advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

চলচ্চিত্রে বুদ্ধদেব ভীষণ উজ্জ্বল

১১ জুন ২০২১ ০০:০০
আপডেট: ১১ জুন ২০২১ ০০:২০
advertisement

প্রয়াত হলেন ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা ও সাহিত্যিক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। গতকাল দক্ষিণ কলকাতার নিজ বাসভবনে মৃত্যু হয় তার। তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। তার প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমেছে বাংলা চলচ্চিত্রের আকাশে। ওপার বাংলার বর্ষীয়ান নির্মাতা গৌতম ঘোষ, অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও শ্রীলেখা মিত্র তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন...

গৌতম ঘোষ

কিছু দিন ধরে খালি খারাপ খবর। প্রিয়জনদের চলে যাওয়ার খবর। আজকে বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। এটা আমার কাছে শকিং। ভারতীয়, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একজন চলচ্চিত্রকার চলে গেলেন। কবি ছিলেন, সাহিত্যিক ছিলেন। আর আমার ৫০ বছরের বন্ধু। ফলে কত যে স্মৃতি, ভাবতে পারছি না। আমি খুবই মর্মাহত। আমার বলার কোনো ভাষা নেই। আমি জানতাম, ওর শরীর ভালো নেই, ডায়ালাইসিস চলছে। তার মধ্যেও চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিল। ‘উড়োজাহাজ’ ওর শেষ সিনেমা। আমি মনে করি বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর নির্মিত চলচ্চিত্র সংরক্ষণ করা উচিত। দেশে-বিদেশে আমরা নানা জায়গায় একসঙ্গে ঘুরেছি। আমার মনে হয়, ও যে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছে, তা ভারতীয় সিনেমার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেগুলো যদি প্রিজার্ভড হয়, সব থেকে ভালো হবে। কারণ বহু সিনেমা তো নষ্ট হয়ে যায়।

শ্রীলেখা মিত্র

সাল ২০০২। ছবির দুনিয়ায় তখনো আমি নতুন। হঠাৎ বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের ফোন। নিজেই জানালেন, যৌন কর্মীদের নিয়ে একটি ছবি বানাব, ‘মন্দ মেয়ের উপাখ্যান’। তোমাকে একজন যৌন কর্মীর ভূমিকায় অভিনয় করতে হবে। তুমি করবে? জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালক নিজে যোগাযোগ করে অভিনয়ের জন্য ডাকছেন! সেই ডাক কী করে উপেক্ষা করি? খুশি মনেই রাজি হয়েছিলাম। সেই প্রথম ওর ছবিতে আমার কাজ। ভীষণ অল্প কথার মানুষ ছিলেন বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। একমাত্র কাজ নিয়ে কথা বলতেন। বাকি সময় নিজের মতো চুপচাপ থাকতেন। কাজের বিষয়েও ভীষণ খুঁতখুঁতে ছিলেন। যেটা স্বাভাবিক সেটাই ক্যামেরাবন্দি করতে ভালোবাসতেন। ভোরের প্রথম আলো ধরার জন্য রাত আড়াইটার সময় কল টাইম দিতেন।

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়

শুধু বাংলা সিনেমা বলব না, ভারতীয় ও ওয়ার্ল্ড সিনেমার অন্যতম এক পরিচালক চলে গেলেন। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল, তার সঙ্গে পর পর দুটো সিনেমায় কাজ করার।

এটা আমার কাছে আশীর্বাদের মতো। বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত বাঙালির গর্ব। বুদ্ধদা যে ধারার সিনেমা করতেন বা যে ধারার সিনেমায় বিশ্বাস করতেন তা একেবারেই আলাদা একটা ধারা। তার সঙ্গে টরন্টোসহ আরও কয়েকটি বড় বড় চলচ্চিত্র উৎসবে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। দেখেছিলাম ভদ্রলোকের নামে কীভাবে মানুষ রিঅ্যাক্ট করেন। তাকে দেখে নয়। সেই জায়গাটা তিনি তৈরি করেছিলেন। আমি গর্ববোধ করি, তিনি একজন বাঙালি এবং প্রচুর ভালো বাংলা সিনেমা আমাদের উপহার দিয়েছেন।

ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত

আমার আংকেল পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। ছোটবেলায় তার ছবি দেখে বড় হয়েছি। মনে আছে প্রথম ছবি, ‘গৃহযুদ্ধ’। মমতা শংকর, অঞ্জন দত্ত, গৌতম ঘোষ- অবাক হয়ে দেখেছিলাম। কী সব অভিনয়! অল্প বয়স তখন আমার, কিন্তু ওই ছবি দেখেই মনে হয়েছিল এ পরিচালক বাংলা ছবিতে কিছু বদল আনছেন। প্রায় ২০ বছর আগের কথা। জানিয়েছিলেন আমাকে একজন পরিণত যৌনকর্মীর অভিনয় করতে হবে, যার সন্তান আছে। উনি তখন ‘মন্দ মেয়ের উপাখ্যান’ তৈরি করছেন। খুব চ্যালেঞ্জিং চরিত্র ছিল আমার জন্য। কাজ করতে গিয়ে অনেক বকা খেয়েছিলাম।

advertisement