advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

মূল চ্যালেঞ্জ কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি : ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট

আবু আলী
৯ মে ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৮ মে ২০২১ ২৩:৫০
advertisement

মহামারী করোনা থমকে দিয়েছে পুরো পৃথিবী। বিশ্বজুড়েই দেখা দিয়েছে জীবন ও জীবিকার সংকট। এর মধ্যেই চলছে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট তৈরির কাজ। আগামী অর্থবছরের বাজেটে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়ানোই অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

আগামী ৩ জুন জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট পেশ করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। সেই বাজেটে সরকার জীবন ও জীবিকার ওপর বিশেষ নজর দিচ্ছে।

টানা প্রায় দেড় বছর ধরে চলে আসা করোনা মহামারীর ফলে এখন পর্যন্ত দেশে ৬২ শতাংশ মানুষ কাজ হারিয়েছে বলে তথ্য প্রকাশ করেছে সিপিডি। ব্র্যাক ও পিপিআরসির জরিপের তথ্যমতে আয় কমেছে ৭০ শতাংশ মানুষের। একইভাবে বিশ্বের এলডিসিভুক্ত প্রায় সব দেশই বিনিয়োগ ও কর্র্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কঠিন এক সংকটকাল অতিক্রম করছে। বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বেরিয়েও এসেছে। ফলে রপ্তানির বাজারে নতুন কিছু বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে বাংলাদেশকে। এ অবস্থায় সামনের দিনগুলোয় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে না পারলে সামষ্টিক অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। অবশ্য করোনার মধ্যে চীন, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের অনেক দেশই বিদেশি বিনিয়োগ টানতে সক্ষম হয়েছে। যদিও বাংলাদেশ এখানে সফল হতে পারেনি। তবে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ক্ষেত্রগুলো প্রায় প্রস্তুত হয়ে আছে, করোনা মহামারী কেটে গেলে বিপুল পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ আসবে। নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

চলমান করোনায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। ধুঁকছে স্বাস্থ্য খাত। প্রতি মুহূর্তে লড়াই করছে জীবন ও জীবিকা নিয়ে। আগামী বাজেটে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে প্রধান অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বেছে নিয়েছে সরকার। এ জন্য মানুষের জীবন ও জীবিকাকেও প্রাধান্য দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করছে অর্থ বিভাগ। তবে সামনের দিনগুলোয় অর্থনীতিকে স্বাভাবিক রাখতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে বলে মনে করে অর্থ বিভাগ।

করোনা মহামারীতে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এ অবস্থায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিকে তৃতীয় অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, সার, বীজের ভর্তুকি ও প্রয়োজনীয় উপকরণের পাশাপাশি এসব উপকরণ ব্যবহার ও আধুনিক কৃষি সম্পর্কে সম্যক ধারণা বাড়াতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বছরজুড়েই।

চলতি বাজেটে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল তিন বছরের মধ্যে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। বরং নতুন করে কাজ হারিয়েছেন অসংখ্য মানুষ। ফলে নতুন করে তিন কোটি টাকা মানুষ দরিদ্রের খাতায় নাম লিখিয়েছেন। ফলে সামনের দিনগুলোয় কর্র্মসংস্থান সৃষ্টি করা সরকারের জন্য অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সেন্টার ফল পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো স্বাস্থ্য খাত। তবে আগামী দিনগুলোয় স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিই বড় চ্যালেঞ্জ। অনেকে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, কমে গেছে আয়। ফলে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারকে নতুন করে পরিকল্পনা নিতে হবে।

অর্থ বিভাগ মনে করে কোভিড-১৯ পরবর্তী ধসে পড়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে গতি ফেরাতে হবে। শিল্প-বাণিজ্য, কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতকে চাঙ্গা করতে হবে। একইভাবে অপ্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং নারী উদ্যোক্তা যারা ব্যাংক ঋণের বাইরে রয়েছেন তাদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির নতুন বাজার অনুসন্ধান করতে হবে। বৈদেশিক শ্রমবাজার পুনরুদ্ধার করতে হবে। যেসব প্রবাসী দেশে ফিরে এসেছেন কোভিড-১৯ পরবর্তী তাদের ফেরত পাঠাতে হবে। যাদের ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে না তাদের জন্য দেশেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

advertisement