ্য। এসব কারণে ড্রেসিংরুমে আমাদের কনফিডেন্স বেড়ে গিয়েছিল,’ এভাবেই বলছিলেন শচীন। এই ম্যাচে দ্রাবিড়-লক্ষ্মণ ৩৭৬ রানে জুটি গড়েছিলেন।

হরভজন বলেন, ‘এই পরিবেশ আমাকে ফিরিয়ে নিয়েছে ১৫ বছর আগে। টেস্ট ক্রিকেট আসলেই সুন্দর, ডিফারেন্ট। আমি এখানে (ইডেনে) আসতে অনেক ভালোবাসি। গাঙ্গুলীকে ধন্যবাদ এমন আয়োজনের জন্য। আমি যদি ১০০ অধিনায়কের অধীনেও খেলি, তিনি আমার অধিনায়ক থাকবেন।’

এভাবেই নানা স্মৃতিচারণায় চলতে থাকে তাদের লাইভ টকশো। এর পর চা-বিরতির সময় শুরু হয় গলফকার্টে করে সাবেক অধিনায়কদের মাঠ প্রদক্ষিণ। এখানে ছিলেন শচীন টেন্ডুলকার, দ্রাবিড়, বিশ্বনাথ ও কাপিল দেব। আরও ছিলেন ভারতের নারী ক্রিকেট দলের মিতালী রাজের মতো ক্রিকেটার। খেলা শেষে শুরু হয় রুনা লায়লা ও জিৎ গাঙ্গুলীর পারফরম্যান্স। তাদের গান দিয়ে মুগ্ধ করেন উপস্থিত সবাইকে।

সত্যিই গোলাপি বলের ঐতিহাসিক টেস্ট দিয়ে সৌরভ সুরভিত করে রেখেছিলেন ইডেন গার্ডেনস। এমন আয়োজনের জন্য তাকে হরভজনের সঙ্গে সুর মিলিয়ে হ্যাটস অফ করাই যায়।

advertisement