advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

১৮ বার গাড়ি পাল্টিয়ে ঈদে বাড়ি ফিরলেন আহমেদ

হাসান আল জাভেদ
১২ মে ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১১ মে ২০২১ ২২:০৯
advertisement

রাজধানীতে একটি সরকারি দপ্তরে চাকরি করেন হাসনাইন আহমেদ। তিনদিনের বাইরে দুদিন অতিরিক্ত ছুটি পেয়েছেন এবারের ঈদে। কিন্তু স্ত্রী-সন্তান, মা-বাবা আছেন গ্রামের বাড়ি ভোলায়। যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম নৌপথে চলছে লকডাউন, সে জন্য বন্ধ লঞ্চ চলাচল। তাই সড়কপথেই গত সোমবার তিনি শুরু করেন ঈদযাত্রা। ভোলার বোরহানউদ্দিনের বাড়িতে পৌঁছতে তাকে রিকশা, ভ্যানগাড়ি, সিএনজি অটোরিকশা, ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল, ফেরি, ট্রলার, খেয়া নৌকা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা যোগে মোট ১৮ বার যান পাল্টাতে হয়েছে।

হাসনাইন আহমেদের ভাষ্য, সোমবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে মতিঝিল বিটিসিএল কলোনি থেকে রিকশাযোগে রওয়ানা করেন যাত্রাবাড়ী। এরপর সিএনজিচালিত অটোরিকশায় কেরাণীগঞ্জ। এভাবে পাঁচবার পরিবহন পাল্টে পদ্মার তীর মাওয়া ঘাটে পৌঁছতে পেরেছেন তিনি। ‘প্রায় ১৭ ঘণ্টা সময় নিয়ে সোমবার

রাত ১১টা ১০ মিনিটে বাড়ি পৌঁছানো সম্ভব হয়। এতে খরচ হয়েছে ২ হাজার ১০০ টাকা। তবুও

ভালো লাগছে কষ্টের ভ্রমণ শেষে প্রিয়জনের মুখ দেখা সম্ভব হয়েছে’, আমাদের সময়কে বলেন হাসনাইন আহমেদ।

তার মতোই লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে পথিমধ্যে পরিবহন ভেঙে ভেঙে বাড়ি ফিরছেন মানুষ। রাজধানীর বাসস্ট্যান্ডগুলো থেকে চুক্তিতে মাইক্রোবাস, ট্রাকে করে বিভিন্ন জেলায় মানুষ ছুটছে। এতে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। মাস্ক পরিধান বা সামাজিক দূরত্ব রক্ষার বালাই নেই। পথিমধ্যে বৃষ্টিতেও ভিজতে হয়েছে অনেককে।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে সরকারি বিধিনিষেধে দূরপাল্লার পরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে এবারের ঈদের ছুটিতে কর্মস্থল ত্যাগ না করতে সরকারি নির্দেশনা। এরপরও সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করেই গ্রামে ছুটছে মানুষ। তবে নদীপথের কারণে দক্ষিণাঞ্চলগামী ঈদযাত্রীদের পদ্ম পারাপারে জটিলতা দেখা দিলেও ফেরি চালু রয়েছে। মানুষের উপচেপড়া ভিড় সামলাতে রবিবার থেকে রাতে শুধু গাড়ির জন্য ফেরি চালু রাখার নির্দেশনা ছিল। রাতেও ফেরিতে মানুষের উপচেপড়া ভিড়ের কারণে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়, এতে দিবা সার্ভিসও চালু রয়েছে।

ঢাকার মিরপুরে বসবাসকারী একজন বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরিরত আওলাদ হোসেন জানান, কল্যাণপুর এলাকা থেকে চুক্তিতে একটি পিকআপে ওঠেন তারা। পাটুরিয়া ঘাটে তাদের নামানোর কথা ছিল। কিন্তু ঘাটের ৩০-৩৫ কিলোমিটার আগেই পুলিশের চেকপোস্টে যাত্রী নামিয়ে উল্টো দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় পিকআপটিকে। এ অবস্থায় আওলাদ হোসেনসহ অন্যরা পায়ে হেঁটে কিছুদূর গিয়ে আবারও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা যোগে আরও তিনবার ভেঙে পাটুরিয়া ঘাটে পৌঁছান।

advertisement