advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

সেই মাটির ঘরের স্থানে উঠছে পাকা দালান

প্রদীপ কুমার দেবনাথ বেলাব (নরসিংদী)
৬ মে ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৫ মে ২০২১ ২১:৫৩
advertisement

নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় রয়েছে অনেক পুরোনো গ্রামবংলার বেশকিছু ইতিহাস ও ঐতিহ্য। তার মধ্যে মাটির ঘর অন্যতম। আধুনিককালে মনোরম কারুকার্যখচিত ইট ও টিনের তৈরি পাকা-আধাপাকা ঘরবাড়ির ব্যাপক বিস্তারে হারিয়ে যাচ্ছে প্রাকৃতিক রেফ্রিজারেটর খ্যাত মাটিরঘর।

লোকমুখে জানা যায়, অতীতে মাটি দিয়ে বিশেষ উপায়ে ঘর নির্মাণ করা হতো। চালা হিসেবে এসব ঘরে মানুষ খড়, ছন, ইকর, টিন- এসব ব্যবহার করত। আবার চালা তৈরিতে বাঁশ অথবা ইট ব্যবহার করত। বাড়ির মালিক স্বহস্তে অথবা কারিগর দিয়ে নানা কারুকাজখচিত মাটির ঘর তৈরি করতেন। এসব ঘরের সঙ্গে মিশে আছে গ্রামবাংলার মানুষের নিবিড় সম্পর্ক। রয়েছে হারানো স্মৃতি, প্রিয় মানুষদের সুখ-দুঃখের স্মৃতি, আবেগ আর অনুভূতি। গ্রামের মানুষের কাছে মাটিরঘর ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে টিনের চালা দিয়ে কিছু মাটির ঘর দেখা গেলেও বাঁশ, খড় ও শনের চালার সেই মাটির ঘরগুলো আজ আর নেই বললেই চলে। বিলুপ্ত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মাটির তৈরি আধুনিক ঘরগুলোও। আধুনিকতা আর শহুরে সংস্কৃকির প্রভাবে এসব ঘর বিলুপ্ততির পথে। বেলাব উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতিনিয়ত মাটির ঘরের স্থলে জায়গা করে নিচ্ছে ইট-পাথরে নির্মিত আধুনিক বিলাসবহুল পাকাবাড়ি। আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষের মানসিকতা ও ভাবধারার পরিবর্তন ঘটছে। ধনীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ অঞ্চলের খেটেখাওয়া মানুষরাও মাটির ঘর ভেঙে তৈরি করছেন দালানঘর।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বেলাব উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাটির ঘর তৈরির তিন শতাধিক কারিগর ছিলেন, যারা এখন পেশা পরিবর্তন করে ভিন্ন কাজ করেন। শতাধিক কারিগর মারা গেছেন বলেও জানান অনেক কারিগর। বাজনাব ইউনিয়নের চিতাইন গ্রামের মাটির ঘরের কারিগর বলেন, পেটের দায়ে এখন সবজি বেচি; কিন্তু এখনো সেই মাটির ঘর তৈরির স্বপ্ন দেখি। আমার সঙ্গে মাটির ঘর তৈরি করতেন আলা মিয়া, খুরশিদ ভাই, ওহাব ভাই। তারা আর দুনিয়াতে নেই; কিন্তু তাদের সঙ্গে সেইসব সুখস্মৃতি ভোলার মতো নয়।

মাটির ঘরের জন্য শন, খড়, গোলপাতা দিয়ে চালা তৈরির ছিলেন ভিন্ন ভিন্ন কারিগর। তা ছাড়া টিনের চালার কারিগড়রা এখন দালানের চালাও তৈরি করেন। এমনই একজন সুধীর সূত্রধর। তিনি বলেন, আগে মাটির ঘরের চালা তৈরি করতাম, এখন দালান-ঘরের চালা তৈরি করি। তবে মাটিরঘর তৈরিতে যে আনন্দ ছিল, এখন আর নেই।

advertisement