advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

চট্টগ্রামে আকবর শাহ থানার ওসির প্রশ্রয়ে আসামি চক্র!

মো. মহিউদ্দিন,চট্টগ্রাম
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১২:৩৫ এএম
প্রতীকী ছবি
advertisement

অস্ত্র মামলার আসামিরা সাত দিনের মধ্যে সাক্ষী সাহাবুদ্দিন সাবুকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল। বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। আদালত সাবুকে নিরাপত্তা দিতে আকবর শাহ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমানকে নির্দেশ দেন। কিন্তু ওসি সাক্ষীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে উল্টো আরেক মামলার আসামি শফিকুল ইসলামকে বাদী করে দায়ের করা অস্ত্র মামলায় চালান দেন সাবুকে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে ওসির প্রশ্রয়ে আসামি শফিকুল ইসলাম সাক্ষী সাবুর স্বজনদের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অস্ত্র আইনের মামলায় পুলিশ বাদী হয়নি। রাষ্ট্রীয় মামলায় আসামিকে বাদী করে সাক্ষীকে হয়রানির বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন আদালত।

জানা গেছে, আকবর শাহ থানায় ২০১৫ সালে অস্ত্র আইনে দায়ের হওয়া মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে পঞ্চম যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতে। প্রধান আসামি জিসানসহ পাঁচজনকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। জব্দ তালিকার সাক্ষী মো. বাবলু গত ১৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে সাক্ষ্য দেন। এর পর আসামি এবং তাদের স্বজনরা তাকে হত্যার হুমকি দিতে থাকে। ৫ মার্চ বিষয়টি তিনি আদালতকে অবহিত করেন। সাক্ষীর নিরাপত্তা দিতে আকবর শাহ থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়ে ৭ এপ্রিলের মধ্যে আদালতে অবহিত করতে বলা হয়।

কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে বন্ধের পর আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে আসামি মো. কামাল, মো. শফিকুল ইসলাম, মহিউদ্দিন, রবিউল মো. মহিন মিলে মামলার অপর সাক্ষী

সাহাবুদ্দিস সাবুর ঘরে প্রবেশ করে ডাকাতি ও বেআইনি অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দেয়। এ জন্য তারা বাবলুকে

ব্যবহারের পরিকল্পনা করে প্রস্তাব দেয়। মোবাইলে আলাপের সময় বাবলু কথোপকথন রেকর্ড করেন। গত ৪ আগস্ট বাবলু ও সাহাবুদ্দিন আকরব শাহ থানার জঙ্গল লতিপপুর মীরপুর আবাসিক এলাকায় যাওয়ার সময় আসামিরা সাবুকে আটকে মারধর করে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে বাবলু থানায় ছুটে যান। ওসিকে বিস্তারিত জানান এবং তাদের পরিকল্পনা মোবাইল রেকর্ড শুনান। এরই মধ্যে একটি স্কচটেপে মোড়ানো পাইপগানসহ সাবুকে থানায় নিয়ে আসা হয়। ওসি তখন কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে অভিযুক্ত কামালকে বাদী করে সাবুর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা নিয়ে আদালতে চালান দেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

অস্ত্র মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি এপিপি সুভাষ কান্ত্রি রুদ্র আমাদের সময়কে জানান, সাক্ষী সাবুকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ঘটনা আদালতকে জানালে আদালত একটি এজাহার দাখিল করতে বলেন। গত ৩ সেপ্টেম্বর এজাহার দিতে গেলে আসামিরা হুমকি দিচ্ছে জানান সাবু। এলাকায় থাকলে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে কোর্ট দারোগাকে নির্দেশ দেন বিচারক মো. জহির উদ্দিন। দারোগা শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। আদালতের কাঠগড়ায় শফিকুল পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন এবং ডিবিতে কর্মরত এসআই রবিউল আসছে বলে জানান। তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে এজাহারের অভিযোগের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা নিতে আকবর শাহ থানার ওসিকে নির্দেশ দেন আদালত। কিন্তু গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে এসআই রবিউল আসেননি। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেন আদালত।

জানা গেছে, আদালতের নির্দেশের পরও মামলা গ্রহণের সময় ৩৯৯ ধারা দেননি ওসি মোস্তাফিজ। ফলে আদালত থেকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেলেও গত মঙ্গলবার জামিনে বেরিয়ে আসেন শফিকুল। আকবর শাহ থানায় তার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে মাদক ও ২০১৯ সালে অস্ত্র মামলা ছাড়াও একাধিক ডাকাতির মামলা রয়েছে। অন্যদিকে মিথ্যা মামলায় এখনো কারাগারে সাক্ষী সাহাবুদ্দিন।

সূত্র জানায়, আকবর শাহ থানার ওসি আসামিদের প্রশ্রয় দিচ্ছেন। অভিযুক্তকে ছেড়ে দিয়ে সাক্ষীকে অস্ত্র মামলায় চালান দেয়। নিরাপত্তায় ব্যর্থ এবং অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে সাক্ষীকে হয়রানি করায় কারণ দর্শাতে বলেছেন আদালত। এ ছাড়া আকবর শাহ থানার মামলা নম্বর ১ (৮) ২০ আকবর শাহ থানার পুলিশ ছাড়া নিরপেক্ষ কাউকে দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এদিকে আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা, ডাকাতি ও অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর রেকর্ড থাকার পরও আসামিদের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন ওসি মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেছেন, পুলিশই অস্ত্র মামলার বাদী হবে এমন কোনো আইন নেই। ৩৯৯ ধারা না দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র মামলার কথা বলা হয়েছে। ডাকাতি ও দস্যুতা নয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, আসামিরা জমি দখল, পাহাড় কাটা, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারে জড়িত। মোটা অঙ্কের মাসোহারার কারণে থানা তাদের পক্ষে থাকে। তাদের কথামতো যে কাউকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে পুলিশ।

আইনজীবী সুভাষ কান্তি জানান, এজাহারকে সরাসরি এফআইআর হিসেবে ট্রিট করতে বলেছেন আদালত। অর্থাৎ এজাহারে অস্ত্রসহ ডাকাতি এবং দস্যুতার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ আছে। এ ছাড়া একজন সাধারণ মানুষ বেআইনি অস্ত্র স্পর্শ করতে পারেন না। কিন্তু সাবুরের কাছে অস্ত্র পাওয়ার কথা বলে সেই অস্ত্র থানায় নিয়েছে কালাম ও শফিকুলরা। এ ছাড়া সাক্ষী সুমির ভাষ্যমতে, সাহাবুদ্দিনের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না।

 

 

advertisement