advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

মেডিক্যাল শিক্ষাকে অবশ্যই দক্ষতাভিত্তিক করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ নভেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০২০ ০০:৫৫
advertisement

স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে মেডিক্যাল শিক্ষাকে অবশ্যই দক্ষতাভিত্তিক করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, মেডিক্যাল শিক্ষার মানোন্নয়ন করা না গেলে দক্ষরা স্বাস্থ্য খাতে আসবে না। তাই মুখস্থ বিদ্যাভিত্তিক কারিকুলাম পরিহার করতে হবে। গত শনিবার রাতে স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নয়ন ফোরাম আয়োজিত এক অনলাইন সেমিনারে আলোচকরা এসব কথা বলেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল- বাংলাদেশে মেডিক্যাল শিক্ষার বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ। পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. তৌফিক জোয়ার্দারের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন সেন্টার ফর মেডিক্যাল এডুকেশনের পাঠ্যক্রম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কর্মকর্তা অধ্যাপক মো. হুমায়ুন কবীর তালুকদার, যুক্তরাজ্যের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. শাহাদুজ্জামান, বিশ্বব্যাংকের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যাবিষয়ক কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নয়ন ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার।

আলোচনার শুরুতে অধ্যাপক হুমায়ুন বলেন, শিক্ষার্থীরা কি স্বেচ্ছায় চিকিৎসক হতে চাইছে নাকি পারিবারিক চাপ বা অন্য কোনো কারণে এ পেশায় আসছে তা ভেবে দেখতে হবে। চিকিৎসার মতো মানবিক পেশার সঙ্গে নীতি-নৈতিকতা, পেশাদারিত্বসহ নানা বিষয় জড়িত। তাই এ ক্ষেত্রে পড়তে ইচ্ছুকদের আচরণ, প্রবণতা লক্ষ করা জরুরি হলেও শুধু ‘এমসিকিউ’ দিয়ে তাদের ভর্তি করা হচ্ছে। গত ১০ বছরে মেডিক্যালে ৬৫ শতাংশের বেশি নারী শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। দেশের জন্য তা ভালো খবর হলেও স্বাস্থ্য শিক্ষার পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে তারা ভবিষ্যতে কতটা কার্যকরী দায়িত্ব পালন করতে পারবে, সে প্রশ্নের অবকাশ রয়েছে।

ড. শাহাদুজ্জামান বলেন, দেশের চিকিৎসকদের ওপর মানুষ আস্থা হারিয়েছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ ‘চিকিৎসক হয়ে ওঠার’ গোটা প্রক্রিয়ায় জুড়ে থাকা সমস্যা। রোগী বেশি পাওয়া মানেই ভালো চিকিৎসক নয়। রোগীদের চিকিৎসকের কাছে মেডিক্যাল এবং নন-মেডিক্যাল দুই ধরনের প্রত্যাশার জায়গা থাকে। বাংলাদেশে চিকিৎসকদের শুধু মেডিক্যাল প্রত্যাশা পূরণের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অথচ রোগী চিকিৎসকের কাছে যাবেন অসুস্থতা নিয়ে, বের হবেন অসুখ নিয়ে। চিকিৎসককে রোগীর অসুস্থতা অনুভব করতে হবে, বুঝতে হবে। এ ক্ষেত্রে ‘কমিউনিটি মেডিসিন’ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারলেও এ বিষয়টি সবচেয়ে উপেক্ষিত হয়ে থাকে।

ডা. জিয়াউদ্দিন বলেন, মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা বাড়লেও এখনো প্রতি ১০ হাজার জনের বিপরীতে মাত্র পাঁচজন চিকিৎসক রয়েছেন। ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া কোয়ালিটি অব কেয়ারকে সামনে রেখে মেডিক্যাল শিক্ষায় বড় ধরনের সংস্কার করছে। তিন দেশেই সরকারি হস্তক্ষেপমুক্ত স্বাধীন সংস্থা গঠন করা হচ্ছে, যারা শিক্ষার্থীরা পাস করে বের হওয়ার পর তাদের লাইসেন্সিং পরীক্ষা নেবে। যে যেখান থেকেই পাস করুক না কেন, স্বাস্থ্য খাতে যোগ দেওয়ার আগে তারা যেন যোগ্য হয়ে গড়ে ওঠে তা নিশ্চিত করবে। চিকিৎসক ও নার্সরা কর্মস্থলে যোগদানের পরও তাদের দক্ষতা, যুগের প্রয়োজনে নিজেদের পরিবর্তন করা ইত্যাদি মনিটর করবে। প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করবে শিক্ষকদের যোগ্যতা। এভাবে মেডিক্যাল শিক্ষার মানোন্নয়ন করা না গেলে দক্ষ ও শিক্ষিত জনশক্তি স্বাস্থ্য খাতে আসবে না।

অধ্যাপক হুমায়ুন বলেন, মেডিক্যাল শিক্ষার কারিকুলামে রাতারাতি পরিবর্তন বা হুট করে সংস্কার না করে ক্রমেই এসব বিষয়ে পরিবর্তন আনতে হবে। যারা এক বছর বা দুই বছর পর মেডিক্যালে ভর্তি হবে, তারা যেন আগে থেকেই জানতে পারে তাদের কী পড়তে হবে, ইন্টার্নি কোথায় করতে হবে ইত্যাদি।

ডা. জিয়াউদ্দিন বলেন, দেশে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন ইত্যাদির রোগী বাড়ছে। বায়ু দূষণজনিত কারণে বছরে ৪৬ হাজার মানুষ মারা যায়। সে জন্য ২০ বছর পর জাতীয় এবং বৈশ্বিক চাহিদার কথা মাথায় রেখে সংস্কার করতে হবে দক্ষতাভিত্তিক কারিকুলাম।

advertisement