advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

শত প্রতিকূলতাজয়ী পাঁচ নারী

জাহিদুল হক মনির ঝিনাইগাতী
২৩ নভেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০২০ ২২:০১
advertisement

বৈরী সমাজব্যবস্থার মধ্যেও নিজেদের অধিকার আদায় ও সুন্দর জীবনের জন্য অনবরত সংগ্রাম করে শত প্রতিকূলতাকে জয় করেছেন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার পাঁচ নারী। মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর শ্রেষ্ঠ জয়িতার সম্মানে ভূষিত করেছে তাদের। ‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ কার্যক্রমের আওতায় উপজেলা জয়িতা নির্বাচন কমিটি-২০১৯ তাদের নির্বাচিত করে।

উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা ফ্লোরা ইয়াসমিন জানান, সমাজের সব প্রতিকূলতাকে দূরে ঠেলে যেসব নারী জীবনে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন, তাদের উৎসাহ জোগাতেই ওই পাঁচ নারীকে জয়িতা সম্মানে ভূষিত করেছেন। তারা হলেন- অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী মহিমা আরেং, শিক্ষা ও চাকরিক্ষেত্রে উম্মে কুলসুম, সফল জননী লবদিনী চিসিম, সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখা রহিমা খাতুন ও নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করা শাহনাজ পারভীন।

মহিমা আরেং জানান, হতদরিদ্র পরিবারের নারী ছিলেন তিনি। তার আর্থিক অবস্থা মোটেও সচ্ছল ছিল না। সংসারে নানা অভাব-অনটন থাকায় জীবন কাটত দুঃখ-দুর্দশায়। বর্তমানে ঝিনাইগাতী মহিলা মার্কেটে দোকান নিয়ে কাপড় বিক্রির পাশাপাশি দর্জির কাজ করেন। তিনি এখন স্বাবলম্বী। তার দেখাদেখি উদ্বুদ্ধ হয়ে অন্য নারীরা এ কাজ ও ব্যবসা শুরু করেছেন।

উম্মে কুলসুম জানান, সামাজিক অব্যস্থাপনায় জীবন সম্পর্কে বোঝার আগেই মাত্র ১৪ বছর ৫ মাস বয়সে পরিবার তাকে বিয়ে দেয়। সাংসারিক কাজে বাধ্য করা হলেও তিনি থেমে না থেকে সব বাধা উপেক্ষা করে বিএ পাস করেন। বর্তমানে তিনি উপজেলার একমাত্র নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক।

লবদিনী চিসিম জানান, আট ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় তিনি। এসএসসি পাসের পরই মা-বাবার স্বপ্ন পূরণে বিয়ে করেন। স্বামী এনজিওতে চাকরি করতেন। সেই আয় দিয়ে সংসার চলত না। পরে ধর্মপল্লীর আওতাধীন জুনিয়র হাইস্কুল অ্যান্ড প্রাইমারিতে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। দীর্ঘদিন সন্তান না হওয়ায় দুই মেয়েকে দত্তক নেন। বিদ্যালয়ে শিক্ষাদানের মাঝে একজন অর্ধপ্রতিবন্ধী ছেলের বাবা পড়াশোনার খরচ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি সেই ছেলের পড়াশোনার খরচের ব্যয় গ্রহণ করেন। অনাথ হিসেবে যাদের লালন-পালন করেছেন, তারা পড়াশোনা শেষ করে আজ সবাই বিভিন্ন স্থানে চাকরি করছেন। এ ছাড়া সেলাই করে ভাইবোনের লেখাপড়ার খরচ চালানো, গ্রামীণ প্রত্যন্ত অঞ্চলে আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা দান করা, স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সফল নারী হিসেবে নেতৃত্ব দান করা, নিজ কর্মময় জীবনের মাধ্যমে এলাকার নারীদের উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন লবদিনী।

রহিমা খাতুন জানান, আর্থিক দিক দিয়ে অসচ্ছল ছিলেন। সংসারে সচ্ছলতা ছিল না। কিন্তু অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে কখনো পিছু হটেননি তিনি। সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ত থেকে তিনি বাল্যবিবাহ বন্ধ, সালিশ, সঠিক পরামর্শ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাউন্সেলিং ও সমাজসেবামূলক কাজ করেছেন এখনো।

শাহনাজ পারভীন জানান, পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মনোবল হারাননি। ঘুরে দাঁড়িয়ে সমাজে নিজ যোগ্যতার প্রমাণ রাখেন। স্বামীর কাছ থেকে তালাকের পর একমাত্র কন্যাসন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। আত্মনির্ভরশীল হয়ে নিজেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

advertisement