advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

এপিইউবির মন্তব্য
বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ মে ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১১ মে ২০২১ ২২:০৯
advertisement

বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাভজনক শাখা ক্যাম্পাস/স্টাডি সেন্টার স্থাপন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি (এপিইউবি)। সম্প্রতি দেশে অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মোনাস কলেজের শাখা স্থাপন ও পরিচালনার সাময়িক অনুমতি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে

এমন মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।

গতকাল মঙ্গলবার সংগঠনের চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস/স্টাডি সেন্টার স্থাপন ও পরিচালনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন দেওয়া হবে না মর্মে আশ্বস্ত করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও গত ২৫ ফেব্রুয়ারি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস/স্টাডি সেন্টার পরিচালনার আকর্ষিক অনুমোদন দেওয়া হয়; যা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ অবস্থায় বিদেশি শাখা ক্যাম্পাসের ফলে উচ্চশিক্ষা খাতে সৃষ্ট বৈষম্যের কয়েকটি দিক তুলে ধরে সংগঠনটি।

বৈষম্যের দিকগুলো হলো- বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ ট্রাস্ট আইন, ১৮৮২ অধীন অলাভজনক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়। এ ক্ষেত্রে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের শাখা ক্যাম্পাস/স্টাডি সেন্টারকে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর অধীন লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনুমোদন দেওয়ায় কথা উল্লেখ করা হয়েছে; যা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। দ্বিতীয়ত, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ৪৪ (৭) ধারা অনুযায়ী কোন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ তহবিলের অর্থ ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় ব্যয় ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যে ব্যয় করা যাবে না, অথচ বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস/স্টাডি সেন্টার প্রজ্ঞাপন ২০১৪-এর বিধি ৭ (ঝ) অনুযায়ী উল্লেখ করা হয়েছে উদ্বৃত্ত অর্থ-সম্পদ উদ্যোক্তা, স্থানীয় প্রতিনিধি ও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আনুপাতিক হারে বণ্টন হবে। তৃতীয়ত, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপন, কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল গঠন, শিক্ষাথীদের জন্য কোটা ও বৃত্তি প্রদানের বাধ্যবাধকতাসহ নানা বিধি থাকলেও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস/স্টাডি সেন্টার পরিচালনার ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো বিধিমালা রাখা হয়নি। চতুর্থত, বৈষম্যমূলক বিধির আওতায় সহজ শর্তে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর লাভজনক শাখা ক্যাম্পাস পরিচালনার অনুমোদন কার্যকর হলে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হবে। সম্ভাবনাময় অনেক বিশ্ববিদ্যালয় স্বল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীর বিপরীতে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বিশাল অঙ্কের ব্যয় মেটাতে গিয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। এ ছাড়া উচ্চশিক্ষা খাতে বৈদেশিক মুদ্রাপাচার রোধের বিপরীতে নিম্নমানের বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামসর্বস্ব ক্যাম্পাস পরিচালনার মাধ্যমে সনদ বাণিজ্যের আশঙ্কা রয়েছে।

advertisement