advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

খালেদা জিয়া প্রসঙ্গে বিএনপি
বিদেশে চিকিৎসায় অনুমতির এখতিয়ার আছে সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ মে ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১২ মে ২০২১ ০১:২৬
advertisement


বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার আইনগত এখতিয়ার সরকারের আছে বলেই মনে করছে বিএনপি। ফৌজদারি দ-বিধিতে সরকারকে এ এখতিয়ার দেওয়া আছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। এভারকেয়ারের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা প্রাপ্তির আইনগত দিক তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব বলেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি প্রদানে ফৌজদারি দ-বিধি ৮৯৮-এর ৪০১ ধারায় শর্তহীন অথবা শর্তযুক্ত ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে আদালতের কোনো আদেশ থেকে থাকলেও অনুমতি দিতে পারে সরকার।
খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিয়ে যেতে সরকার অনুমতি না দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে
গতকাল সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বিএনপি তাদের আইনি ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে এবং সরকারের কাছে খালেদা জিয়ার পরিবারের করা আবেদন নাকচ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।
খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের ঘোষিত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, উনারা (সরকার) বলেছেনÑ অনুমতি দিতে পারছেন না। কেন পারছেন না, যে যুক্তিগুলো দিলেন, সেই যুক্তিগুলো একেবারেই অগ্রহণযোগ্য যুক্তি, খোঁড়া যুক্তি। তারা বলেছেনÑ সাজাপ্রাপ্তদের বিদেশে পাঠানোর নজির নেই। এটি তারা ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন।
কয়েকটি নজির উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭৯ সালে আমাদের প্রথম স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনকারী আ স ম আবদুর রব জেলে ছিলেন। তখন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তাকে এই আইনে মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার জন্য জার্মানি পাঠানো হয়েছিল। এর পর আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন এম মনসুর আলী সাহেবের ছেলে মোহাম্মদ নাসিম সাহেব, ২০০৮ সালে বর্তমান সরকারের সাজাপ্রাপ্ত উনি, তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছিল। এর পর আমি নাম বলব না, দুই সহোদর ভাই অত্যন্ত উচ্চপদস্থ প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তার ভাই, তারা কিন্তু এই ৪০১ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদ-প্রাপ্ত তাদের মাফ করে দিয়ে বাইরে পাঠানো হয়েছিল। সুতরাং কেন এই সমস্ত খোঁড়া যুক্তি, সোজা বলেন যে, আমরা দেব না।
সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বলার মতো তো বদান্যতা আপনাদের নেই, সেই বড় যে হৃদয় সেটি আপনাদের নেই। শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবের এটি ছিল। থাকলে বেগম খালেদা জিয়াকে অনেক দিন আগে আপনারা ছেড়ে দিতেন, রাজনীতি করতে দিতেন।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখনো ‘ক্রিটিক্যাল’ বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘এখনো ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে আছেন তার (খালেদা জিয়া)। যদিও আল্লাহর রহমতে অনেক ইম্প্রুভ করেছেন। এখন তিনি রুম এয়ারে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারছেন অর্থাৎ রুমের মধ্যে তার অক্সিজেন লাগছে না। তার প্রেসার, টেম্পারেচার, অক্সিজেন যেটিকে স্যাচুরেশন বলে এগুলো এখন আপাততভাবে আল্লাহর হুকুমে কিছুটা নরমালের দিকে চলে এসেছে। তার মূল কতগুলো বিষয় আছে, যে বিষয়গুলো এখনো বিপজ্জনক অবস্থার মধ্যে আছে। তার কিডনির সমস্যা আছে, হার্টের সমস্যা আছেÑ এ নিয়ে ডাক্তাররা এখনো অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। আমরা দলের পক্ষ থেকে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ এভারকেয়ার হাসপাতাল তারা সর্বাত্মক আন্তরিক নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করছেন। তারা কোনো কিছু বাকি রাখছেন না এবং কি তারা বাইরে থেকে বিশেষজ্ঞ নিয়ে আসছেন প্রতিনিয়ত, দেশের বাইরেও তারা যোগাযোগ রাখছেন বড় বড় চিকিৎসকদের সঙ্গে, সেভাবে তারা এখানে চিকিৎসা করার চেষ্টা করেছেন।
তিনি বলেন, একমাত্র এভারকেয়ার হাসপাতাল সবচেয়ে বেশি টেকনোলজিক্যাল দিক থেকে উন্নত। তার পরও এনাফ না। ওরা নিজেরাই মনে করে যে, অনেক লিমিটেশনস আছে। সেই লিমিটেশনগুলো দেখে তখন উনার পরিবার উনাকে বাইরে নেওয়ার আবেদন করেছিল।
উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের আবেদনের কথা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারা (সরকার) এই আবেদন করার পর পর এমনভাবে কথা বললেন, সবাই আশাবাদী হয়ে উঠেছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে হঠাৎ করে বলে তাদের টোন বদলে গেল। কেন পারছেন না সে ব্যাপারে তারা যে যুক্তিগুলো দিলেন, সেই যুক্তিগুলো একেবারেই অগ্রহণযোগ্য যুক্তি, খোঁড়া যুক্তি।
গত বছরের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে খালেদা জিয়ার মুক্ত হওয়ার পর তিনি সরকারের দেওয়া শর্তাবলি ভঙ্গ করেননি বলে জানান মির্জা ফখরুল।
দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সম্পর্কে সরকারের কিছু প্রভাবশালী মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, যেসব কথা বলা হচ্ছে, এখন এগুলো শুধু অশালীনই নয়, অমার্জিত এবং অগ্রহণযোগ্য। আমি আবারও বলছিÑ দয়া করে সংযত হোন, দয়া করে আপনাদের এসব কথা কমান। সবসময় যাচ্ছেতাই বলবেন আর পার পেয়ে যাবেন, এমনটি ভাববেন না। সময় যখন আসবে, তখন এর জবাব ঠিকঠিক দিয়ে দেওয়া হবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, তাকে (খালেদা জিয়া) অন্তরীণ করে রাখা, তাকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। লক্ষ্যÑ এ দলটিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া। কিন্তু বিএনপির মূল শক্তি জনগণ। যারা বাংলাদেশি, যারা বাংলাদেশকে স্বাধীন-সার্বভৌম দেখতে চান, শতভাগ মানুষের মূল্যবোধ, ধর্মীয় ও চিন্তাবোধ যারা ধারণ করেন, তাদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে বিএনপি। তারাই বিএনপির ভোটার।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন হলে আপনারা কোনো দিনই জিততে পারবেন না বলেই আপনাদের এত ভয়। এর পর তিনি সরকারি দলের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেনÑ কিসের গণতন্ত্রের কথা বলেন? কিসের নৈতিকতার কথা বলেন? কিসের ইথিক্সের কথা বলেন আপনারা?
খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি না দেওয়ার বিষয়টা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক, অমানবিক উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল সরকারের আচরণের সমালোচনা করে বলেন, জনগণকে ভ্রান্ত ধারণা দেওয়া হচ্ছে; বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছি, জানাচ্ছি।
বিএনপির নেতা নিপুণ রায়চৌধুরীসহ কারাবন্দি দলটির যত নেতাকর্মী, দেশের যত আলেম-উলামাসহ বিরোধী দলের বন্দিদের ঈদের আগেই নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ারও দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
ঈদ শুভেচ্ছা
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলমানদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জ্ঞাপন এবং সবার অব্যাহত সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে গতকাল বাণী দিয়েছে বিএনপি।
মির্জা ফখরুল এ বিষয়ে বলেন, দেশে বিদ্যমান ক্রান্তিলগ্নে সব ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে ঈদের আনন্দ নিজেদের ভাগ করে নিতে হবে। তাই ঈদুল ফিতরের শিক্ষা থেকে আমাদের অঙ্গীকার হোকÑ সকল হিংসা, বিদ্বেষ ও হানাহানি থেকে মুক্ত হয়ে ন্যায়, সাম্য, ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, দয়া, সহানুভূতি, মানবতা ও মহামিলনের এক ঐক্যবদ্ধ ও ভালোবাসাপূর্ণ সমাজ এবং দেশ গঠনের জন্য একযোগে কাজ করা। করোনাকালে অসহায় ও দুস্থ মানুষ যেন অভুক্ত না থাকে, সে লক্ষ্যে সচ্ছল ব্যক্তিদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

advertisement