advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

প্রস্তাবিত বাজেটের স্বরূপ ও বাস্তবতা

ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ
১১ জুন ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১০ জুন ২০২১ ২৩:৩২
advertisement

করোনাকালে বিশেষ করে এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন ভাবনা বা দর্শন (যেমন করোনা প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদারকরণ, টিকা প্রদান, হঠাৎ করে বেকার হওয়া জনগোষ্ঠীকে কাজে ব্যাপৃত রাখা, মধ্যবিত্ত থেকে নিম্নবিত্তে নেমে যাওয়া মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা, ইনফর্মাল সেক্টরে আয়-উন্নতির রুদ্ধ হয়ে যাওয়া পথকে খুলে দেওয়া, মোটা দাগে অর্থনীতিকে সচল করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান প্রভৃতি) পরিবর্তনের সূচনা বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন পর্যালোচনা ক্রমবর্ধমান আমজনতার সচেতনতার বিষয়ে পরিণত হচ্ছে, এটি যেমন ইতিবাচক দিক আবার বাজেট প্রাক্কলন এবং বাস্তবায়ন সিদ্ধান্ত প্রদানের নির্দেশনা অতিমাত্রায় বৃত্তাবদ্ধ ধ্যান-ধারণার মধ্যে আটকে থাকছে এটি একটি নেতিবাচক প্রবণতা। এ অবস্থায় বাজেট বাস্তবায়নে অদক্ষতা, একদেশদর্শিতা ও দুর্নীতির জটাজালে আটকিয়ে যাচ্ছে। নানামুখী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে যা বোঝার ওপর শাকের আঁটি। যা প্রকারান্তরে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাকে জটিল করে ফেলে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে। জাতীয় বাজেটের (যা মূলত ব্যয়ের) আকার প্রবৃদ্ধি আগের বছরের তুলনায় বেশি বেশি করে প্রস্তাব করা হয় এবং সে অনুযায়ী রাজস্ব আয় প্রাক্কলন ওরফে লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধির প্রস্তাব কষা হয়, বাস্তবায়ন পরিস্থিতি যদি আমলে না নেওয়া হয় তা হলে মোটা বাজেট দিয়ে ফলাফল অর্জন সম্ভব হয় না। যদি এসব প্রাক্কলন বাস্তবায়নযোগ্যতার নিরিখে নিরূপণ করা না হয়, চাহিদা বা কঠিন বাস্তবতাকে সঠিকভাবে ঠাহর না করা হয়, সঠিক অনুমানের ভিত্তিতে রাজস্ব আদায় এবং সেই সঙ্গে উন্নয়ন ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা না ধরা হয় তা হলে বাজেটের বড় ধরনের কাট বা পুনর্বিবেচনা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না।

হ্যাঁ বাজেটের আকার বড় হচ্ছে, কেননা বাস্তবায়নের গতি কম হলে তেমনটি প্রতীয়মান হওয়া স্বাভাবিক। অনেক অর্থনীতির মতো বাংলাদেশের বাজেট ক্রমবর্ধমানভাবে প্রস্তুত করা হয়। বলা হয় এযাবৎকালের সেরা বা বড় বাজেট। বাজেটের নমিনাল আকার প্রতি বছর অবাধ বৃদ্ধি করা হয়। ক্রমবর্ধমান বাজেট বৃদ্ধির গতি জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং সিপিআই সঙ্কলনের ওপর ভিত্তি করে অনুমিত হয়। যদি তা না হয়, বাজেটে প্রকৃত অর্থে কোনো বৃদ্ধি প্রতিফলিত হবে না, এটা মনে হতে পারে আমরা যেখানে ছিলাম এখনো সেখানে আছি। তা ছাড়া বাজেটের আকার যদি বাড়ে ভোক্তা সন্তুষ্টি এবং বিকাশের স্তর বোঝানোর জন্য, যদি ভোটারদের আশ্বস্ত করার জন্য, তা হলে তো এটি একটি উদ্যমী প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়। উন্নয়নকামী অর্থনীতিতে এটি প্রয়োজনও বটে। যদিও প্রকৃত অর্থে বৃদ্ধি তেমন না হলেও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত একটি সাধারণ উদ্বেগ থাকবে, যদিও সেখানে পরিস্থিতিগত এবং পদ্ধতিগত উন্নতি বা সংস্কার অনেক প্রয়োজন হবে। আরেকটি ফ্যাক্টরের বিবেচনা সেখানে থাকা উচিত, যেমন মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদায় পৌঁছানোর পথে থাকার উচ্চাকাক্সক্ষায় থাকতে হলে বঙ্গীয় বাজেটের আকার বৃদ্ধি আবশ্যক হবে। সবাই যেমন দেখছে অর্থনীতি প্রসারিত হয়েছে এবং বলা হচ্ছে, এজন্য সরকারি ও বেসরকারি উভয় থেকে আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে, এ কথা ভাব-ভাবনায় আনা হচ্ছে অর্থনৈতিক গতিশীলতা বজায় রাখার জন্য, আবদার চলছে মোটা দাগের উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধির। যদি তা না হয়, পছন্দসই ৭-৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি নাকি অর্জিত হবে না।

দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষকে ধরা হয় অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে। এরাই পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতিতে নানাভাবে ভূমিকা রাখছেন। এই মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে রয়েছেন চাকরিজীবী, কৃষক, ছোট ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী। নানা কারণে এরা চাপের মুখে। নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম, শিক্ষা-চিকিৎসাসহ নানা খরচের চাপে ত্রাহি অবস্থা। এ অবস্থায় করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ১৫ মাসে চাকরি হারিয়েছেন হাজারো মধ্যবিত্ত। এ শ্রেণির অনেকের আয় কমেছে, কিন্তু চিকিৎসাসহ জীবনধারণের প্রয়োজনীয় ব্যয় বেড়েছে। অনেকেই চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে ঋণে জর্জরিত। অথচ নির্দিষ্ট আয়ের বাইরে আর কোনো বিকল্প আয়ের উৎস তাদের নেই। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ নিয়ে হতাশাজনিত অনাগ্রহ কাটেনি। সঞ্চয়পত্র নিরাপদ বিনিয়োগ বিবেচিত হলেও নতুন বাজেট প্রস্তাবে ঋণে ঘাটতি মেটাতে সঞ্চয়পত্রের নজর দেওয়ায় মধ্যবিত্তের পকেট কাটা পড়বে। বাজেটে জীবন-জীবিকার সুরক্ষার কথা বলা হলেও কোনো কিছুই স্পষ্ট করা হয়নি। এই শ্রেণির মানুষের প্রত্যাশা ছিল ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেটে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়া হবে। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে মধ্যবিত্তের জন্য কোনো ‘অবলম্বন’ রাখা হয়নি। ট্রেজারি থেকে বাজেটকে সময়োপযোগী দাবি করে বলা হয়েছে, এ বাজেট ব্যবসাবান্ধব। কাদের ব্যবসা? সেখানে উৎপাদক, ক্রেতা ও বিক্রেতা কে?

প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য বেশকিছু ইতিবাচক উদ্যোগ রয়েছে। দরিদ্র ও অতিদরিদ্রের জন্য সামাজিক সুরক্ষা খাতের ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বৃহৎ জনগোষ্ঠী মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিপন্ন মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। বিভিন্ন খাতে করছাড় দেওয়া হয়েছে। যেসব খাতে করছাড় দেওয়া হয়েছে, তার বেশিরভাগ সুবিধা পাবে সংগঠিত ও বৃহৎ শিল্প। কিন্তু মাঝারি বা ছোট শিল্পের জন্য সুনির্দিষ্ট খুব বেশি সুবিধা নেই। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের জন্য তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। সরকারি ব্যয় বাড়লে নিম্ন শ্রেণি উপকৃত হয়। মধ্যবিত্তের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ কোথায়? করোনা-পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের ব্যাপারে সমন্বিত কোনো পরিকল্পনাও নেই। টিকা সংক্রান্ত ব্যয় এবং বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনার দেখা মেলে না। করোনায় দরিদ্র বেড়েছে। কর্মসংস্থান এবং মানুষের আয় কমেছে। বেড়েছে অর্থনৈতিক বৈষম্য। বাজেটে তার কোনো প্রতিফলন নেই। মূলত বাজেটে সাধারণ মানুষকে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। জনগণের সেবা নিয়ে কর্তৃপক্ষের উদ্বিগ্নতা না বক্তব্যে, না বরাদ্দে প্রকাশ পায়নি। বাজেটে পরিচালন ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেটে করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত নতুন করে দরিদ্র হওয়া এবং শহুরে দরিদ্র জনগণের ওপর যথাযথ মনোযোগ না দিয়ে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বাজেটে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ দেখা হয়েছে। বাজেটে করোনাকালের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন কোনো দিকনির্দেশনা নেই। বাজেটে দাবি করা হয়েছে ব্যবসা ও শিল্পের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোয় কর্মসংস্থান বাড়বে। এই সুবিধা সবাই পাবে। কিন্তু মধ্যবিত্ত শ্রেণি কী কী খাতে সুবিধা পাবে তা পরিষ্কার নয়। করোনকালে বন্ধ থাকা সরকারি চাকরিতে নিয়োগসহ অন্যান্য স্বায়ত্তশায়িত প্রতিষ্ঠানের শূন্য থাকা পদে নিয়োগ ও নিয়মিত জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য নেই। ব্যবসা ও শিল্প বিনিয়োগের পাশাপাশি শিক্ষিত জনবলকে কাজে লাগাতে সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়াও সচল করা প্রয়োজন। এতে অন্তত কিছু পরিবারের কর্মসংস্থানের সুযোগ হতো। করোনাকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই শিক্ষার্থীদের বেতন-ফি নিয়মিত আদায় করে যাচ্ছে। সন্তানদের নিয়ে হতাশায় থাকা অভিভাবকরা এই বেতন-ভাতা দিতে গিয়ে বাড়তি চাপে পড়েছেন। চাকরি হারানো, আয় হ্রাস, চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধিসহ নানা কারণে ক্রয়ক্ষমতার অবনমন বাজারে প্রভাব। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের একটি রূপরেখা বাজেটে খুবই প্রত্যাশিত ছিল। বিশ্বব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বেতনভোগী কর্মীদের আয় ৪৯ শতাংশ কমে গেছে। তবুও এখানে বেকারত্বের সুবিধা এখনো হাজার মাইল দূরের ভাবনা। এমনকি বাজেট বক্তৃতায় জীবন-জীবিকাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি করা হলেও বাজেট পর্যালোচনা করে এর বাস্তবতার প্রতিফলন দেখতে পাননি অর্থনীতিবিদরা। করোনার কারণে নিম্নমধ্যবিত্ত থেকে যারা দরিদ্র হয়েছেন তাদের জন্য কোনো কার্যকর কর্মসূচি নেই। মানবসম্পদ উন্নয়ন, জীবিকা নিশ্চিতের কোনো পদক্ষেপের কথা বাজেটে নেই। ১৫ মাস ধরে চলা শিক্ষার অচলাবস্থা থেকে বের হয়ে কীভাবে শিক্ষার্থীদের যোগ্য ও কাজের উপযুক্ত করে তোলা হবে সে বিষয়েও সুনির্দিষ্ট কোনো উদ্যোগ নেই। অর্থনীতির এই ক্রান্তিকালে করছাড় ও করপোরেট কর হ্রাসের ঘোষণা দিয়ে ব্যবসায়ী, শিল্পপতিদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

বাজেটে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা অস্পষ্ট। এতে জিডিপির হিসাবায়নের ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত, পারসেপশন ও রিয়ালিস্টিকের পার্থক্য আছে। মানুষ ও অর্থনীতিকে বাঁচানোর জন্য ইমিডিয়েট যেগুলো দরকার ছিল সেগুলোতে বরাদ্দ আশানুরূপ হয়নি। সরকার মনে করেছে, ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো হলে কর্মসংস্থান হবে। কর্মসংস্থান হলে মানুষ বেঁচে যাবে। অথচ বেসরকারি খাতে মোটেও বিনিয়োগ আসছে না।

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে এক লাখ ৭ হাজার ৬১৪ কোটি টাকার। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে এতদিন ৮৮ লাখ গরিব-অসহায় সহায়তা পেয়ে আসছিল। এই বাজেটে আরও ১৪ লাখ সুবিধাভোগী যুক্ত হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি, নারীদের জন্য করছাড় ইতিবাচক হলেও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য কোনো আশার খবর নেই। অর্থনীতিবিদদের অনেকেই বলছেন, নতুন বাজেট প্রস্তাবে দারিদ্র্য হারসহ অনেক তথ্য-উপাত্তের মধ্যেই সামঞ্জস্য নেই। অনেক উপাত্তের হালনাগাদ পরিসংখ্যান নেই, কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে সুস্পষ্ট ধারণাও নেই।

এ কথা ঠিক, সব বাজেটে প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির ফারাক আছে, থাকে। কৃষি খাত বা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় করছাড় দেওয়ার যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা ইতিবাচক হলেও নিম্নআয়ের মানুষ কবে তার কতটা সুবিধা পাবে, সেটা পরিষ্কার নয়। ব্যবসাবান্ধব বাজেটের কথা বলা হলেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা সুবিধা পাবে, তা স্পষ্ট নয়। কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি রোডম্যাপ থাকা উচিত। মোদ্দা কথা, প্রস্তাবিত বাজেটের শিরোনামে জীবন ও জীবিকার কথা বলা থাকলেও বর্তমান জীবন ও জীবিকার বাস্তবতার সঠিক মূল্যায়নের অবকাশ থেকেই যাচ্ছে।

রাজস্ব আহরণের যে লক্ষ্যমাত্রা প্রস্তাবিত বাজেটে ধরা হয়েছে, সেটি চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রার প্রায় সমান। চলতি অর্থবছর যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল, তা সাধারণ সময়ের জন্যই বেশি। করোনার কারণে অর্থনীতি স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। এ সময়ের জন্য তো আরও অনেক বেশি। আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে একদিকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অনেক ধরা হয়েছে, অন্যদিকে করপোরেট করসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর-শুল্কে ছাড় দেওয়া হয়েছে। ভ্যাটের জরিমানা কমানো হয়েছে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে কর অবকাশ সুবিধাও রয়েছে। পরিস্থিতি যদি স্বাভাবিক থাকত, এসব ছাড় দেওয়ার যৌক্তিকতা থাকত। এর ইতিবাচক প্রভাবও দেখা যেত। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে যদি ব্যবসাই না করা যায়, তা হলে কর তো কমে যাবে। অনেক ক্ষেত্রে করের যে ছাড় দেওয়া হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সুফল বয়ে আনবে না। কারণ অর্থনীতি সে অবস্থায় নেই। অর্থনীতি যদি গতিশীল না হয়, কর বাড়বে কীভাবে- সেটা প্রস্তাবিত বাজেটে বিবেচনায় নেওয়া দরকার ছিল।

ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ : সাবেক সচিব ও এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান

advertisement