advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

বিষণœতার চাদরে ঢাকা পড়বে তাদের ঈদ

করোনায় প্রাণ হারানো পুলিশ সদস্যদের পরিবার

হাবিব রহমান
১২ মে ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১১ মে ২০২১ ২২:২৮
advertisement

ছোট মেয়ে সামিরা ইসলাম আনিকা চতুর্থ শ্রেণিতে আর বড় মেয়ে সামিয়া ইসলাম আঁখি চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ে অনার্সে পড়েন। ছেলে সাকিবুল ইসলাম রামিম উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তির অপেক্ষায়। তিন সন্তানের পড়ালেখার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের মা লাবলী ইয়াসমিনকে। তাই বাধ্য হয়ে আগের বাসা ছেড়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ছোট্ট বাসা ভাড়া নিয়েছেন। কারণ স্বামীর সামান্য পেনশনের টাকায় সন্তানদের মানুষ করাকেই এখন ব্রত হিসেবে নিয়েছেন লাবলী ইয়াসমিন। করোনায় প্রাণ হারানো ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) লালবাগ জোনাল টিমের সাবেক পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলামের স্ত্রী লাবলী ইয়াসমিন। তিনি জানাচ্ছিলেন নিজের সংগ্রামের কথা। গত বছরের ১৭ জুলাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

করোনার শুরু থেকে পুলিশ

সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে মাঠে ছিল। লকডাউন বাস্তবায়ন, করোনা রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছানো, সচেতনতা তৈরিসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। এমনকি যখন করোনায় আক্রান্ত প্রিয়জনের লাশ ফেলে পালিয়েছেন স্বজনরা, তখন পরম মমতায় সৎকার করেছেন পুলিশ সদস্যরা। এসব করতে গিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান অনেক পুলিশ সদস্য।

করোনাকালেও ঈদে আপনজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে নানা

বিধিনিষেধ মাড়িয়ে বাড়ির পানে ছুটছে মানুষ। অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাইরে না গেলেও ঘরেই আপনজনের সঙ্গে মেতে উঠবেন ঈদ আনন্দে। এমন প্রেক্ষাপটে করোনায় প্রাণ বিসর্জন দেওয়া পুলিশ সদস্যদের পরিবারগুলোর ঈদ কেমন কাটছে তা জানার চেষ্টা করেন এই প্রতিবেদক। তাতে উঠে এসেছে স্বজনহারা পরিবারের উৎসবের রঙ ফিকে হয়ে ওঠার বিধুর গল্প। ঈদের চাঁদের আলো যেন তাদের জীবনে এসেছে বিষণœতার সুর হয়ে।

রফিকুল ইসলামের পুলিশের চাকরিজীবনে ভালো কেটেছে তার পরিবারের সদস্যদের ঈদ-উৎসব পার্বণ।

স্বজনরা বলছেন, মাথার ওপর থেকে ছায়া সরে গেলে বোঝা যায় জীবন কতটা কঠিন। মন খারাপ হলে রফিকুল ইসলামের পুলিশের পোশাক আর ছবি দেখে মনকে সান্ত¦না দেন স্বজনরা। রফিকুল ইসলামের স্ত্রী লাবলী ইয়াসমিন আমাদের সময়কে বলেন, আমাদের আর এখন ঈদ নেই। কীভাবে থাকবে বলেন? যে মানুষটিকে ঘিরে আমাদের সবকিছু ছিল, তিনি তো নেই। এ পর্যন্ত বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি আরও বলেন, তিনি মারা যাওয়ার পর পুলিশ আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এখনো খোঁজখবর নেয়। এ জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। এখন আমার একটাই চাওয়া, আমার সন্তানদের যদি চাকরির ব্যবস্থা করে দেয় পুলিশ।

৩৩ বছর বয়সী পুলিশ কনস্টেবল মো. নাজমুল হোসাইন করোনা আক্রান্ত হয়ে গত ১৬ এপ্রিল মারা যান। ৪ ভাই, ৩ বোনের মধ্যে সবার ছোট কুমিল্লার সন্তান নাজমুল হোসাইন। তিনি কর্মরত ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশে। আট বছর আগে কুমিল্লার মেয়ে সুমি আক্তার পাখিকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে গ্রামের বাড়িতেই থাকতেন সুমি আক্তার। কোনো সন্তান না থাকলেও সুখের জীবন ছিল এই দম্পতির। ছোট্ট সেই সংসার তছনছ হয়ে গেছে করোনার থাবায়।

সুমি আক্তার আমাদের সময়কে বলেন, করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর উনি (নাজমুল হোসাইন) আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, রোজার ঈদের পর আমাকে ঢাকা নিয়ে যাবেন। সেখানে বাসা নিয়ে থাকব। কিন্তু ঈদের আগেই মারা গেলেন। আমাদের আর একসঙ্গে থাকা হলো না। কথাগুলো বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুমি আক্তার বলেন, নাজমুল হোসাইন যেদিন মারা যান সেদিন সন্ধ্যায় আমাকে ফোন করে বলেন, সুমি আমার শরীরটা খুব খারাপ। তুমি আমাকে মাফ করে দিও। পরে ফোনে ভোররাতে তার মারা যাওয়ার খবর পাই।

বর্তমানে কুমিল্লায় বাবার বাড়িতে থাকছেন সুমি আক্তার। তিনি জানান, নাজমুল হোসাইনের লাশ গ্রামের বাড়িতে পাঠানোর সময় ৬০ হাজার টাকা দিয়েছিল পুলিশ। এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে আর কোনো আর্থিক সহায়তা পাননি। এখন আমাকে পুলিশের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা করলে আমি ঠিকমতো চলতে পারব।

advertisement