advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

টাঙ্গাইল পৌরসভায় কবে হবে কসাইখানা

আবু জুবায়ের উজ্জল টাঙ্গাইল সদর
২৩ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০১৯ ০০:২৭
advertisement

টাঙ্গাইল পৌরসভায় গবাদিপশু জবাইয়ের জন্য কোনো কসাইখানা নেই। মাংস বিক্রেতারা শহরে যত্রতত্র ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরীক্ষা ছাড়াই পশু জবাই করছেন। পশুসম্পদ বিভাগেরও এ বিষয়ে কোনো তদারকি নেই। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছেন টাঙ্গাইল শহরের মানুষ।

১৯৭৮ সালে সেনাবাহিনী পশু জবাইয়ের জন্য টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামের উত্তর-পশ্চিম কোণে একটি কসাইখানা তৈরি করেছিল। পৌর কর্মচারী মির্জা বেলায়েত হোসেন ওই সময় পশু জবাইয়ের দায়িত্বে ছিলেন। পরে টাঙ্গাইল পৌর কর্তৃপক্ষ সেটিকেই তাদের কসাইখানা হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। কিন্তু জেলা ক্রীড়া সংস্থার জমিতে হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৮৮ সালে কসাইখানাটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ১৯৮৯ সালে পৌর কর্তৃপক্ষ শহরের পার্ক বাজারে ছোট আকারে একটি কসাইখানা তৈরি করে। ২০১২ সালে এটি ভেঙে পৌর কর্তৃপক্ষ উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু ভূমির মালিকানা নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা ভূমি অফিসের মধ্যে জটিলতা দেখা দেওয়ায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকেই মাংস বিক্রেতারা পরীক্ষা ছাড়াই যত্রতত্র পশু জবাই করছেন। ফলে শহরবাসী ব্রুসোলেসিস ও অ্যানথ্রাক্সসহ নানা রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। পার্ক বাজারের কয়েক ব্যবসায়ী জানান, প্রতিদিন সকালে দোকানের সামনে খালি জায়গায় পশু জবাই করে মাংস বিক্রি করেন তারা। কোনো কোনোদিন পৌরসভার এক কর্মচারী এসে ষাঁড়-গাভী অর্থাৎ লিঙ্গ নির্ণয়ের শনাক্তকরণ ‘সিল’ দিয়ে চলে যান।

পার্ক বাজারের মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মিয়া সাজু জানান, ২০১১ সালে পৌরসভার কসাইখানাটি ভেঙে দেওয়ার পর থেকে তারা দোকানের আশপাশে পশু জবাই করছেন।

সম্প্রতি পৌর মেয়র জামিলুর রহমান মিরন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) উপমা ফারিসা পার্ক বাজারে কসাইখানা নির্মাণের জায়গা পরিদর্শন করেন। ব্যবসায়ীরা পার্ক বাজারে একটি কসাইখানা দ্রুত নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

বেশ কয়েক ক্রেতা জানান, বাজারে পশু জবাইয়ের আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। কীভাবে পশু জবাই করা হয়, তা তারা জানেন না। টাঙ্গাইল পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর খন্দকার আবদুল কাদের সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি পৌরসভায় অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত পশু নির্ণয়ের দেখভাল করেন। ভেড়া বা ছাগল জবাই করে বেশি লাভের আশায় খাসি হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে কিনা, তিনি তাও দেখেন। তবে পশু পরীক্ষা করে দেখার কোনো যন্ত্রপাতি তাদের নেই। তাই খালি চোখে দেখে পশু রোগাক্রান্ত কিনা, তা পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. শরীফ হোসেন জানান, খোলা জায়গায় জবাইকৃত পশুর রক্ত থেকে ব্রুসোলেসিস ও অ্যানথ্রাক্সের মতো ছোঁয়াচে রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা বেশি। তিনি দ্রুত অত্যাধুনিক কসাইখানা নির্মাণের জন্য টাঙ্গাইল পৌর কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরন জানান, এক বছর ধরে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কসাইখানার স্থান নির্ধারণের বিষয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে টাঙ্গাইল পৌরসভায় একটি অত্যাধুনিক কসাইখানা নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অতি দ্রুত টাঙ্গাইল শহরে একটি অত্যাধুনিক কসাইখানা নির্মাণ শুরু হবে বলে জানান তিনি।

advertisement