advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

পোশাকের মূল্য না পেয়ে হতাশ বাণিজ্যমন্ত্রী

৯ মে ২০২১ ০০:০০
আপডেট: ৮ মে ২০২১ ২৩:৫০
advertisement

আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের পোশাক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ বিষয়ে আরও বেশি নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। গতকাল শনিবার ‘করোনায় গার্মেন্ট খাতের করপোরেট জবাবদিহিতা ও শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এ বিষয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ৪০ লাখ শ্রমিকসহ এক কোটির মতো মানুষ তৈরি পোশাক খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত। এ খাত থেকে দেশের প্রায় ৮৪ ভাগ রপ্তানি আসে। আমরা অনেকখানি নির্ভরশীল এ পোশাকশিল্পে। রানা প্লাজা ঘটনার পরে সবাই অনেক আতঙ্কিত ছিল। বর্তমানে ঘুরে দাঁড়িয়েছি। সত্যি বলতে, পোশাকশিল্প আরও মজবুত অবস্থায় রয়েছে। দেশে শিশুশ্রম নির্মূল হয়েছে। ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত করা হয়েছে। ধীরে ধীরে অনেক এগিয়েছে। শ্রমিকদের প্রাপ্য অধিকার দিতে হবে। এক্ষেত্রে মালিক ও শ্রমিক এক সঙ্গে কাজ করবে। সরকার শ্রমিকদের পাশে আছে।

উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত বছর পোশাকশিল্পের যে পণ্য ১৫ ডলারের পাওয়া যেত, সেটার বর্তমানে ১২ ডলারে পাওয়া যাচ্ছে। এই অবস্থায় টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। এটা হয়তো মালিকপক্ষের কথা হয়ে যায়। তার পরও বলব পোশাকশিল্পের স্বার্থে আমাদের এ বিষয়টি সামনে আনা উচিত।

ঢাকা ও গাজীপুরের ১০২টি গার্মেন্টস, ৩০১ একজন সক্রিয় শ্রমিক ও ১০০ জন বেকার শ্রমিকদের তথ্য নিয়ে সিপিডি গবেষণাপত্র তৈরি করে। এর মধ্যে ৭৬.৫ শতাংশ ছোট কারখানা ও ২৩.৫ শতাংশ বড় গার্মেন্ট কারখানা রয়েছে।

সিপিডির গবেষণায় দেখা যায়, রপ্তানির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পরও শুধু বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর তালিকাভুক্ত না হওয়ায় অনেক কারখানা সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ সুবিধা পায়নি।

সিপিডির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের জন্য ৬৭.৬০ শতাংশ কারখানা আবেদন করে। এর মধ্যে ৬২.৭০ শতাংশ সহায়তা পেয়েছে। ১৭.৬০ শতাংশের যোগ্যতাই ছিল না। আর ১২.৭০ শতাংশ কারখানা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আবেদন করেনি। সিপিডি বলছে, করোনাকালীন শ্রমিকদের কাজের চাপ অনেক বেড়েছে। ৩০ শতাংশ শ্রমিক বলেছেন, তাদের কাজের চাপ বেড়েছে। ২২ শতাংশ শ্রমিক অভিযোগ করেছে, তারা হয়রানির শিকার। তালিকাভুক্ত শ্রমিকরা অনেকেই ভীত থাকেন, যদিও অধিকার নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে দাবি করলে কালো তালিকাভুক্ত হতে পারেন। অনেক শ্রমিকের মজুরি বাড়লেও পরিবারের আয় তুলনামূলকভাবে কমেছে। ফলে তারা খাদ্য অভ্যাসে পরিবর্তন করে তা সমন্বয় করছেন।

সংলাপে যুক্ত ছিলেন বিজিএমইএর প্রেসিডেন্ট মো. ফারুক হাসান, বিকেএমইএর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি মিন্টু ঘোষ প্রমুখ। #নিজস্ব প্রতিবেদক

advertisement