advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

কোভিডের ভুয়া রিপোর্ট ৪ প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা বন্ধ

ল্যাবরেটরিগুলোকে নতুন নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ জুন ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১০ জুন ২০২১ ২৩:০০
advertisement

বিদেশগামী যাত্রীদের কোভিড-১৯ পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট সরবরাহের অভিযোগে চারটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- সিএসবিএফ হেলথ সেন্টার, স্টিমজ হেলথ কেয়ার, আল জামি ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং মেডিনোভা মেডিক্যাল সার্ভিসেস লিমিটেডের মিরপুর শাখা। এ ছাড়া কোভিডের ভুয়া রিপোর্ট ঠেকাতে নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে ল্যাবগুলোর জন্য নতুন আটটি নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী বিদেশগামীদের কোভিড পরীক্ষার জন্য নমুনা কোনো অবস্থায়ই বাড়ি থেকে সংগ্রহ করা যাবে না। একইসঙ্গে মূল পাসপোর্ট যাচাই করে পাসপোর্ট নম্বর উল্লেখ করে নমুনা সংগ্রহ ফর্ম পূরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পাসপোর্টের ফটোকপি গ্রহণযোগ্য নয়। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

অধিদপ্তরের পরিচালকের (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) দপ্তর থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, সাম্প্রতিককালে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে বিদেশগামীদের ভুয়া কোভিড-১৯ রিপোর্ট প্রদানসহ (পজিটিভ রোগীকে নেগেটিভ সনদ প্রদান, নমুনা সংগ্রহ ব্যতিত নেগেটিভ সনদ প্রদান, প্রতারণার মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, নমুনা সংগ্রহ বুথের নামে দালাল নিয়োগ ইত্যাদি) বেশকিছু অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা ডিএইচআইএস-২

ডাটাবেজ যাচাইয়ে ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রমাণ হয়। এ কারণে অভিযুক্ত চারটি প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের কর্মকা- অনাকাক্সিক্ষত, জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং দেশের ভাবমূর্তি ভয়ঙ্করভাবে ক্ষুণœ করছে। এ অবস্থায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আপনার প্রতিষ্ঠানে ও প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন অন্য বুথগুলো থেকে নমুনা সংগ্রহসহ বিদেশগামীদের আরটি-পিসিআর পরীক্ষা কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখতে মহাপরিচালকের অনুমোদনক্রমে নির্দেশ দেওয়া হলো।

এদিকে করোনা আরটি-পিসিআর পরীক্ষার অনুমোদন পাওয়া দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ল্যাবগুলোকে কিছু নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এসব নির্দেশনা অমান্য করলে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্দেশনাগুলো হলো- পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিদেশগামীদের কোভিড-১৯ নমুনা সংগ্রহের জন্য ল্যাবগুলোর নিজস্ব ভবনের বাইরে স্থাপিত সব ধরনের নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বিদেশগামীদের নমুনা কোনো অবস্থাতেই বাড়ি থেকে সংগ্রহ করা যাবে না। বিদেশগামী যাত্রীদের নমুনা সংগ্রহের সময় মূল পাসপোর্ট যাচাই করে, পাসপোর্ট নম্বর উল্লেখপূর্বক নমুনা সংগ্রহ ফর্ম পূরণ করতে হবে। কোনোক্রমেই পাসপোর্টের ফটোকপি গ্রহণযোগ্য হবে না। বিমানবন্দরে বিদেশগামীদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা সনদ, পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে যাচাই করা হবে। শুধু টেলিফোন/মোবাইল নম্বর প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না। সাত দিনের মধ্যে কোনো পজিটিভ রিপোর্ট থাকলে ওই যাত্রীকে দেশত্যাগের অনুমতি দেওয়া যাবে না। কোনো বিদেশগামী কোভিড-১৯ পজিটিভি হলে, কমপক্ষে সাতদিন পর তিনি শুধু সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ল্যাবে পুনরায় পরীক্ষা করাবেন এবং পরবর্তী সময় যদি নেগেটিভ সনদপ্রাপ্ত হন, সে ক্ষেত্রে দেশত্যাগ করতে পারবেন। কোনো আরটি-পিসিআর ল্যাবের ব্যাপারে কোনো ধরনের অভিযোগ উত্থাপন হলে, সেটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করে তদন্তসাপেক্ষে পরবর্তীতে অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। কোনো বিদেশগামী যাত্রীর কোভিড-১৯ পরীক্ষার ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি উভয় স্থানে প্রথমে পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে যাচাই করে দেখতে হবে যে, তিনি গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অন্য কোথাও আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করেছেন কিনা। করে থাকলে এবং পজিটিভ হলে তাকে সাত দিন পর্যন্ত পুনরায় আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।

advertisement