advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

সঙ্গী তাদের দুর্ভোগ, মাথায় নিয়েছেন ঝুঁকি
স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করলে কঠোর পদক্ষেপ নিন

১২ মে ২০২১ ০০:০০
আপডেট: ১১ মে ২০২১ ২১:৫৩
advertisement

ঈদে বাড়ি ফেরা মানেই দুর্ভোগ। ঈদ এলেই মানুষের দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়ে যায়। প্রতিবছর রেলস্টেশন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালমুখী জনস্রােত বাড়ে। আনন্দের এ যাত্রার শুরুটা হয় দুর্ভোগের মধ্য দিয়েই। কিন্তু এবার করোনা ভাইরাসের কারণে দূরপাল্লার গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় ঝুঁকি নিয়ে, বিধিনিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে দলে দলে মানুষ ঈদের আনন্দ প্রিয়জনের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে গ্রামে যাচ্ছে। ফলে নিজে যেমন দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন, অন্যদিকে পরিবারের অন্য সদস্যকে ঝুঁকিতে ফেলতে যাচ্ছে। এ কারণে গ্রামে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। এতে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।

কয়েকদিন ধরেই ফেরিঘাটের পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল যে, জায়গার অভাবে রোগী ও মরদেহ নিয়ে আসা অ্যাম্বুলেন্সকেও ফেরিতে তোলার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। করোনা ঝুঁকি নিয়েই গাদাগাদি করে ফেরিতে উঠতে দেখা গেছে। সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই নেই। আর স্বাস্থ্যবিধি না মানলে মহাবিপদ হতে পারে, এটা আমরা সবাই জানি। তবুও মানছি না। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, গ্রাম অভিমুখে মানুষের ঈদযাত্রার রাশ যদি টানা না যায়, তা হলে করোনা সংক্রমণ ফের মাথাচাড়া দিতে পারে। দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে ভেঙে ভেঙে বাড়ি যাচ্ছে। এতে তাদের খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ, বেড়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও। বস্তুত কেউ যাচ্ছেন প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করতে আবার অনেকে শহরে কাজ হারিয়ে গ্রামে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। সব মিলিয়ে চিত্রটি এ রকম যে, দূরপাল্লার বাস-ট্রেন বন্ধ রেখেও মানুষের গ্রামে ফেরা কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। নানা কায়দায় ছুটছে মানুষ। গত বছরও এ রকমটি ঘটেছিল। ঈদের পর ব্যাপক হারে বেড়েছিল করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে অযথা ঘোরাঘুরি না করা তো সবার নাগরিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কিন্তু ওই দায়িত্ব পালন করছি না। সচেতন মানুষ করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে ঈদ উদযাপন করবে। তা না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঈদের পর আবারও গ্রাম থেকে শহরমুখী মানুষের ঢল নামার আশঙ্কা রয়েছে। কাজেই মানুষ যাতে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে চলাচল করতে না পারে- এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। কেউ স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

advertisement