advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ঢাকঢোল পিটিয়ে সাপে কাটা তরুণীর চিকিৎসা

পুলিশ দেখে পালাল কবিরাজের দল

বরিশাল ব্যুরো ও বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি
১১ জুন ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১০ জুন ২০২১ ২৩:০৮
advertisement

ঢাকঢোলসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে দুই দিন ধরে কথিত সাপে কাটা এক তরুণীর চিকিৎসা করছিলেন এক কবিরাজ ও তার দল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পালিয়ে যায় কবিরাজ দল। গত বুধবার বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার আগরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ অসুস্থ ওই তরুণীকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে গতকাল বাড়ি ফিরে সেই তরুণী।

কথিত কবিরাজ মো. আলী আকবর হোসেন মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার দক্ষিণ রমজানপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার দলের সদস্যরা হলো- একই উপজেলার দক্ষিণ রমজানপুর গ্রামের মো. তফেল, মো. হাফিজুল, মো. বাপ্পি, মো. হানিফ ও মো. শাজাহান।

স্থানীয়রা জানায়, গত রবিবার রাতে ওই তরুণীকে সাপ বা বিষাক্ত কোনো পোকায় কামড় দেয়। এতে সে আতঙ্কিত হয়ে পড়লে তাকে ওই রাতেই মাদারীপুরের কালকিনিতে কবিরাজ আলী আকবরের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। ঝাড়ফুঁক শেষে আবার

বাড়ি ফিরে গত মঙ্গলবার ওই তরুণী ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই দিন কবিরাজ মো. আলী আকবরকে খবর দিয়ে ওই বাড়িতে নিয়ে আসেন তরুণীর স্বজনরা।

কবিরাজ ও তার দল এসে বাড়ির উঠানে শামিয়ানা টাঙিয়ে কলাগাছ পুঁতে মোমবাতি, আগরবাতি ও ধূপ জ¦ালিয়ে তরুণীকে সিমানার মধ্যে একটি চেয়ারে বসিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন। একই সঙ্গে ঢাকঢোলসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে মন্ত্র পড়ে তরুণীকে ঝাড়ফুঁক দিতে থাকেন কবিরাজ। মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত চলে কথিত কবিরাজদের এ ঝাড়ফুঁক।

খবর পেয়ে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম তারেক বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কবিরাজ ও তার দল পালিয়ে যায়।

তরুণীর স্বজনরা জানান, ওই তরুণীকে আধ্যাত্মিক চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলে ৪৫ হাজার টাকা দাবি করেন কবিরাজ। ৩৭ হাজার টাকা চুক্তিতে ৬ সদস্যের কবিরাজ দলের খাওয়া-থাকা রোগীর অভিভাবক বহন করবে বলে চুক্তি হয়। এ সময় ডেকোরেশনসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও তাদের বহন করা কথা ছিল। ৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যে রোগীকে সুস্থ করে তোলার গ্যারান্টি দেন কবিরাজ।

তরুণীর বাবা জানান, ওই কবিরাজের চিকিৎসায় সাপে কাটা অনেক রোগী ভালো হয়েছে। এ বিশ^াসে তিনি ওই কবিরাজের সঙ্গে ৩৭ হাজার টাকায় চুক্তি করে আগাম টাকা পরিশোধ করেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার রাত পর্যন্ত কবিরাজের চিকিৎসায় তার মেয়ের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। পুলিশ এলে কবিরাজ দলবল নিয়ে পালিয়ে যান। সেই সঙ্গে কথিত চিকিৎসার জন্য নেওয়া চুক্তির টাকা ফেরত না দিয়েই চলে যান।

জাহাঙ্গীরনগর ইউপি চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম তারেক বলেন, সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসার নামে প্রতারণা চলছিল। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি পুলিশ নিয়ে ওই বাড়ি গেলে কবিরাজ ও তার দল পালিয়ে যায়।

আগরপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মহিদুল আলম বলেন, ওই কবিরাজকে আটকের জন্য পুলিশ অভিযান পরিচালনা করছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

advertisement