advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ছিনতাই করতেই চট্টগ্রামে চালক ও হেলপার খুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো
৯ মে ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৮ মে ২০২১ ২৩:৫১
খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃতদের গতকাল আদালতে নেওয়া হয় -আমাদের সময়
advertisement

কাভার্ডভ্যানে গার্মেন্টস পণ্য ছিল বলে ধারণা ছিল ছিনতাইকারীদের। আর সেই মালামাল ছিনতাই করতে চালক রিয়াদ হোসেন সাগর ও সহযোগী মোহাম্মদ আলীকে খুন করেছিলেন তাদেরই পূর্ব পরিচিত মিরাজ হাওলাদার, আবু সুফিয়ান সুজন ও রবিউল হোসেন বাবু। চালক সাগর ও সহযোগী আলী খুনের ঘটনায় নগর গোয়েন্দা পুলিশের (বন্দর জোন) হাতে গ্রেপ্তার দুজন আদালতে এ স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

মিরাজ হাওলাদার ও আবু সুফিয়ান সুজন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম হোসাইন মোহাম্মদ রেজার আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে খুনের দায় স্বীকার করেছেন। তারা বলেছেন, ২০২০ সালের ২ অক্টোবর এসিআই কোম্পানির গাড়ির যন্ত্রাংশ নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কাভার্ডভ্যানটি ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল। কাভার্ডভ্যানের চালক ছিলেন রিয়াদ হোসেন সাগর, আর হেলপার ছিলেন মোহাম্মদ আলী। রিয়াদের হাতে ড্রাইভিং শেখা মিরাজ হাওলাদার আর আবু সুফিয়ান সুজন ঢাকা যাওয়ার কথা বলে তাদের আরেক সহযোগী রবিউল হোসেন বাবুসহ সিটি গেট থেকে কাভার্ডভ্যানে ওঠেন।

কাভার্ডভ্যানটি জোরারগঞ্জ থানার কমলদহ এলাকায় রাতের খাবার খাওয়ার জন্য যাত্রাবিরতি করে। খাবার খেয়ে সবাই গাড়িতে ওঠেন। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী চালকের গলায় বাবু আর হেলপারের গলায় একযোগে ছুরিকাঘাত করে সুজন। মিরাজ গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসেন। একটু সামনে গিয়ে তারা গাড়ি আবার চট্টগ্রামের দিকে নিয়ে আসেন। আরও সামনে এসে হেলপার আলীর লাশ তারা সড়কের পাশে পুকুরে ফেলে দেন। কিন্তু আলী তখনো মারা না যাওয়ায় উঠে দাঁড়ান। তখন খুনিরা পুকুরে নেমে তার গলায় আবারও ছুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

কাভার্ডভ্যানের চালক সাগরের লাশ তারা বায়েজিদ লিংক রোডে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ওই সড়কে গাড়ি চলাচল বেশি থাকায় তারা টোল রোডে প্রবেশ করে হালিশহর থানা এলাকায় সাগরের লাশ ফেলে দেন। তার আগে সাগরের চেহারা থেঁতলে দিয়ে বিকৃত করে দেওয়া হয়, যাতে কেউ চিনতে না পারে। এর পর কাভার্ডভ্যানটি বড়পুল এলাকার মনসুর মার্কেটের সামনে রেখে তারা পালিয়ে যান।

গতকাল শনিবার দুপুরে এ বিষয়ে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে। এতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার ফারুক উল হক বলেন, সাত মাস ধরে অনুসন্ধান, গোয়েন্দা তৎপরতা ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যার সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা প্রাথমিকভাবে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তিনি আরও বলেন, খুনিরা ভেবেছিল কাভার্ডভ্যানে গার্মেন্টস পণ্য ছিল। কিন্তু মেশিনারিজ থাকায় তারা সরাতেও পারেনি, বিক্রিও করতে পারেনি। দুই থানার ভিন্ন স্থানে দুটি লাশ পাওয়ার ঘটনায় সংশ্লি­ষ্ট থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছিল। হালিশহর থানার মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করে এ রহস্য উদঘাটন করে।

সাত মাস তদন্ত শেষে গত শুক্রবার অভিযুক্ত মিরাজ হাওলাদারকে বন্দর এলাকার লেবার কলোনি থেকে এবং সুজনকে আকবর শাহ এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত উপকমিশনার (বন্দর জোন) এএএম হুমায়ুন কবির, অতিরিক্ত উপকমিশনার (পশ্চিম জোন) মোহাম্মদ শাহেদ ও পরিদর্শক মো. কামরুজ্জামান।

advertisement